ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লেবাননের ‘মডেল টাউন’ ঘিরে ই-স-রা-য়ে-লি সেনা, চলছে ড্রোন-বিস্ফোরণ


লেবাননের ‘মডেল টাউন’ ঘিরে ই-স-রা-য়ে-লি সেনা, চলছে ড্রোন-বিস্ফোরণ

দক্ষিণ লেবাননে মারিয়াম আল-ইয়াগি নিজের বাড়ির মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা ভাঙা কাচ এড়িয়ে বারান্দায় বের হলেন। তিনি দূরে আঙুল তুলে দেখালেন। কয়েক শ মিটার দূরে এমন একটি দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল, যা ৬৭ বছর বয়সী এই নারীর জন্য পরিচিত হয়ে গেছে। পাশের লেবানিজ গ্রামে সামরিক যান চলাচল করছে। গ্রামটি এখনো ইসরায়েলি সেনাদের দখলে রয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, রাতে ইসরায়েলি সেনারা ইয়াগির পশ্চিম জাওতার এলাকার বাড়ির এত কাছ দিয়ে টহল দেয় যে তিনি তাদের কথা শুনতে পান। দিনের বেলায় বাগানে কাজ করার সময়ও প্রায়ই একটি ছোট ইসরায়েলি নজরদারি ড্রোন তাকে অনুসরণ করে।

সকালজুড়ে আশপাশের দখল করা শহরগুলোতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরায়েলি সেনারা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ও বুলডোজার ব্যবহার করে সেখানকার বাড়িঘর ধ্বংস করছে।

আরও পড়ুন: টাইফুন চাম্পির প্রভাবে তাইওয়ানে শত শত ফ্লাইট বাতিল

ইয়াগি রয়টার্সকে বলেন, “ওই টালির ছাদওয়ালা বাড়িটা থেকে আমরা সব সময় তাদের শব্দ শুনতে পাই। তারা চিৎকার করে কথা বলে, ট্যাংক এদিক-ওদিক চলাচল করে। আমরা সবই শুনতে পাই। তারা আমাদের খুব কাছেই আছে। কিন্তু আমরা এখানে বসে আছি, আমরা ভয় পাই না। কখনোই না।”

জুলাইয়ে ইসরায়েলি সেনারা পশ্চিম জাওতার থেকে সরে যায়। দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েল ধাপে ধাপে সেনা সরিয়ে নেবে—যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে নেওয়া এমন একটি পরিকল্পনার প্রথম পরীক্ষা ছিল এটি। এর বিনিময়ে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার কথা রয়েছে।

তবে এর দুই মাস পরেও আর কোনো ‘পরীক্ষামূলক অঞ্চল’ নিয়ে চুক্তি হয়নি। পশ্চিম জাওতারের বাসিন্দারাও বলছেন, তাদের গ্রামকে কোনো আদর্শ উদাহরণ হিসেবে দেখা যায় না। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, হিজবুল্লাহর অস্ত্রের হুমকি পুরোপুরি দূর করার কাজ এখনো শেষ হয়নি। হুমকি শনাক্ত করতে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে বিধিনিষেধও সেনাদের নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, লেবানন ও ইসরায়েল—দুই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরীক্ষামূলক অঞ্চল তৈরির প্রক্রিয়াই ‘একমাত্র কার্যকর পথ’।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুমকির মধ্যে ইউরোপের সাখারভ পুরস্কার পেল আইসিসি

লেবাননের সেনাবাহিনী প্রাথমিক ওই অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে হুমকি দূর করার পর অঞ্চলটি আরো বড় করা হবে। আর হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা ‘এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ’।

সাত মাস আগে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পাশাপাশি লেবাননে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। এর পর হিজবুল্লাহ তেহরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালায়। সেই সময় ১০ লাখের বেশি লেবানিজ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান।

লেবানন যুদ্ধের অবসান ঘটানো ছিল যেকোনো শান্তিচুক্তির জন্য ইরানের অন্যতম শর্ত। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রও একটি চুক্তির জন্য চাপ দিতে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কয়েক মাস ধরে আলোচনা এবং জুনে যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসরায়েলি সেনারা এখনো নিজেদের ঘোষিত একটি নিরাপত্তা অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই অঞ্চলের মধ্যে লেবাননের কয়েক ডজন গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামের অনেকগুলোই ইসরায়েলি সেনারা ধ্বংস করে দিয়েছে। পশ্চিম জাওতারের বাসিন্দারা বলেন, জুলাইয়ে বাড়িতে ফিরে আসার অনুভূতি ছিল মিশ্র। বাড়িতে ফিরতে পেরে তারা খুশি ছিলেন। কিন্তু ফিরে এসে দেখেন, অনেক বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আর ইসরায়েলি সেনারাও খুব কাছেই অবস্থান করছে।

আরও পড়ুন: ইতালি নাগরিকদের সৌদি আরব ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে

ইয়াগির বাড়ির ওপরের তলায় একটি ট্যাংকের গোলা আঘাত করেছিল। এতে বাড়ির সব জানালা ভেঙে যায়। আরেকটি গোলা তার পানির ট্যাংকের ছাদ ভেদ করে। এতে ট্যাংকের পানি রক্তের মতো লাল হয়ে যায়। বাড়ি মেরামতে অনেক টাকা লাগবে। তাই আপাতত মেরামতের কাজ পিছিয়ে দিয়েছেন ইয়াগি।

তিনি বলেন, “কাচ নেই বলে আমরা কার্ডবোর্ড আর এ ধরনের জিনিস দিয়ে জানালা ঢেকেছি। আমার আরেক ছেলের বাড়িরও সব কাচসহ সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা এখানেই আছি। যত দিন না তারা এখান থেকে পুরোপুরি চলে যায়।” এ সময় পাশের গ্রামে থাকা ইসরায়েলি সেনাদের দিকে ইঙ্গিত করেন তিনি।

ইয়াগির প্রতিবেশীদের খুব কমসংখ্যকই এখন পর্যন্ত বাড়িতে ফিরেছেন। কারণ তাদের বাড়িঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ইয়াগির বাগানের ভেতর দিয়ে ট্যাংকের চাকার দাগ দেখা যাচ্ছিল। কয়েক দশক ধরে যত্ন করে বড় করা জলপাই গাছগুলো উপড়ে পড়ে আছে। এখন জলপাই সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়েছে। বাগানে যা কিছু বাকি আছে, সেগুলো সংগ্রহ করতে পেরে ইয়াগি উচ্ছ্বসিত।

ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থানের কাছে যেসব জলপাই বাগান রয়েছে, সেসব বাগানের মালিকেরা বলেছেন, গাছের কাছে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এ জন্য লেবানন ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে থাকা সমন্বয় ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। কেউ কেউ জলপাই সংগ্রহ করতে ওয়াশিংটনের কাছে অনুমতি চাইতে হওয়াকে হাস্যকর বলে ঠাট্টা করেছেন। আবার কেউ আশঙ্কা করছেন, অনুমতি আসতে আসতে জলপাই সংগ্রহের সময় শেষ হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৮, আহত ৩২

পশ্চিম জাওতার থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে এর পাশের গ্রাম পূর্ব জাওতার। গ্রামটি এখনো ইসরায়েলি সেনাদের দখলে। তারা সেখানে নিয়মিতভাবে বাড়িঘর ধ্বংস করছে। পূর্ব জাওতার থেকে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা পশ্চিম জাওতারে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। গ্রামের প্রধান চত্বরে সাদা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে তারা নিজেদের বাড়িঘরের দিকে তাকিয়ে থাকেন। মাঝখানে রয়েছে জলপাই বাগান ও কৃষিজমি দিয়ে ঘেরা একটি ছোট উপত্যকা। সেখান থেকে নিজেদের গ্রামের ধ্বংসযজ্ঞ তারা খুব কাছ থেকে দেখতে পাচ্ছেন।

এক ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে তিনি নিজের বাড়িতে আলো জ্বলতে দেখেছেন। তার ধারণা, ইসরায়েলি সেনারা বাড়িটি ধ্বংস করার জন্য সেখানে বিস্ফোরক বসাচ্ছে।

পশ্চিম জাওতারের মেয়র আবেদ এজেদ্দিন রয়টার্সকে বলেন, “পরীক্ষামূলক অঞ্চল” কর্মসূচি সফল হয়নি। এর প্রধান কারণ হলো বিদ্যুৎ ও পানির মতো প্রয়োজনীয় সরকারি সেবাগুলো এখনো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চালু হয়নি। এজেদ্দিন বলেন, “নীতিগতভাবে আমি বলতে পারি, না, এটি সফল হয়নি। আমাদের যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা হলো পশ্চিম জাওতার একটি পরীক্ষামূলক অঞ্চল হিসেবে আদর্শ গ্রাম হবে।”

প্রায় ৭০টি পরিবার পশ্চিম জাওতারে ফিরে এসেছে। তাদের বেশির ভাগই বাড়ির যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, সেখানেই বসবাস করছে। অনেকের কাছে অন্য জায়গায় ভাড়া দিয়ে থাকা বা বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার চেয়ে এটিই ভালো বিকল্প। লেবানন সরকারের দক্ষিণাঞ্চল বিষয়ক পরিষদ এমন ১৬টি তৈরি করা ঘর দিয়েছে, যেসব পরিবারের বাড়িতে বসবাস করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: মানবদেহে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হলো শামোন্ডা ভাইরাস

তবে এসব তৈরি করা ঘরের বেশির ভাগই এখনো খালি পড়ে আছে। কারণ সেখানে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা নেই। সরকারি কর্মীরা বিদ্যুতের লাইন বাড়ানোর কাজ শুরু করেছেন। তবে তাদের নতুন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত লাইন নিতে হচ্ছে। কারণ গ্রামের পুরোনো বিদ্যুৎ সংযোগটি পূর্ব জাওতারের ভেতর দিয়ে গেছে।

এজেদ্দিন বলেন, “কিছুক্ষণের মধ্যেই ড্রোনটি হয়তো গ্রামের প্রধান চত্বরে থাকা মানুষের ওপর দিয়ে উড়বে। এটি কাউকেই একা থাকতে দিচ্ছে না।” কথা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই একটি ছোট নজরদারি ড্রোন এজেদ্দিন ও রয়টার্সের সাংবাদিক দলের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। ধীরে ধীরে নিচে নেমে সেটি মাটি থেকে মাত্র কয়েক মিটার ওপরে চলে আসে। কয়েক মিনিট সেটি সেখানে ভেসে থাকে। এরপর পাশের দখল করা গ্রামের দিকে উড়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার নির্মাণের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০১ পি.এম


জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার নির্মাণের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সারদার মতো একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রামুর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রোহিঙ্গা সমস্যা এবং চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে একটি পুলিশ একাডেমি এবং পাশাপাশি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ করা হবে। সলিমপুরের সন্ত্রাসীদের হটিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে মাদক কারবারি এবং মানবপাচারের ঘটনা রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই কারণে রঙ্গিখালী এবং নোয়াখালী পাড়ায় দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব। জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিধবার টিপসই নেন জামায়াত নেতা, পরে জানলেন বিয়ে হয়ে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


বিধবার টিপসই নেন জামায়াত নেতা, পরে জানলেন বিয়ে হয়ে গেছে

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড তৈরি করার কথা বলে এক বিধবার (৪৩) কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও একটি কাগজে টিপসই নেওয়া হয়েছে। এরপর গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ওই নারীর বিয়ে হয়ে গেছে। তাকে একটি কাবিননামাও দেখানো হয়। তবে তিনি দাবি করেন যে, তিনি কোনো বিয়েতে সম্মতি দেননি।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় জামায়াত নেতা আবদুস ছাত্তার কৌশলে তার কাছ থেকে টিপসই নেন। সেই টিপসই ব্যবহার করে জালিয়াতি করে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে।

কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম উল্লেখ রয়েছে। কুদ্দুস পূর্বে বিভিন্ন সময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু তিনি কখনো প্রস্তাবে রাজি হননি। কুদ্দুসের সংসারে স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, ছেলেমেয়েসহ নাতি-নাতনি রয়েছে।

স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, বিয়ের বিষয়ে তার স্বামী তাকে আগে কখনো কিছু জানাননি। ঘটনার প্রকাশ্যে আসার পর কুদ্দুস দাবি করেন যে, তিনি ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন; কিন্তু তিনি কারো কথায় কান দেননি।

অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তার একটি কসমেটিকসের দোকান রয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওই নারীর কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি কোনো টিপসই নেননি। তিনি দাবি করেন, এলাকার জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়েছি। তিনি (ছাত্তার) জামায়াতের পদধারী কোনো নেতা নন; বিগত নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন। আগে তিনি বিএনপি করতেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হোক।’

কাবিননামায় দেখা যায়, কাজি গোলাম মোস্তফা বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। এতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের উল্লেখ রয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম রয়েছে। সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি কোনো বিয়ের সাক্ষী হননি।

কাজি গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি এই বিয়ের কিছু সম্পন্ন করেননি। তার দাবি, যে কাগজ ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ জাল। এর আগে ২০২০ সালে এমন একটি জাল কাগজ তৈরি হওয়ায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এবার কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

গত সোম ও বুধবার গ্রামে দুই দফা সালিস অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সালিসে অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন না। আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। এরপরও আবদুস ছাত্তার যদি অবস্থান স্পষ্ট না করেন, তবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সালিসের নেতৃত্বে থাকা মোহাম্মদ রুস্তম আলী। তিনি বলেন, ‘কিভাবে কী হলো, আমরা যাচাই করছি। সালিসের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।’

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি তাঁরা বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছেন। তবে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


চট্টগ্রামের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সই

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার জন্য সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সই করেছে। এই চুক্তির স্বাক্ষর আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে সম্পন্ন হয়।

প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের আওতায় অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইসা কাজিম উপস্থিত ছিলেন।

এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড।

এদিকে, চুক্তির বিরুদ্ধে আজ দুপুরে ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটরিয়ামের সামনে বেশ কয়েকটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল ও সংগঠন অবস্থান নেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক আসরে পুলিশের কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনসহ চারজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


মাদক আসরে পুলিশের কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনসহ চারজন আটক

বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে মাদক কারবারি মিরাজুল ইসলামের বাসায় একটি মাদকের আসর চলছিল। ওই আসরে উপস্থিত ছিলেন এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন, মাদক কারবারি নাহিদ হাসান (২৬) এবং ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০)।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ওই বাসভবনটি ঘেরাও করেন। আত্মসমর্পণের জন্য তাদের আহ্বান জানানো হলেও, পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা কাদার মধ্যে পড়ে যান। পরে তাকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ডিএনসির পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম বৃহস্পতিবার ভোরে পাচগাঁও গ্রামে মিরাজের বাসা ঘিরে রাখে এবং ভেতরে থাকা সবাইকে আত্মসমর্পণের জন্য আহ্বান করে। কিন্তু তারা পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বাসার টিন ভেঙে লাফিয়ে কাদা মাটিতে পড়ে যান। তখন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীরা তাকে ধরতে গেলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি ঘটে। এক পর্যায়ে তাকেসহ চারজনকে আটক করা হয়।

আটক চারজনের মধ্যে এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম জানান, বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি এসেছিলেন এবং আটক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে তার জিম্মায় নিয়ে গেছেন। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এয়ারপোর্ট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%