মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১১ পি.এম
জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি মন্তব্য করেছেন যে, "কোনো অপরাধী গোষ্ঠীর চেয়ে সরকারের হাত অনেক শক্তিশালী।" খুলনার বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধের ধরন ভিন্ন হওয়ায় গতানুগতিক অভিযানে সন্ত্রাস দমন সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনার আড়ংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, কেডস ও পাটের ব্যাগ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রকিবুল ইসলাম বকুল জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট সমস্যা ও অপরাধীদের আগে চিহ্নিত করতে হবে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশনে যেতে হবে।
তিনি বলেন, "সাধারণ মানুষের ঘুম হারাম করে, জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে কিংবা চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না।" তিনি আরও বলেন, কেউ যদি নিজেকে সরকারের চেয়ে ক্ষমতাবান মনে করে, তা হবে মারাত্মক ভুল।
তবে যারা অপরাধ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, সরকার তাদের পুনর্বাসন ও আইনগত সহযোগিতা দেবে বলে জানান হুইপ। তিনি জানান, বেকারত্ব দূর করতে বন্ধ মিল-কারখানা চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে যুবসমাজকে অপরাধমুক্ত রাখার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের লংমার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এটি পুরোপুরি একটি রাজনৈতিক কৌশল।" জাতীয় সংসদে বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। অনেক জাতীয় সংকট সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হয়।
তিনি বলেন, "মাঠের কর্মসূচির বাস্তবতাও বুঝতে হবে। লংমার্চ করলেই যদি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হয়ে যেত, তাহলে আমরাও লংমার্চ করতাম।"
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও তাদের বিদ্যালয়মুখী করতে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে ৪৬৫ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন স্কুল ড্রেস, জুতা ও পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়।
দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাস গুপ্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। এ ছাড়া বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু মন্তব্য করেছেন যে, দুর্নীতি সব সময় বিদ্যমান থাকবে, তা কম বা বেশি হতে পারে। তবে, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হলরুমে আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশমন্ত্রী আরো বলেন, "আমাদের রাজনীতিবিদদের কাজ হলো বক্তৃতা দেওয়া। সরকারি চাকরিজীবীদের কাজ হলো কিছু চুরি করা, কিছু কাজ করা।" তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সমাজ পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা উচিত যেখানে আমাদের ছেলেমেয়েরা ভবিষ্যতে অর্থবহ জীবন কাটাতে পারবে।
দুর্নীতি দমনে সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, "আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সমাজ ও দেশের উন্নয়নের জন্য, এরমধ্যে আর্থসামাজিক উন্নয়নও রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, দুর্নীতি দমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তিনি বলেন, "দুর্নীতি কে করে আমি জানি না। তবে দুর্নীতি আমাদের সমাজে ঘটে।"
জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে, স্কুলে ভর্তি হওয়ার মাত্র দুই দিন পরেই প্রিন্স হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান মার্কেল তাদের সন্তানদের স্কুল পরিবর্তন করেছেন। তবে, নতুন এবং পুরানো স্কুলের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
রাজ পরিবার থেকে বের হওয়ার ছয় বছর পর, গত আগস্টে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন রাজা চার্লসের ছোট ছেলে হ্যারি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই দম্পতির ৭ বছর বয়সী ছেলে প্রিন্স আর্চি এবং ৫ বছর বয়সী প্রিন্সেস লিলিবেট চলতি মাসে স্কুলে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। তাদের নতুন বাড়ির ঠিকানা এবং সন্তানদের স্কুলের তথ্যও গোপন রাখা হয়েছিল। তবে, হঠাৎ করেই সন্তানদের স্কুল পরিবর্তনের বিষয়টি জানান হ্যারি-মেগানের একজন মুখপাত্র।
রাজকীয় বাসভবনে না থাকার এবং রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন না করার শর্তে তারা যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেন।
এই দম্পতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছে যে, পূর্বের স্কুলে যাতায়াতের পথে দীর্ঘ দূরত্ব এবং অতিরিক্ত যানজটের কারণে শিশুদের নিরাপদে আনা-নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল। শিশুদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত একটি গাড়ি নিয়ে বহরে চলাচল করতে হতো, যা ব্যস্ত সময়ে কঠিন হয়ে পড়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে ফরহাদ হোসেন (২৫) নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে কিশোর গ্যাং সদস্যরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে বিরোধের জেরে আরশিনগরের একটি সেলুনে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরশিনগরের মেম্বার গলিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলায়।
ফরহাদকে হাসপাতালে নিয়ে আসা বন্ধু আরিফ জানান, তিনি মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন। সেখানে (এলেক্স গ্রুপ) কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা, যার মধ্যে আরমান, সোহেল, কাল্লু, সাব্বিরসহ ১০/১৫ জন ছিল, ফরহাদকে জানিয়েছিল যে, এখানে ব্যবসা করতে হলে তাদেরকে চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। তারা এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন আলাদা করে চাঁদা দিতে হবে বলেছিল। ফরহাদ এই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
আরিফ আরও জানান, আজ দুপুরে ফরহাদ তাদের বাসার কাছাকাছি আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনে চুল কাটাতে যান। সেখানে সাব্বির ও আরমানের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন সশস্ত্র হামলা চালায়। তারা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে ঢামেকে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার বারহাট্টায় গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে শিউলী রানী দাস (২৬) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি নিজ বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হন।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত শিউলী রানী দাস উপজেলার বৃ-কালিকা গ্রামের মিন্টু চন্দ্র দাসের স্ত্রী।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে বৃ-কালিকা গ্রামের মিন্টু চন্দ্র দাসের বাড়িতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে স্থানীয়রা ঘরের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখে এগিয়ে আসেন। এ সময় শিউলী রানী দাস গ্যাসের চুলায় রাতের রান্না করছিলেন। রান্না শুরু করার পরপরই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তখন ভাতের চাল চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের সময় ঘরে শিউলী রানী দাসের দুই শিশু সন্তানও উপস্থিত ছিল। স্থানীয়দের মতে, শিউলী প্রথমে দুই সন্তানকে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
প্রতিবেশী কাজল চন্দ্র দাস বলেন, "আগুনে মিন্টু চন্দ্র দাসের ঘরের সব কিছু পুড়ে গেছে। শিউলী রানী দাসের শরীরের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ পুড়ে যায়।" স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অপর প্রতিবেশী নারায়ণ চন্দ্র দাস জানান, শিউলী রানী দাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।
বারহাট্টা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার বিপুল কুমার ঘোষ বলেন, "গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শিউলী রানী দাসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ