০৩:৪৪ পি.এম
বিমানবন্দর থানার মামলায় জামায়াত নেতা ও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে আদালতে তোলা হলে পুলিশ তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে শুনানির সময় নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ সোনার বাংলাদেশ ছিল, সবাই লুটেপুটে খাচ্ছে। প্রসিকিউশন প্রমাণ করুক, আমার অপরাধ প্রমাণ করুক, আমি ফাঁসিতে যাব।"
আরও পড়ুন: ‘রুমিন ফারহানারা মৌসুমি রাজনীতি করেন’ মন্তব্য রাশেদ খাঁনের
মামলাটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে তিনি আরও বলেন, "এটা ষড়যন্ত্র, মামলা থানায় রুজুর আগেই ডিবি পুলিশ আমার বাসায় হাজির।"
এর আগে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন আখতারুজ্জামান। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সোয়া ৭টার দিকে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, "ডিবি আখতারুজ্জামানকে থানায় দিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মামলার তদন্তসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম বিমানবন্দর থানা পুলিশ পরিচালনা করবে।
আরও পড়ুন: রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় পুলিশের অভিযানে ২৮ জন গ্রেফতার, আইনগত ব্যবস্থা চলমান
এর আগে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং মারধরের অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
একই দিন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাপক যাত্রীচাপের কারণে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট BG-338-এর লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। এতে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের হুমকি দেন। একই ঘটনায় তিনি বিমানমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নাসিমা আক্তার: আসামিরা আমার সামনেই বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়
এ ছাড়া আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আখতারুজ্জামান তাকে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা এবং বিমান বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন আখতারুজ্জামান।
এসব ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান এর আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তিনি একাধিকবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
আরও পড়ুন: শনিবার নতুন বাজার থেকে কুড়িল বিশ্বরোডে ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন