বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৫ পি.এম
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলর প্রার্থীসহ অন্তত ১৫ জনের ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে, যা স্বাক্ষর জাল করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ এই বিষয়ে ভূঞাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের অভিযোগ, ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভূঞাপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন, তার নিজের এবং নিকটাত্মীয়দের ভোটার ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে স্থানান্তর করে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে করা হয়েছে। ভোটার স্থানান্তরের আবেদন ফরমে থাকা স্বাক্ষর তার এবং তার আত্মীয়দের কারও নয়। অসৎ উদ্দেশ্যে একটি মহল জালিয়াতির মাধ্যমে এই কাজ করা হয়েছে।
একইভাবে ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের অন্তত ১৫ জন ভোটারকে তাদের অজান্তেই অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়েল মিঞা বলেন, এনআইডি কার্ডের নাম সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিসে গেলে তিনি জানতে পারেন, কুতুবপুরের পরিবর্তে তার ঠিকানা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুনা গ্রামে দেখানো হয়েছে। পরে বাবার এনআইডি নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করেও একই ঠিকানা দেখতে পান। তার বাবা ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী।
জুয়েল আরও বলেন, তাদের স্বাক্ষর জাল করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। তার চাচা সাবেক কাউন্সিলরসহ পরিবারের মোট ৯ জনের ঠিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে।
একই গ্রামের ভুক্তভোগী নূরুল আমীন বলেন, আমার নামে বিদ্যুতের মিটার না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া বিদ্যুৎ মিটারের কাগজ জমা দেওয়া হয়েছে। আমার সব ভুয়া কাগজপত্র অফিসে জমা দিয়ে এমন কাজ করা হয়েছে।
সাবেক কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, আমাকেসহ কয়েকজন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জাল করে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী মো. জয়েন বলেন, আমি ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। আমিসহ এই ওয়ার্ডের যারা কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন, সবাইকে ভিন্ন ভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার বলেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের অফিসে আসার আহ্বান জানিয়েছি। অতি শিগগিরই তাদের সমস্যা সমাধান করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সিউল জানিয়েছে, আলাস্কায় তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রকল্পের জন্য ৫৪ বিলিয়ন ডলারের পাইপলাইন নির্মাণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প ওভাল অফিস থেকে এই বিশাল বিনিয়োগের কথা জানান। খবরটি রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
গত বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়েছিল। সেই বৃহত্তর কৌশলগত বিনিয়োগ প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জাহাজ নির্মাণ খাতে ১৫০ বিলিয়ন এবং কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে ২০০ বিলিয়ন ডলার।
ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, “আমার প্রশাসন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যে চুক্তিগুলো করেছে, তার আওতায় তারা ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।”
তিনি জানান, এই বিনিয়োগের আওতায় আটটি বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, একটি প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন এবং টেক্সাসে ৬-গিগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ চুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ এটি। তিনি ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের মাঝে নিজের অর্থনৈতিক সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক ও আইনি শর্ত পূরণ হলেই কেবল পাইপলাইন প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হবে। সিউল ট্রাম্পের ঘোষণার অন্যান্য বিষয়গুলো নিশ্চিত করে জানায়, এআই ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য টেক্সাসের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২২.৩ বিলিয়ন ডলার এবং আটটি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণে ১২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।
ঝুলে থাকা প্রকল্প
দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলাস্কা এলএনজি প্রকল্পের বাণিজ্যিক কার্যকারিতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতি যাচাই করতে তারা পর্যালোচনা শুরু করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিনিয়োগ করা হবে কি না কিংবা বিনিয়োগের পরিমাণ কত হবে—এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এক্স বার্তায় লিখেছেন, এলএনজি প্রকল্প এবং পারমাণবিক চুল্লি—উভয় ক্ষেত্রেই কাজ শুরুর আগে সেগুলোর বাণিজ্যিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সিউলের বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যদি কোনো মতপার্থক্য দেখা দেয়, তাহলে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে।
আলাস্কা এলএনজি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, এর আওতায় একটি ৮০৭ মাইল দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। পাইপলাইনটি ‘নর্থ স্লোপ’ থেকে আলাস্কার দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত একটি তরলীকরণ কেন্দ্রে প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করবে। এতে এশিয়ার বাজারে এই জ্বালানি পাঠানো সম্ভব হবে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩৯০ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন এবং বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি টন এলএনজি উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ট্রাম্প বারবার এই প্রকল্পটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি উপায় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে ব্যয়, অর্থায়ন এবং বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের ২৩ নম্বর নারী আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, কারণ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-২ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফেরদৌসী আহমেদ ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পদত্যাগ করার ফলে সংসদের ৩২৩ (মহিলা আসন-২৩) আসনটি সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই তারিখে শূন্য হয়ে গেছে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আলোচনায় আসে।
এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। এর ফলস্বরূপ, সরকারপ্রধান এই সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসের কর মেয়াদের জন্য অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। এখন থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই কর মেয়াদের রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব হবে। এই সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনবিআরের মূসক মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয় শাখা থেকে বিষয়টি সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অনুযায়ী ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সংশোধিত বিধানে তিনটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্টের কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন ইভ্যাট (eVAT) ব্যবস্থায় জমা দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২-এর ৬৪ ধারার উপধারা (৩)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জুলাই ও আগস্টের কর মেয়াদের রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের কর মেয়াদের রিটার্ন ইভ্যাট ব্যবস্থায় অবশ্যই দাখিল করতে হবে। জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করতে এখন আগের তুলনায় ২০ গুণ বেশি ফি প্রদান করতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই ফি বৃদ্ধি করে ২ লাখ ইয়েন করা হয়েছে, যা প্রায় ১ হাজার ২৭০ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের আয়, পেনশন এবং জাপানি ভাষাজ্ঞান নিয়ে নতুন কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফি বাড়ানোর আগে আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা এই সপ্তাহের শুরুতে দেশটির বিভিন্ন অভিবাসন দপ্তরের সামনে দীর্ঘ লাইন তৈরি করেছিলেন। টোকিওর প্রধান অভিবাসন দপ্তরে অপেক্ষার সময় সাত ঘণ্টারও বেশি ছিল। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকারের অভিবাসন নীতিতে আনা পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো জাপানে বিদেশি জনসংখ্যা আরো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
এর আগে জুলাই মাসে জাপান সব ধরনের ভিসার আবেদন ফি পাঁচ গুণ বাড়িয়েছিল। প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটি ছিল দেশটির প্রথম ভিসা ফি বৃদ্ধি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে এই ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। জাপানে অভিবাসন ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কঠোর। তবে দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণে এবং শ্রমিকের ঘাটতি থাকায় বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
২০২৫ সালের শেষে জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক বছরে এই সংখ্যা ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা একটি রেকর্ড বৃদ্ধি। বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে জাপানে উদ্বেগও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
স্থায়ী বসবাসের ফি বাড়ানোর কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, দেশে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বাড়ায় কিছু মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বা বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তিনি জানান, বিষয়টি তার সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
তাকাইচি বলেন, এসব উদ্বেগ কমাতে বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সরকারের নীতিগুলো সুশৃঙ্খল রাখা হবে। একই সঙ্গে জাপানি নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দা, দুই পক্ষই যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফি বাড়ানোর আগে জাপানে অস্থায়ী বাসিন্দাদের রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস পরিবর্তন বা থাকার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রতিবার ৬ হাজার ইয়েন দিতে হতো।
১ অক্টোবর থেকে এই ফি থাকার মেয়াদ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। তিন মাস বা তার কম সময়ের জন্য ফি হবে ১০ হাজার ইয়েন। আর পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের জন্য ফি দিতে হবে ৭৫ হাজার ইয়েন। আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তি এবং শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃত আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ফি কমানোর সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া, স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনকারীদের এখন জাপানের গড় পরিবারের আয়ের সমান বা তার বেশি স্থিতিশীল আয় থাকতে হবে। ২০২৪ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাপানে গড় পারিবারিক আয় ছিল ৫ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ইয়েন। টোকিওতে ১০ বছর ধরে বসবাস ও কাজ করা মাইকায়া স্টিভেন্স ফি বাড়ানোর আগে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি।
৩৭ বছর বয়সী স্টিভেন্স এখনও স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন। তবে বিদেশি বাসিন্দাদের জন্য সরকারের নেওয়া নতুন পদক্ষেপগুলো নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
মাইকায়া স্টিভেন্স বলেন, বিদেশিদের জন্য নতুন নিয়মগুলো কিছুটা অন্যায্য। তিনি বিবিসিকে বলেন, জাপানে কাজ ও কর দেওয়ার জন্য বিদেশিদের গড় জাপানিদের চেয়ে বেশি আয় করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বেশি ফিও দিতে হবে। তিনি বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্যের কারণে অনেক বিদেশি জাপানে আসতে সমস্যায় পড়েন। নতুন নিয়মের কারণে দক্ষ ও প্রতিভাবান মানুষও জাপানে আসতে আগ্রহ হারাতে পারেন।
তার মতে, এসব নিয়ম দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে করা হয়নি। আগামী বছরের এপ্রিল থেকে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য আরো কঠোর নিয়ম চালু হবে। এর মধ্যে জাপানি ভাষায় প্রাথমিক জ্ঞান থাকা বাধ্যতামূলক হবে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নতুন নিয়মের কারণে জাপানি ভাষার স্কুলে ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে জাপানি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধনও বেড়েছে।
এ ছাড়া, আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ পেনশনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। তাদের সম্ভাব্য পেনশন এমন একজন ব্যক্তির পেনশনের সমান হতে হবে, যিনি ৩০ বছর ধরে কর্মচারী পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আছেন। তবে কারো সম্ভাব্য পেনশন কম হলে তার হাতে থাকা অর্থ-সম্পদের পরিমাণও বিবেচনা করা হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ