ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করল জামায়াত


সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করল জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করেছে, যা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিলের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হয়।

রবিবার (৩০ আগস্ট) সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত বিলটি পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়। জামায়াতের দুই সদস্য, ড. মো. নাজিবুর রহমান ও অ্যাডভোকেট আল ফারুক আবদুল লতিফ, প্রতিবাদ জানিয়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।

বৈঠক বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র ড. মো. নাজিবুর রহমান বলেন, "বিতর্কিত এই বিলটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।" তিনি আরও বলেন, "এটি নিয়ে দেশি-বিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অংশীজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।"

আরও পড়ুন: ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাস নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীদের প্রতিবাদ

তিনি অভিযোগ করেন যে, সংসদীয় কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগকে সংকুচিত করে।

নাজিবুর রহমান বলেন, ‘পূর্বের অধ্যাদেশ বাতিলের পর সরকার শক্তিশালী আইন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু প্রস্তাবিত বিলে কমিশনকে আরো দুর্বল করা হয়েছে।’

তিনি উল্লেখ করেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতাও সীমিত করা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সুধীজনের মতামতের নথি কমিটিকে না দেখিয়ে এবং দুই দিনের বাধ্যবাধকতা দিয়ে কমিটিকে কার্যত ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত করা হচ্ছে, বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: হায় সেলুকাস, আমাদের এই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি

জামায়াতের এই নেতা প্রস্তাবিত বিলটিকে একটি ‘কালো আইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ২০০৯ সালে তৎকালীন সরকার যেভাবে কমিশনকে দুর্বল করেছিল, এবারও একই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনও সরকার পুনরায় ফ্যাসিবাদী রূপ নিলে যেন মানবাধিকার কমিশন কথা বলতে না পারে, সে জন্যই তাদের ক্ষমতা সীমিত করা হচ্ছে।

সংসদে বিরোধী দলের মতপ্রকাশের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, সংসদে বিরোধী দলকে দমনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং পূর্বের নোট অব ডিসেন্ট ও সংশোধনী প্রস্তাব সরকার আমলে নেয়নি। আইনটি প্যারিস প্রিন্সিপলস ও জিএএনএইচআরআই-এর স্বীকৃত মানদণ্ডের অনুকূল নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রক্রিয়াটির কোনও দায়ভার জামায়াত নেবে না এবং বিল পাসের কোনও ধাপে তারা অংশ নেবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপাল-চীন বন্যা : সর্বশেষ পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


নেপাল-চীন বন্যা : সর্বশেষ পরিস্থিতি

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা রোববার প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। উদ্ধারকারীরা হাঁটুসমান ও গভীর কাদার মধ্যে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত বুধবারে হিমালয় অঞ্চলে সুনামির মতো আঘাত হানা এই ভয়াবহ দুর্যোগের পর সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

-মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে-

নেপাল এবং তিব্বতের দায়িত্বশীল চীনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের মোট সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। এখন পর্যন্ত ৬৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপাল জানিয়েছে, দেশটিতে ২ হাজার ৪২৬ জনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। শনিবার নেপাল মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে ৬৭৫ জন বলে জানিয়েছে।

চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের বড় একটি অংশ বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য কার্যত দুর্গম হয়ে থাকায় সেখানে দুর্যোগের প্রকৃত ভয়াবহতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে একাধিক গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া শনিবার জানিয়েছে, তিব্বতে ৫৫৪ জন নিখোঁজ এবং ৭ জন নিহত হয়েছেন।

-সুড়ঙ্গে আটকা ১০০ জনের বেশি-

নেপালের সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল ‘অত্যন্ত কঠিন’ পরিস্থিতির মধ্যে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া ১০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে।

বরফ ও পাথর মিশ্রিত ভয়াবহ পানির স্রোত যেসব নদী দিয়ে নেমে আসে, সেসব নদীর ওপর থাকা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৯৩৩ জন নিখোঁজ শ্রমিকের মধ্যে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া এসব মানুষও রয়েছে।

এ ধরনের উদ্ধার অভিযানে ব্যাপক অভিজ্ঞতা থাকা ভারত ১১ সদস্যের একটি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। চীনও সহায়তার জন্য ৯ সদস্যের একটি সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে।

-পুনর্গঠনে ‘কয়েক বিলিয়ন ডলার’ লাগতে পারে-

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিসির খানাল জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর দেশের পুনর্গঠনে ‘কয়েক বিলিয়ন ডলার’ পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গবেষণা করব। এরপর পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তবে এরই মধ্যে আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছি।’

-উদ্ধারকেন্দ্রে স্বজনদের ভিড়-

নেপালের বিদুর শহরের একটি সেনাঘাঁটিতে স্বজনদের ভিড় দেখা গেছে। এটি উদ্ধার কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেখানে দেয়ালে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্বজনদের তালিকায় নিজের ছেলের নাম খুঁজছিলেন কালকা শারদা।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে খুঁজতে এখানে এসেছি। সে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। কিন্তু তালিকায় তার নাম খুঁজে পাচ্ছি না। কর্তৃপক্ষও কিছু বলছে না।’

-হিমবাহ পর্যবেক্ষণ বাড়াচ্ছে ভারত-

মারাত্মক এই বন্যা হিমবাহ ভেঙে পড়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনার কয়েক দিন পর চীন ও নেপাল সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে নজরদারি বাড়িয়েছে ভারত।

ভারতের হিমালয়ঘেঁষা উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মদন কৌশিক বলেন, ‘নেপালের সঙ্গে আমাদের সীমান্ত রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে এবং একই ধরনের ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে আমরা ওই অঞ্চলের সব হিমবাহ ও পরিচিত হিমবাহ-হ্রদ পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি।’

-আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রস্তাব-

রেড ক্রসের হিসাবে জানা গেছে, নেপালে এই দুর্যোগে ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার নেপাল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বিশেষায়িত উদ্ধার সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারী মালামাল বহনে সক্ষম ড্রোন, ডিএনএ পরীক্ষার কিট এবং মরদেহ সংরক্ষণের জন্য হিমায়িত রাখার ইউনিট।

এখন পর্যন্ত কানাডা ৫০ লাখ কানাডীয় ডলার (৩৬ লাখ মার্কিন ডলার) মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০ লাখ ইউরো (২৩ লাখ মার্কিন ডলার) দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংও শুক্রবার নেপালকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র শনিবার জানিয়েছে, তারা নেপালকে ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার মানবিক সহায়তা দেবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ‘জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩৬ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নেপালের জনগণের পাশে রয়েছে। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সর্বোচ্চ ১০ হাজার পরিবারকে তিন মাস পর্যন্ত জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়ার অর্থও রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে ত্রুটি মাত্র ১.২ শতাংশ: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে ত্রুটি মাত্র ১.২ শতাংশ: অর্থমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ার পাইলট প্রকল্পে মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ ত্রুটি হয়েছে উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ভুলের হার অত্যন্ত নগণ্য। রাজনৈতিক কোনো বিবেচনায় কিংবা দলীয় পক্ষপাতিত্বে এই কার্ড বিতরণ করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত বাংলাদেশে ‘বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন সহায়তা’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেকোনো দুর্যোগময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে সঠিক উপায়ে ও পূর্ণ দক্ষতার সঙ্গে ত্রাণ ও সহায়তার বিলিবণ্টন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের দেশে অতীতে বিতরণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক ক্ষতি বা অপচয় হতে দেখা গেছে, যা মূলত সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব ও দুর্নীতির কারণে ঘটত। তবে ফ্যামিলি কার্ডের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ ডেলিভারি সিস্টেম এই অপচয় ও দুর্নীতি কার্যকরভাবে বন্ধ করেছে।

সরকারের নতুন অর্থনৈতিক কৌশল তুলে ধরে তিনি জানান, সরকারের প্রতিটি কর্মসূচিতে এখন সরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত এবং এনজিওগুলোর সমন্বয়ে একটি কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে। এই ত্রিপক্ষীয় মডেল কেবল বন্যা-পরবর্তী উদ্ধার বা পুনর্বাসন কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি আধুনিক ও সৃজনশীল অর্থনৈতিক কাঠামোর অংশ হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা না গেলে যেকোনো ত্রাণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। এনজিও ও ব্যক্তি খাতের যৌথ সহায়তায় সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সাহায্য পৌঁছানোর এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলাউড়ায় গরু চু-রি থেকে সিএনজিতে আ-গুন, এবার বিএনপি নেতার বাড়ি-মসজিদের বৈদ্যুতিক তার চু-রি নিরাপত্তা নিয়ে ঘাগটিয়াবাসীর প্রশ্ন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আহমেদ আক্তার রানা কুলাউড়া প্রতিনিধি

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


কুলাউড়ায় গরু চু-রি থেকে সিএনজিতে আ-গুন, এবার বিএনপি নেতার বাড়ি-মসজিদের বৈদ্যুতিক তার চু-রি নিরাপত্তা নিয়ে ঘাগটিয়াবাসীর প্রশ্ন!

গরু চু-রি, সিএনজিতে আ-গু-নের পর এবার বৈদ্যুতিক তার—আতঙ্কে ঘাগটিয়াবাসী

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একের পর এক চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এবার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামে বিএনপি নেতা ও লন্ডনপ্রবাসী শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপনের বসতবাড়ি এবং স্থানীয় একটি মসজিদের বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ উঠেছে।

(৩০ আগস্ট) স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগের তারের পাশাপাশি রাস্তার বাতির তারও কেটে নিয়ে যায়। একই রাতে/সময়ে মসজিদের পুকুরপাড়ে থাকা বৈদ্যুতিক সংযোগের তারও চুরি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এতে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাহত হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, গরু চুরি ও সিএনজি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর এবার বাড়ি ও মসজিদের বৈদ্যুতিক তার চুরি—সব মিলিয়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিয়ে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। ফলে দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় রাতের টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
একটি বাড়ি ও মসজিদের তার চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন প্রশ্ন উঠছে—ঘাগটিয়ায় রাতের নিরাপত্তা কোথায়?
এলাকাবাসী প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমএসএমইকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে যুক্ত করতে চায় ইউএনডিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


এমএসএমইকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে যুক্ত করতে চায় ইউএনডিপি

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সাথে, বাণিজ্য সহজীকরণ, কাস্টমস প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সহযোগিতার প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি।

রবিবার সচিবালয়ে ইউএনডিপির বাংলাদেশ রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকসের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ইউএনডিপি জানায়, এমএসএমই খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর অংশগ্রহণ এখনো সীমিত রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ব্যবহার, অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বাজারসংযোগ জোরদারের মাধ্যমে এই খাতকে বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকস মন্তব্য করেন, "ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

তিনি আরও বলেন, ইউএনডিপি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় টুলস এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে চায়।

রড্রিকস বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো এবং বাণিজ্য সহজীকরণে আরো উদ্যোগ প্রয়োজন। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "এমএসএমই খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।"

তবে তিনি উল্লেখ করেন, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, দক্ষতার ঘাটতি এবং বাজারে প্রবেশের বাধা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এসব সমস্যা সমাধানে উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থন প্রয়োজন।

তিনি জানান, ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পূর্বে কিছু অনুমোদন পেতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলেও বর্তমানে তা দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আরো উন্নত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকে দেশের উচ্চ লজিস্টিকস ব্যয় এবং বন্দর ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্য পরিবহন, খালাস ও সরবরাহ ব্যবস্থার সময় ও ব্যয় কমাতে সরকার কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মানের বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা চালু হলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের সহযোগিতা কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করা হবে। বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এমএসএমই খাতকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%