ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সল আমীনকে নির্বাচিত ঘোষণা, গেজেট প্রকাশ


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সল আমীনকে নির্বাচিত ঘোষণা, গেজেট প্রকাশ

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : নির্বাচন কমিশন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সল আমীনকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে।

আজ শনিবার, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই গেজেটটি প্রকাশ করেন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট অর্জন করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন।

আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার সার্থকতা শুধু জিপিএ নয়, নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হওয়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ এম


শিক্ষার সার্থকতা শুধু জিপিএ নয়, নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হওয়াই

শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল ভালো ফল বা সনদ অর্জন নয়, বরং প্রকৃত সুনাগরিক, নৈতিকতাসম্পন্ন এবং দেশপ্রেমিক মানুষ হয়ে ওঠা—এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা। ভোলার চরফ্যাশনে বেগম রহিমা ইসলাম কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তারা এই কথা বলেন।

শনিবার সকালে শশীভূষণ থানাধীন কলেজ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নবীনবরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬’ উদযাপন করা হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও বরণ করে নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলেজ ম্যানেজিং কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক রেজাউল করিম খন্দকার।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "প্রিয় নবীন শিক্ষার্থীরা, স্কুলজীবন পেরিয়ে আজ তোমরা উচ্চমাধ্যমিকের এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পা রেখেছ। কলেজ জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ইতিবাচক কাজে লাগাও, নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখো এবং মাদকসহ সব খারাপ সঙ্গ থেকে দূরে থাকো। নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে আগামী দিনের দক্ষ নেতৃত্ব হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলো।"

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী অনিক, বিএনপি নেতা ছালাম জমাদার, শশীভূষণ থানা যুবদল নেতা রাছেল ফরাজী ও কামরুজ্জামান শাহিন।

এছাড়া শশীভূষণ থানা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মিজানুর রহমান মুনসী, চরকলমী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ. মন্নান ফরাজী, এওয়াজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহে আলম, যুবদল নেতা মাকসুদ মাস্টার, রসুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকতার ফরাজীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এই পর্বে কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা ও বরিশাল থেকে আগত শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ এম


কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এই বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে ৬টি জেলার ৪৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানে সর্বাধিক ৭ জন এবং ৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১ জন করে পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম এই তথ্য প্রকাশ করেন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সূত্র অনুযায়ী, এই বছর মাত্র একজন করে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল এমন তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজনও পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- কুমিল্লার লালমাই উপজেলার সুরুজ মেমোরিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, চাঁদপুরের পৌর শহীদ জাবেদ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং লক্ষ্মীপুর জেলার ক্যামব্রিজ সিটি কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি থেকে একজন করে মোট তিনজন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনজনই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে তিনটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

দুইজন করে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বগৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ড. এম সামছুল হক মডেল কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি থেকে দুজন করে পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও এদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ চার প্রতিষ্ঠানের মোট আটজন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পাসের হার শূন্য শতাংশ।

তিনজন করে পরীক্ষার্থী থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, ফেনী সদর উপজেলার বেগম সামছুন্নাহার বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মমতাজ উদ্দিন আখন্দ কলেজ। দুই কলেজের তিনজন করে ৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রফেসর সেকান্দর আলী ভূঁইয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আপার মডেল কলেজ থেকে ৫ জন করে মোট ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। কিন্তু এই ১০ জনের মধ্যে একজনও পাস করতে পারেনি। লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬ জন পরীক্ষার্থীর অংশ নিলেও পাস করেনি কেউ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ফজুমিয়ারহাট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ফেনী সদর উপজেলার বিকন মডেল কলেজ থেকে ৭ জন করে মোট ২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল শূন্য। অর্থাৎ এ তিন প্রতিষ্ঠানের ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেনি কেউ।

এ বিষয়ে কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৬টি জেলার মোট ৪৫৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৯২ হাজার ১৬২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এই ৪৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল শূন্য, সেখান থেকে পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেনি কেউ। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানকে কারণ দর্শানোর জন্য চিঠি দেওয়া হবে, সন্তোষজনক জবাব না পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান জিতেছে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ এম


ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান জিতেছে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা

ফখর জামানের অসাধারণ সেঞ্চুরি এবং সাদ বেগ ও আরাফাত মিনহাসের অর্ধশতকের সুবাদে পাকিস্তান ঘরের মাঠে একটি দারুণ জয় অর্জন করেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয় পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার দেয়া ৩২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে। ইনিংসের প্রথম দুই ওভারে পরপর মাআজ সাদাকাত (৫) ও বাবর আজমকে (০) ফিরিয়ে দেন দিলশান মাদুশঙ্কা। মাত্র ১৪ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান চাপে পড়ে যায়।

তবে শুরুতে ধাক্কা সামলে দলকে লড়াইয়ে ফেরান ফখর জামান এবং তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটার সাদ বেগ। তৃতীয় উইকেটে ১৪৯ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ার পথে এই দুই বাঁহাতি তুলে নেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক।

২৭তম ওভারে মাহিশ থিকশানা সাদ বেগকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন। ৭৫ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৭৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন ১৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৬৩।

এরপর চতুর্থ উইকেটে সালমান আলী আগার সঙ্গে ৫৭ রানের জুটি গড়েন ফখর। এই জুটিতেই নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই ওপেনার।

৩৪তম ওভারে মাদুশঙ্কার বলে বোল্ড হয়ে থামে ফখরের দুর্দান্ত ইনিংস। মাত্র ৯৯ বলে ১১টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১২৭ রান করেন তিনি। পাকিস্তানের জয়ের পথে এটিই ছিল সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।

ফখরের বিদায়ের দুই ওভার পর সাজঘরে ফেরেন সালমান আলী আগাও। ২৫ বলে ১৭ রান করে আউট হন তিনি।

৩৬.৫ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৩০। এরপর দলের হাল ধরেন তরুণ ব্যাটার হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাস। ষষ্ঠ উইকেটে ৯৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেন তারা।

এই জুটিতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মিনহাস। মাত্র ৩১ বলে চারটি ছক্কা ও তিনটি চারের সাহায্যে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। ৪৮তম ওভারে আসিথা ফার্নান্দোর বলে আউট হন মিনহাস।

একই ওভারে নতুন ব্যাটার ফাহিম আশরাফকেও গোল্ডেন ডাকে ফিরিয়ে দেন ফার্নান্দো। ফলে ৪৭.৫ ওভারে ৩২৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান।

তবে শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি দারুণভাবে ম্যাচ শেষ করেন। ইনিংসের ৪৯তম ওভারের তৃতীয় বলে মাদুশঙ্কাকে স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার হয়ে দিলশান মাদুশঙ্কা ৯.৩ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। আসিথা ফার্নান্দো দুটি এবং দুনিথ ওয়েলালাগে ও মাহিশ থিকশানা একটি করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে শ্রীলঙ্কা। শুরু থেকেই ভালো ব্যাটিং করে সফরকারীরা।

ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দো ও কামিন্দু মেন্ডিস প্রথম উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন। ৪৯ বলে ৩৮ রান করা আভিষ্কাকে এলবিডব্লিউ করে এই জুটি ভাঙেন সালমান আলী আগা।

এরপর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস ক্রিজে এসে কামিন্দুর সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ১২ বলে ৮ রান করে সালমানের বলে আউট ফেরেন তিনি। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২১.৩ ওভারে ২ উইকেটে ১০৯।

কুশলের বিদায়ের পর পাভান রথনায়েকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন কামিন্দু মেন্ডিস। দুজনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার স্কোর দ্রুত ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এই জুটিতেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন কামিন্দু।

তৃতীয় উইকেটে ১৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ার পর অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন কামিন্দু। ১২৮ বলে ১২টি চার ও দুটি ছক্কায় ১৩১ রান করেন তিনি।

এরপর দ্রুত রান তুলতে থাকেন পাভান রথনায়েকে ও দাসুন শানাকা। তবে ৯ বলে ১৭ রান করা শানাকাকে ফিরিয়ে দেন শাহিন। এরপর হারিস রউফের শিকার হন পাভান রথনায়েকে। ৬৫ বলে আটটি চারে ৭৭ রান করেন তিনি।

শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। নাসিম শাহ ফেরান জনিথ লিয়ানাগেকে (৯ বলে ৬)। অন্যদিকে হারিস রউফের বলে দুনিথ ওয়েলালাগে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

এরপর নাসিম শাহর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন সাহান আরাচ্চিগে। ১২ বলে ১৫ রান করেন তিনি।

তবে শেষ দুই ওভারে আসিথা ফার্নান্দো ও মাহিশ থিকশানা গুরুত্বপূর্ণ কিছু রান যোগ করেন। ফার্নান্দো ৬ এবং থিকশানা ৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ফলে ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ৩২৫ রানের লড়াকু পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা।

পাকিস্তানের হয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, সালমান আলী আগা ও হারিস রউফ দুটি করে উইকেট নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের বাজার হারানোর ভয়ে নতজানু লা লিগা ও রিয়াল মাদ্রিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ এম


চীনের বাজার হারানোর ভয়ে নতজানু লা লিগা ও রিয়াল মাদ্রিদ

একটি ইন্টারনেট মিম এবং কয়েক সেকেন্ডের রসিকতা—এটি ইউরোপের ফুটবল ও বাণিজ্যজগতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পের একটি মন্তব্যের কারণে চীন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এর ফলস্বরূপ, দেশটির তিনটি প্রতিষ্ঠান ফরাসি তারকার সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম লা লিগার ম্যাচ সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এমবাপ্পে, লা লিগা এবং রিয়াল মাদ্রিদ ক্ষমা চেয়েছেন। তবে চীন এখনও সন্তুষ্ট নয়।

প্রশ্ন উঠছে, ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী ফুটবল লিগ এবং বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্লাবগুলোর একটি রিয়াল মাদ্রিদ কেন চীনের কাছে এতটা নমনীয়? এর উত্তর ফুটবলের বাইরের বিশাল বাণিজ্যিক জগতে নিহিত।

বিতর্কের শুরু হয় ফরাসি অনুষ্ঠান ‘দ্য ব্রিজ’-এ এমবাপ্পের একটি সাক্ষাৎকার থেকে। সেখানে তিনি চীনের সাবেক নেতা মাও সে তুংয়ের অবয়ব ব্যবহার করে তৈরি একটি ভিডিও সম্পর্কে মন্তব্য করেন। মাওকে নিয়ে এমন রসিকতা চীনে অত্যন্ত সংবেদনশীল। মন্তব্যটি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ২৭ অক্টোবর ডংপেং, মেংনিউ ও মিল্কগ্রাউন্ড নামের তিনটি চীনা প্রতিষ্ঠান এমবাপ্পের সঙ্গে তাদের চুক্তি বাতিল করে। একই সময়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) লা লিগার সম্প্রচার স্থগিত করে।

এমবাপ্পে দুঃখ প্রকাশ করার পর লা লিগা ও রিয়াল মাদ্রিদও ক্ষমা চেয়েছে। তবে সিএমজির দাবি, রিয়াল মাদ্রিদকে যথাযথভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। সংকট সমাধানের জন্য লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাঁর চীন সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে।

লা লিগার জন্য চীনের গুরুত্বের একটি বড় অংশ হলো সম্প্রচারস্বত্ব। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ মৌসুমে লিগটির আন্তর্জাতিক সম্প্রচারস্বত্বের মূল্য ছিল ৭৪৮ মিলিয়ন ইউরো। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এই আয়ের বেশিরভাগ অংশ জোগায়। যদিও দুই দেশের মধ্যে চীনের অবদান আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশটির দর্শকবাজার সম্প্রচারস্বত্বের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তা স্পষ্ট।

এশিয়ার দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ২০১৬ সাল থেকে লা লিগা ম্যাচের সূচি এই অঞ্চলের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। চীনে দুটি কার্যালয়সহ আটটি দেশে নয়টি অফিস খুলেছে তারা। ২০১৫ সালে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি হয়েছিল, যার মূল্য ছিল ৩৭৫ মিলিয়ন ইউরোর বেশি।

সম্প্রতি চায়না মোবাইলের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মিগুর সঙ্গে ২০২৬–২৭ থেকে ২০২৯–৩০ মৌসুম পর্যন্ত চুক্তি করেছে লা লিগা। ফলে চীনের দর্শকেরা প্রতি মৌসুমে লিগের ৩৮০টি ম্যাচ দেখতে পারবেন। চুক্তির আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে ২০২৪ সালে সিএমজির সঙ্গে ফ্রি-টু-এয়ার সম্প্রচারের চুক্তি করেছিল লিগটি।

রিয়াল মাদ্রিদের কাছে চীনের গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। সম্প্রচার ছাড়াও, জার্সি ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি, স্পনসরশিপ এবং ব্র্যান্ডের বাজারে দেশটির প্রভাব রয়েছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার তথ্য অনুযায়ী, রিয়ালের জার্সি ও মার্চেন্ডাইজ বিক্রির ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চীন থেকে আসে।

ডেলয়েটের ফুটবল মানি লিগ অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ মৌসুমে রিয়ালের রাজস্ব ছিল ১ হাজার ১৬১ মিলিয়ন ইউরো। ক্লাবটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠান হাইসেন্স ও লিংলং টায়ারও রয়েছে। ফলে চীনের বাজারে সুনাম নষ্ট হলে ক্লাবটির ব্যবসায় প্রভাব পড়তে পারে।

চীনের ক্রীড়াবাজার ক্রমবর্ধমান। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ক্রীড়াশিল্পের আকার ৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৪ সালে এই শিল্পের উৎপাদনমূল্য ছিল ৩.৮৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ান।

অর্থাৎ, চীন শুধু বর্তমানের বড় বাজার নয়, ভবিষ্যতেরও বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। সেই বাজারে প্রবেশাধিকার এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখা এখন লা লিগা ও রিয়ালের প্রধান চিন্তা।

মাঠের ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ যতই শক্তিশালী হোক, বৈশ্বিক বাণিজ্যের খেলায় চীনের বাজারকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এমবাপ্পের একটি মন্তব্যের ফলে সৃষ্ট সংকট ফুটবলের চেয়ে অনেক বড় এক অর্থনৈতিক বাস্তবতা সামনে এনেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%