মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১২ পি.এম
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু মন্তব্য করেছেন যে, দুর্নীতি সব সময় বিদ্যমান থাকবে, তা কম বা বেশি হতে পারে। তবে, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হলরুমে আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশমন্ত্রী আরো বলেন, "আমাদের রাজনীতিবিদদের কাজ হলো বক্তৃতা দেওয়া। সরকারি চাকরিজীবীদের কাজ হলো কিছু চুরি করা, কিছু কাজ করা।" তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সমাজ পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা উচিত যেখানে আমাদের ছেলেমেয়েরা ভবিষ্যতে অর্থবহ জীবন কাটাতে পারবে।
দুর্নীতি দমনে সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, "আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সমাজ ও দেশের উন্নয়নের জন্য, এরমধ্যে আর্থসামাজিক উন্নয়নও রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, দুর্নীতি দমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তিনি বলেন, "দুর্নীতি কে করে আমি জানি না। তবে দুর্নীতি আমাদের সমাজে ঘটে।"
জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে, স্কুলে ভর্তি হওয়ার মাত্র দুই দিন পরেই প্রিন্স হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান মার্কেল তাদের সন্তানদের স্কুল পরিবর্তন করেছেন। তবে, নতুন এবং পুরানো স্কুলের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
রাজ পরিবার থেকে বের হওয়ার ছয় বছর পর, গত আগস্টে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন রাজা চার্লসের ছোট ছেলে হ্যারি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই দম্পতির ৭ বছর বয়সী ছেলে প্রিন্স আর্চি এবং ৫ বছর বয়সী প্রিন্সেস লিলিবেট চলতি মাসে স্কুলে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। তাদের নতুন বাড়ির ঠিকানা এবং সন্তানদের স্কুলের তথ্যও গোপন রাখা হয়েছিল। তবে, হঠাৎ করেই সন্তানদের স্কুল পরিবর্তনের বিষয়টি জানান হ্যারি-মেগানের একজন মুখপাত্র।
রাজকীয় বাসভবনে না থাকার এবং রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন না করার শর্তে তারা যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেন।
এই দম্পতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছে যে, পূর্বের স্কুলে যাতায়াতের পথে দীর্ঘ দূরত্ব এবং অতিরিক্ত যানজটের কারণে শিশুদের নিরাপদে আনা-নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল। শিশুদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত একটি গাড়ি নিয়ে বহরে চলাচল করতে হতো, যা ব্যস্ত সময়ে কঠিন হয়ে পড়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে ফরহাদ হোসেন (২৫) নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে কিশোর গ্যাং সদস্যরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে বিরোধের জেরে আরশিনগরের একটি সেলুনে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরশিনগরের মেম্বার গলিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলায়।
ফরহাদকে হাসপাতালে নিয়ে আসা বন্ধু আরিফ জানান, তিনি মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন। সেখানে (এলেক্স গ্রুপ) কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা, যার মধ্যে আরমান, সোহেল, কাল্লু, সাব্বিরসহ ১০/১৫ জন ছিল, ফরহাদকে জানিয়েছিল যে, এখানে ব্যবসা করতে হলে তাদেরকে চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। তারা এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন আলাদা করে চাঁদা দিতে হবে বলেছিল। ফরহাদ এই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
আরিফ আরও জানান, আজ দুপুরে ফরহাদ তাদের বাসার কাছাকাছি আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনে চুল কাটাতে যান। সেখানে সাব্বির ও আরমানের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন সশস্ত্র হামলা চালায়। তারা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে ঢামেকে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার বারহাট্টায় গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে শিউলী রানী দাস (২৬) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি নিজ বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হন।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত শিউলী রানী দাস উপজেলার বৃ-কালিকা গ্রামের মিন্টু চন্দ্র দাসের স্ত্রী।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে বৃ-কালিকা গ্রামের মিন্টু চন্দ্র দাসের বাড়িতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে স্থানীয়রা ঘরের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখে এগিয়ে আসেন। এ সময় শিউলী রানী দাস গ্যাসের চুলায় রাতের রান্না করছিলেন। রান্না শুরু করার পরপরই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তখন ভাতের চাল চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের সময় ঘরে শিউলী রানী দাসের দুই শিশু সন্তানও উপস্থিত ছিল। স্থানীয়দের মতে, শিউলী প্রথমে দুই সন্তানকে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
প্রতিবেশী কাজল চন্দ্র দাস বলেন, "আগুনে মিন্টু চন্দ্র দাসের ঘরের সব কিছু পুড়ে গেছে। শিউলী রানী দাসের শরীরের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ পুড়ে যায়।" স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অপর প্রতিবেশী নারায়ণ চন্দ্র দাস জানান, শিউলী রানী দাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।
বারহাট্টা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার বিপুল কুমার ঘোষ বলেন, "গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শিউলী রানী দাসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও সক্ষম করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য সংশ্লিষ্টদের যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ইউএনডিপির সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, "জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।" তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির কারিগরি অভিজ্ঞতা সরকারের জন্য সহায়ক হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, "স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করার সঙ্গে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও এসডিজি বাস্তবায়নের বিষয়টি সরাসরি সম্পৃক্ত।" তাই উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ খাতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, "স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইউএনডিপির সঙ্গে যৌথভাবে এমন কর্মসূচি আয়োজন করা গেলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ইউএনডিপির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার আসাদুজ্জামান ও আনোয়ারুল হক, আন্তর্জাতিক প্রকল্প ব্যবস্থাপক যুগেশ প্রধানাং এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ