০৭:৫৩ পি.এম
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক কার্যক্রমের জোরদার এবং পেশাজীবী গাড়িচালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) খুলনা সার্কেলের উদ্যোগে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বিকেলে খানজাহান আলী থানাধীন বাদামতলা শিরোমণিস্থ বিআরটিএ খুলনা সার্কেল কার্যালয়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প (৩য় সংশোধিত) এর আওতায় এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ'র খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিঃ) প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ'র খুলনা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) এস এম মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রভাষক ডাঃ অনিন্দ্য কুমার সাহা।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেএমপি'র পুলিশ পরিদর্শক (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিক, সার্জেন্ট মোঃ তরিকুল ইসলাম, বিআরটিএ, খুলনা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোঃ সাইফুর রহমান ও মোঃ ফরহাদ হোসেন।
পেশাজীবী পরিবহন গাড়িচালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
কর্মশালায় বক্তারা উল্লেখ করেন, অনিয়ন্ত্রিত হর্ন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং যানবাহনের ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহার নগরজীবনে শব্দদূষণের প্রধান কারণ। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত হর্নের ব্যবহার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। শব্দদূষণ শুধুমাত্র বিরক্তির কারণ নয়; দীর্ঘমেয়াদে এটি শ্রবণশক্তি, ঘুম, মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
তারা আরও বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালক, পরিবহন শ্রমিক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ ও সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। একজন দক্ষ ও সচেতন চালক অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সড়কে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে যানবাহন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
বক্তারা সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, অতিরিক্ত ওভারটেকিং পরিহার এবং গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়মিত পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া হর্ন ব্যবহার না করার বিষয়ে চালকদের আরও সচেতন হতে হবে।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট আলোচনায় বলা হয়, অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শ্রবণশক্তির ক্ষতির পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে করণীয়, সড়ক পরিবহন আইন ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা, নিরাপদ গাড়ি চালনা এবং চালকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন