বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫১ পি.এম
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গণসংযোগ কর্মসূচিতে হামলা ও বাধার অভিযোগে প্রতিবাদ সভা এবং বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের লাঙ্গলবাঁধ বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে জামায়াত। তারা জানায়, ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা হামলা চালায়, যার ফলে জামায়াতের আটজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে এবং চার-পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে (আজ) বৃহস্পতিবার দুপুরে শৈলকুপা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীরা। মিছিল শেষে শহরের চৌরাস্তা মোড়ে শৈলকূপা উপজেলা জামাতের আমির অধ্যাপক এ এস এম মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা সুরাহ কর্ম পরিষদের সদস্য মাওলানা রবিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা জামাতের সেক্রেটারি মোয়াজ্জেম হোসেন এবং উপজেলা জামাতের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলকারনাইনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বুধবারের হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, গণসংযোগ কর্মসূচিতে হামলা চালানো ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা ও হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলামকে মহেশপুর থানার পুলিশ আটক করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মহেশপুর শহরের একটি সেলুনের দোকান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজাদ রহমান জানিয়েছেন, বিএনপির হুদা শ্রীপুর কার্যালয় ভাংচুরের অভিযোগে সিরাজুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে নিখোঁজ থাকার দীর্ঘ সময় পর কিশোরী নিঝুম খাতুনের অপহরণ ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের মা তাসলিমা খাতুন।
বৃহস্পতিবার সকালে মহেশপুর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাসলিমা খাতুন বলেন, "তার মেয়েকে যারা পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি নিঝুমের হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন। নিহত নিঝুম খাতুন (১৭) মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর কানাইডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে নিঝুম নিখোঁজ হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধান করতে থাকেন। পরে তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ নিঝুমের অপহরণ ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে বলে জানা গেছে। সংবাদ সম্মেলনে নিঝুমের মা জানান, মেয়ের সন্ধান না পেয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। মেয়েকে হারানোর শোক এখনো কাটেনি। তিনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, যেন দ্রুত মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম শেষ করে হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, "কোনো মা-বাবার সন্তান যেন এমন নির্মমতার শিকার না হয়।" নিঝুম হত্যার সুষ্ঠু বিচার হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমবে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায় বিচারের প্রতি আস্থা ফিরে পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিকদের পাশাপাশি নিহত নিঝুমের পরিবারের সদস্য সাবিরা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কয়রা সদর ইউনিয়ন সুশীল সমাজ সংগঠন (সিএসও) এর ত্রৈ- মাসিক সভা ২৪ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪ টায় প্রগতি শিশু শিক্ষা নিকেতনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় কয়রা সদর ইউনিয়ন সিএসও কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যে বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক এনগেজ প্রকল্প এই সভার আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কয়রা ইউনিয়ন সিএসও কমিটির সিনিয়র সদস্য অধ্যাপক আবম আব্দুল মালেক। সভাটি পরিচালনা করেন বারসিক এনগেজ প্রকল্পের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মধুময় সরদার। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কয়রা উপজেলা সুশীল সমাজ সংগঠন (সিএসও) কমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান মনু, উপজেলা কমিটির সদস্য সাংবাদিক মোঃ রিয়াছাদ আলী, ইউনিয়ন কমিটির সদস্য মাওলানা নুরুল ইসলাম সানা, হাফেজ জাহিদুল ইসলাম, প্রভাষক সুব্রত সরকার, আনারুল ইসলাম ডাবলু প্রমুখ।
সভা শেষে সকলের মতামতের ভিত্তিতে সায়ন্তী মুন্ডাকে সভা প্রধান এবং আনারুল ইসলাম ডাবলুকে সদস্য সচিব করে কয়রা ইউনিয়ন সিএসও কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে পিবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক গৃহবধূর ওপর নির্যাতন, ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর এবং নগদ টাকাসহ মালামাল লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় ইউনিয়নের দিঘলারআইট গ্রামে সড়কের উপর এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনটি গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগি গৃহবধূ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং প্রতিবাদী গ্রামবাসীরা।
ভুক্তভোগি তাছলিমা খাতুন তার বক্তব্যে জানান, "আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে ত্রাণের মালামাল আনতে যাচ্ছিলাম। এসময় রাস্তার উপরে পথ আটকে পিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে আমার হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে টেনে হ্যাচড়ে বাড়িতে আনা হয়।" তিনি আরও বলেন, "অস্ত্র দেখিয়ে লাথি মেরে নানা ভাবে নির্যাতন করে ঘরের মধ্যে নিয়ে হাতুড়ির আঘাতে ট্যাংক ভেঙ্গে সমিতি থেকে উঠানো প্রায় ৫০ হাজার টাকা, ২২,০০০ টাকা দামের মোবাইল, অলঙ্কার লুটপাট করে। আমি টাকাটা না নিতে পারে সেজন্য প্রতিবেশী বিএনপি নেতা ফয়সালের কাছে দেই, ফয়সাল টাকা গুণে তাদেরকে দিয়ে দেয়। এসময় তাদের সাথে আবুল হোসেনসহ আরও দু'জন ছিল।"
ভুক্তভোগির স্বামী মুছা গাজী বলেন, "আমার স্ত্রীর ওপর পুলিশ পরিচয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। সত্যিকারের পুলিশ হলেও তাদের সাথে মহিলা পুলিশ ছিলনা। কিভাবে তারা মহিলাকে আটকের নামে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে নির্যাতন চালাল?" তিনি অভিযোগ করেন, সোর্স আবুল হোসেন ও রবিউলের মাধ্যমে বাড়িতে ঢুকে অস্ত্র দেখিয়ে ভাংচুর, টাকা, অলঙ্কার, মোবাইল লুটপাট করা হয়েছে। তিনি বলেন, "বিএনপি নেতা ফয়সালের হাত থেকে টাকা নিয়েছে। স্ত্রীকে মারধর করেছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক এর সঠিক বিচার চাই।"
প্রত্যক্ষদর্শী ময়না খাতুন জানান, "শ্বাশুড়ি তাছলিমার সাথে আমি ত্রাণ আনতে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে পিবিআই পুলিশ পরিচয়ে শ্বাশুড়িকে ধরে বেঁধে টেনে হেঁচড়ে, ঘাড় ধরে ধাক্কা দিয়ে বাড়িতে নেয়।" তিনি বলেন, "আমরা একে একে মহিলারা সেখানে গেলেও ঘরে ঢুকতে দেয়নি। একা মহিলাকে ঘরের মধ্যে নিয়ে হেনস্থা করে লুটপাট করা হয়। আমরা এর বিচার চাই।" আমিনুল ইসলাম বলেন, "আমরা ত্রাণ বিতরণস্থলে ছিলাম। মোবাইলে জানলাম পুলিশ এসে মুছার স্ত্রীকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ঘরে ভাংচুর, বাক্স ভেঙ্গে টাকা, অলঙ্কার নিয়েছে। সেখানে ইব্রাহিম সানার ছেলে আবুল হোসেন ও রফিকুল সানার ছেলে রবিউল আছে। পরে ফয়সাল গিয়ে জানতে চায় কি হয়েছে। তখন তাছলিমা ফয়সালকে টাকা দিলে টাকা গুনে ৪৩ হাজার ২৫০ টাকা পুলিশকে দিয়ে দেয়।" আকবর বলেন, "আমরা ত্রাণ নিচ্ছিলাম। মুছার স্ত্রীকে হাত বেঁধে হেনস্থা ও টাকা-জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়েছে পুলিশ। আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই।"
বিএনপি নেতা ফয়সালকে পাওয়া না গেলেও পরবর্তীতে মোবাইলে কথা বললে তিনি জানান, "তারা নিজেদেরকে পিবিআই থেকে এসেছে বলে জানান। তাদের কাছে পিস্তল ও হ্যান্ডকাপ ছিল। আমি নিজে গুনে ৪৩ হাজার ২৫০ টাকা দিয়েছি।" ফয়সালের কাছ থেকে পাওয়া পিবিআই পরিচয়দানকারী কর্মকর্তার মোবাইল নং ০১৯৬০৩৯৯০২৬ -এ বারবার রিং করা হলেও বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ