প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে পিবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক গৃহবধূর ওপর নির্যাতন, ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর এবং নগদ টাকাসহ মালামাল লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় ইউনিয়নের দিঘলারআইট গ্রামে সড়কের উপর এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনটি গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগি গৃহবধূ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং প্রতিবাদী গ্রামবাসীরা।
ভুক্তভোগি তাছলিমা খাতুন তার বক্তব্যে জানান, "আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে ত্রাণের মালামাল আনতে যাচ্ছিলাম। এসময় রাস্তার উপরে পথ আটকে পিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে আমার হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে টেনে হ্যাচড়ে বাড়িতে আনা হয়।" তিনি আরও বলেন, "অস্ত্র দেখিয়ে লাথি মেরে নানা ভাবে নির্যাতন করে ঘরের মধ্যে নিয়ে হাতুড়ির আঘাতে ট্যাংক ভেঙ্গে সমিতি থেকে উঠানো প্রায় ৫০ হাজার টাকা, ২২,০০০ টাকা দামের মোবাইল, অলঙ্কার লুটপাট করে। আমি টাকাটা না নিতে পারে সেজন্য প্রতিবেশী বিএনপি নেতা ফয়সালের কাছে দেই, ফয়সাল টাকা গুণে তাদেরকে দিয়ে দেয়। এসময় তাদের সাথে আবুল হোসেনসহ আরও দু'জন ছিল।"
ভুক্তভোগির স্বামী মুছা গাজী বলেন, "আমার স্ত্রীর ওপর পুলিশ পরিচয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। সত্যিকারের পুলিশ হলেও তাদের সাথে মহিলা পুলিশ ছিলনা। কিভাবে তারা মহিলাকে আটকের নামে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে নির্যাতন চালাল?" তিনি অভিযোগ করেন, সোর্স আবুল হোসেন ও রবিউলের মাধ্যমে বাড়িতে ঢুকে অস্ত্র দেখিয়ে ভাংচুর, টাকা, অলঙ্কার, মোবাইল লুটপাট করা হয়েছে। তিনি বলেন, "বিএনপি নেতা ফয়সালের হাত থেকে টাকা নিয়েছে। স্ত্রীকে মারধর করেছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক এর সঠিক বিচার চাই।"
প্রত্যক্ষদর্শী ময়না খাতুন জানান, "শ্বাশুড়ি তাছলিমার সাথে আমি ত্রাণ আনতে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে পিবিআই পুলিশ পরিচয়ে শ্বাশুড়িকে ধরে বেঁধে টেনে হেঁচড়ে, ঘাড় ধরে ধাক্কা দিয়ে বাড়িতে নেয়।" তিনি বলেন, "আমরা একে একে মহিলারা সেখানে গেলেও ঘরে ঢুকতে দেয়নি। একা মহিলাকে ঘরের মধ্যে নিয়ে হেনস্থা করে লুটপাট করা হয়। আমরা এর বিচার চাই।" আমিনুল ইসলাম বলেন, "আমরা ত্রাণ বিতরণস্থলে ছিলাম। মোবাইলে জানলাম পুলিশ এসে মুছার স্ত্রীকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ঘরে ভাংচুর, বাক্স ভেঙ্গে টাকা, অলঙ্কার নিয়েছে। সেখানে ইব্রাহিম সানার ছেলে আবুল হোসেন ও রফিকুল সানার ছেলে রবিউল আছে। পরে ফয়সাল গিয়ে জানতে চায় কি হয়েছে। তখন তাছলিমা ফয়সালকে টাকা দিলে টাকা গুনে ৪৩ হাজার ২৫০ টাকা পুলিশকে দিয়ে দেয়।" আকবর বলেন, "আমরা ত্রাণ নিচ্ছিলাম। মুছার স্ত্রীকে হাত বেঁধে হেনস্থা ও টাকা-জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়েছে পুলিশ। আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই।"
বিএনপি নেতা ফয়সালকে পাওয়া না গেলেও পরবর্তীতে মোবাইলে কথা বললে তিনি জানান, "তারা নিজেদেরকে পিবিআই থেকে এসেছে বলে জানান। তাদের কাছে পিস্তল ও হ্যান্ডকাপ ছিল। আমি নিজে গুনে ৪৩ হাজার ২৫০ টাকা দিয়েছি।" ফয়সালের কাছ থেকে পাওয়া পিবিআই পরিচয়দানকারী কর্মকর্তার মোবাইল নং ০১৯৬০৩৯৯০২৬ -এ বারবার রিং করা হলেও বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন