প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করেছে, যা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিলের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হয়।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত বিলটি পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়। জামায়াতের দুই সদস্য, ড. মো. নাজিবুর রহমান ও অ্যাডভোকেট আল ফারুক আবদুল লতিফ, প্রতিবাদ জানিয়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।
বৈঠক বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র ড. মো. নাজিবুর রহমান বলেন, "বিতর্কিত এই বিলটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।" তিনি আরও বলেন, "এটি নিয়ে দেশি-বিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অংশীজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।"
তিনি অভিযোগ করেন যে, সংসদীয় কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগকে সংকুচিত করে।
নাজিবুর রহমান বলেন, ‘পূর্বের অধ্যাদেশ বাতিলের পর সরকার শক্তিশালী আইন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু প্রস্তাবিত বিলে কমিশনকে আরো দুর্বল করা হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতাও সীমিত করা হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সুধীজনের মতামতের নথি কমিটিকে না দেখিয়ে এবং দুই দিনের বাধ্যবাধকতা দিয়ে কমিটিকে কার্যত ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত করা হচ্ছে, বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা প্রস্তাবিত বিলটিকে একটি ‘কালো আইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ২০০৯ সালে তৎকালীন সরকার যেভাবে কমিশনকে দুর্বল করেছিল, এবারও একই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনও সরকার পুনরায় ফ্যাসিবাদী রূপ নিলে যেন মানবাধিকার কমিশন কথা বলতে না পারে, সে জন্যই তাদের ক্ষমতা সীমিত করা হচ্ছে।
সংসদে বিরোধী দলের মতপ্রকাশের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, সংসদে বিরোধী দলকে দমনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং পূর্বের নোট অব ডিসেন্ট ও সংশোধনী প্রস্তাব সরকার আমলে নেয়নি। আইনটি প্যারিস প্রিন্সিপলস ও জিএএনএইচআরআই-এর স্বীকৃত মানদণ্ডের অনুকূল নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রক্রিয়াটির কোনও দায়ভার জামায়াত নেবে না এবং বিল পাসের কোনও ধাপে তারা অংশ নেবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন