বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:২০ পি.এম
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট (জেডসি) বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে।
দলে রয়েছে বাঁ-হাতি পেসার নিউম্যান নিয়ামুরি ও টপ অর্ডার ব্যাটার মিল্টন শুম্বা।
নিয়ামুরি প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে তার টেস্ট ও ওয়ানডে অভিষেক ঘটে।
তিনি দেশের হয়ে ৫টি করে টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচে যথাক্রমে ১২টি ও ৫টি উইকেট শিকার করেছেন।
শুম্বা আড়াই বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটে দেশের হয়ে খেলেছেন তিনি।
সর্বশেষ তিনি ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টিতে অংশ নেন। ৩০ টি-টোয়েন্টিতে ১টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৩৮৫ রান সংগ্রহ করেছেন।
জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির সর্বশেষ আসরে তিনি ৮ ম্যাচে ২২৩ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।
ব্রেন্ডন টেইলরের ইনজুরির কারণে বেন কারানের জন্য বিশ্বকাপ দলে সুযোগ হয়েছিল। যদিও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাননি তিনি, তবে দলে তার স্থান অটুট রয়েছে।
এখনও দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ হয়নি কারানের, তবে তার ৯ টেস্ট ও ১০ ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে।
বাংলাদেশ সিরিজে নিয়ামুরির সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হতে পারে কারানেরও।
টেইলরের পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের সর্বশেষ বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েছেন গ্রায়েম ক্রেমার ও টনি মুনিয়োঙ্গা। ক্রেমার বাঁ-হাতে ইনজুরিতে আছেন।
বুলাওয়ায়োতে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলো, যা যথাক্রমে ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই।
জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি দলের সদস্যরা হলেন: সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, বেন কারান, ব্র্যাড ইভান্স, ক্লাইভ মাডান্ডে, টিনোটেন্ডা মাপোসা, টাডিওয়ানাশে মারুমানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, তাশিঙ্গা মুসেকিয়া, ব্লেসিং মুজারাবানি, ডিওন মেয়ার্স, রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিয়ামুরি, মিল্টন শুম্বা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী থাকলে আওয়ামী লীগের আর কোনো প্রয়োজন নেই, এ মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তার এই মতামত দিন দিন আরও স্পষ্ট হতে চলেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। আজ শুক্রবার তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দ্বারা অতীতে তার ওপর হামলার ছবিগুলো পোস্ট করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, 'নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ দ্বারা অতীতে আমার আক্রান্ত হওয়ার ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করছে জামায়াত-শিবিরের লোকজন। এরা কতবড় জঘন্য, নিজেরা সারাজীবন গুপ্ত থেকেছে আর আমরা রাস্তায় মাইর খেয়েছি সেটিকে এখন ওরা নেতিবাচকভাবে প্রচার করছে যে, আমি নাকি অপকর্ম করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছি!' রাশেদ খান জানিয়েছেন, এরকম মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে তিনি বিভিন্ন ফোনকল পাচ্ছেন। তিনি বলেন, 'ওদের (জামায়াত-শিবির) গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে অনেকে আমাকে কল ও মেসেজ করে খোঁজখবর নেওয়ার প্রেক্ষিতে ফেসবুকে এই বিষয়টি সম্পর্কে খোলাসা করলাম।' তিনি আরো বলেন, 'জামায়াত থাকতে যে আওয়ামী লীগের আর প্রয়োজন নেই, সেটির ডে বাই ডে আরো স্পষ্ট হচ্ছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সিকিউরিটीज অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, উৎপাদন বন্ধ ও দীর্ঘদিন অচল থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
আসন্ন পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিশ্বের কোথাও বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ, মার্জিন ঋণ নীতিমালায় পরিবর্তন, টি+১ সেটেলমেন্ট চালু, বন্ড বাজারকে মূল মার্কেটে আনা এবং ডেরিভেটিভস চালুর মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মাসুদ খান আরও জানান, পুঁজিবাজারের ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজার তদারকিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আগে কোনো শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বা লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে ডিএসইকে কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে ডিএসইকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষমতাও স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে শক্তিশালী করা জরুরি। অধিকাংশ খুচরা বিনিয়োগকারীর পক্ষে ভালো কোম্পানি বাছাই করা কঠিন হওয়ায় বিদেশের আদলে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার সনদ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড, মার্জিন ঋণ ও পাবলিক ইস্যু বিধিমালায় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে আইপিওতে আসতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং বিপুল কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকঋণকে সহজ বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়। এ কারণে আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বড় বেসরকারি কোম্পানিকেও ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দেওয়া হবে। বর্তমানে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে এ সুবিধা পায়। নতুন ব্যবস্থায় সব ধরনের কোম্পানি ১০ শতাংশ শেয়ার অফলোড করেই ডাইরেক্ট লিস্টিং করতে পারবে।
মার্জিন ঋণ নীতিমালা প্রসঙ্গে মাসুদ খান বলেন, বিদ্যমান নীতিমালায় এত বেশি শর্ত রয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঋণ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত নতুন বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর মার্জিন ঋণ পাওয়া আরও সহজ হবে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সমালোচনা সত্ত্বেও ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিপ্টস (জিডিআর) সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমানোর বিষয়েও উদ্যোগের কথা জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বর্তমানে শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তি দুই দিনে সম্পন্ন হয়। এটি কমিয়ে টি+১, অর্থাৎ একদিনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।
পুঁজিবাজারে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানান মাসুদ খান। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসইসি জরিমানা করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা আদালতে আটকে যায়। অতীতের একটি কমিশন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। এ পরিস্থিতি বদলাতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বন্ড বাজারকে সক্রিয় করতে বর্তমানে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে থাকা বন্ডগুলোকে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি ডেরিভেটিভস চালুর প্রস্তুতিও চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত নাগরিকদের তথ্য চুরির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নথি সংগ্রহ করার জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলসহ (বিসিসি) বিভিন্ন দফতরে চিঠি দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, অন্তত ১১ কোটি নাগরিকের তথ্য চুরি হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এই ঘটনার সাথে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুদকের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
২০২২ সালের অক্টোবরে নাগরিক তথ্য সুরক্ষায় নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের তথ্য অন্য কারো কাছে বিনিময় বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
দুদকে আসা অভিযোগে বলা হচ্ছে, ১১ কোটি নাগরিকের তথ্যের একটি মিরর কপি বিসিসিকে প্রদান করা হয়েছিল। তবে, সেই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিস লিমিটেড নাগরিকের ৪৬ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য দেশ-বিদেশের ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়।
এই অবৈধ তথ্য বিক্রির গোপন রহস্য উদঘাটনে নথিপত্র সংগ্রহের জন্য বিসিসি, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরে চিঠি দিয়েছে দুদক।
তথ্য চুরির এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুল্ক বহির্ভূত বাধা দূর করা, সংবেদনশীল পণ্যের তালিকা কমানো, শুল্ক হ্রাস এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কথা জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশন শুরু হয় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে।
মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা। তিনি বলেন, ‘সার্কভুক্ত দেশগুলোর বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক বহির্ভূত বাধা দূর করার সঙ্গে সঙ্গে সংবেদনশীল পণ্যের তালিকা কমানো এবং শুল্ক হ্রাসে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
মন্ত্রী জানান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায় এবং ওয়ার্কিং গ্রুপ পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে সার্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি বছরের ৯-১০ মার্চ ঢাকায় দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায় ভূমিকা রাখার জন্য ১০ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে আলোচনা হয় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিদ্যমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার নিয়ে।
তিনি জানান, ‘বাংলাদেশ-ভুটান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় গঠিত যৌথ বাণিজ্য কমিটির প্রথম বৈঠক শিগগিরই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, বাস্তবায়নজনিত জটিলতা দূর এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে।’
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সাফটা এবং এপিটিএ কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে ভারতের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ভোগ করে আসছে। তিনি জানান, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও ভারত পণ্য, সেবা এবং বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার বিষয়ে একমত হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত শীর্ষ বৈঠকে সিইপিএ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি উভয় দেশ আনুষ্ঠানিক আলোচনার সুবিধার্থে বাণিজ্য-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় করবে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যেই অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তিন দফা আলোচনা সম্পন্ন করেছে এবং উভয় দেশ অগ্রাধিকার তালিকা বিনিময় করেছে। বর্তমানে ট্রেড নেগোসিয়েটিং কমিটির চতুর্থ বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে মার্জিন অব প্রেফারেন্স এবং অফার তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও নেপালও পিটিএ নিয়ে তিন দফা আলোচনা সম্পন্ন করেছে এবং চতুর্থ দফা আলোচনা আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে।
এ পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মুক্তাদির বলেন, সাফটার প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে সার্কভুক্ত দেশগুলো ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরভাবে তাদের সংবেদনশীল পণ্যের তালিকা ২০ শতাংশ কমিয়েছে। বর্তমানে তৃতীয় ধাপে এ তালিকা আরও কমানোর কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সব পণ্যের জন্য তামাক ও মাদকজাত পণ্য ছাড়া শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিয়েছে। এর ফলে ভারতে এবং অন্যান্য সার্ক দেশের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ-ভুটান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বর্তমানে বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য ভুটানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। অন্যদিকে, ভুটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ