১১:২৬ এম
প্রমোদ পোদেল নেপালের ‘সোলে’ নামক একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। ১৮ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং সেখানকার নাগরিকত্ব অর্জন করেন।
বর্তমানে পূর্ব সাসেক্সের আকফিল্ড এলাকায় বসবাস করছেন তিনি এবং সেখানে নেপালী স্ট্রিট ফুড ও ফুড ট্রাকের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ৩৪ বছর বয়সী প্রমোদ পোদেল মাত্র দুই মাস আগে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর তার স্ত্রী সুমিত্রা সাপকোটা নেপালে প্রমোদের পরিবারের সঙ্গে ছিলেন এবং খুব শিগগিরই যুক্তরাজ্যে তার কাছে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল সব স্বপ্ন ও আশা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট
বিপর্যয়ের খবর পেয়ে প্রমোদ পাগলের মতো নেপালে ছুটে এসেছেন। মেট্রো ইউকে-র তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব সাসেক্সের বাসিন্দা প্রমোদ পোদেল জানান, গত বুধবার বিকেল সোয়া ৪টায় সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়েছিল। ফোনে স্ত্রীর বলা কথাগুলো ছিল, ‘তুমি কেমন আছো? আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ স্ত্রীর শেষ কথাগুলো এখন প্রমোদের মনে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
প্রমোদের জন্য একমাত্র স্বস্তির খবর হলো, তার বাবা পুরুসোত্তম পোদেল অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন এবং তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যদিও তার স্ত্রী সুমিত্রা (২৫), মা তুলসা (৫২), ভাই প্রদীপ (৩১) এবং চাচা মাধব প্রসাদ পোদেল (৬৪) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রমোদ নেপালে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ২০০ ট্রলি প্রদান
দ্য সান-কে প্রমোদ বলেন, ‘আমি তাদের খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী, তবে একই সঙ্গে আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাও করছি।’
এর আগে বিবিসি রেডিও সাসেক্সের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছিলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার পরিবার এবং আমার দেশের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন একটি সময়, তবে সেখানে আসলে কী ঘটছে তা দেখার জন্য অবশ্যই আমাকে যেতে হবে।
তিনি বিবিসি-কে আরো বলেন, ‘সেখানে আসলে কী ঘটেছে তা কেউ জানে না। স্পষ্টতই বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং কারা নিখোঁজ হয়েছেন বা কোথায় আছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। কেউ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না এবং সব সেতু ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াত করারও কোনো উপায় নেই।’
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সৈয়দপুরে ময়লার স্তূপ বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে
প্রমোদ আরো যোগ করেন, ‘সেখানে কোনো বিদ্যুৎ নেই, তাই আমি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। আসলে কী ঘটছে তা না জানতে পারাটা খুবই কষ্টের একটি সময়।’
নেপালে পৌঁছে প্রমোদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বন্যা ও কাদাঝড় এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তার পরিবারের ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, এমনকি যে স্থানে তাদের বাড়িটি ছিল, সেখানে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। পুরো সোলে গ্রামটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন