১১:১৯ এম
মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের কাছে সঞ্চয়পত্র একটি নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। হাতে কিছু সঞ্চিত অর্থ থাকলেই অনেকে সঞ্চয়পত্র কেনার দিকে ঝুঁকেন।
অর্থের প্রয়োজন হলে, যেমন শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা সংসারের জরুরি প্রয়োজনে, অনেকের জন্য এই সঞ্চয়পত্রই হয়ে ওঠে শেষ ভরসা।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ছাড়া এগোনো হলে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাওয়া সম্ভব হয় না, বরং লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়। সঞ্চয়পত্র কেনার পূর্বে মেয়াদ, অর্থের প্রয়োজন এবং মুনাফার নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব ভুল সাধারণত ঘটে—
জরুরি টাকা আটকে ফেলা
আপৎকালীন তহবিল কিংবা চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় অর্থ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য অর্থ সঞ্চয়পত্রে আটকে থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভাঙালে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাওয়া সম্ভব হয় না। তাই যদি কয়েক মাসের মধ্যে টাকার প্রয়োজন হয়, তাহলে সঞ্চয়পত্র না কেনাই ভালো।
বিনিয়োগের স্তর না বোঝা
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে মুনাফার হার।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারিদের ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, থানার ক্যাশিয়ার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার ধাপে ধাপে কমে যায়। তাই বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম ও সীমা না বুঝে এক নামে সঞ্চয়পত্র কেনা উচিত নয়। পরিবারের সদস্যদের নামে বৈধভাবে বিনিয়োগের সুযোগ থাকলে সেটিও বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কার নামে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, অর্থের মালিকানা এবং করসংক্রান্ত বিষয়গুলো আগে পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।
আয়কর সংক্রান্ত ভুল
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কর কাটা হয়।
আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট
কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) এবং আয়করসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে না দিলে মুনাফার ওপর বেশি হারে কর কাটার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই সঞ্চয়পত্র কেনার আগে নিজের করসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন।
ভুল স্কিম বেছে নেওয়া
আপনার কখন মুনাফার অর্থ প্রয়োজন, সেটি না ভেবেই সঞ্চয়পত্র কেনা একটি বড় ভুল। বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে মুনাফা পাওয়ার ধরন ও সময় আলাদা। যেমন পরিবার সঞ্চয়পত্রে মাসিক ভিত্তিতে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার কিছু সঞ্চয়পত্রে তিন মাস অন্তর মুনাফা পাওয়া যায়। তাই সঞ্চয়পত্র কেনার আগে ঠিক করতে হবে- মাসে, তিন মাস অন্তর নাকি মেয়াদ শেষে মুনাফা প্রয়োজন। নিজের আর্থিক প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে স্কিম নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ।
সব সঞ্চয় এক জায়গায় বিনিয়োগ
আরও পড়ুন: সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী: আমানউল্লাহ আমান
ভবিষ্যতের সব সঞ্চয় এক খাতে, যেমন শুধুমাত্র সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘সব ডিম এক ঝুড়িতে না রাখা’ নীতি অনুসরণ করা ভালো। স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগ ভাগ করা উচিত। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারযোগ্য অর্থ সহজে উত্তোলনযোগ্য জায়গায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করা হলে আর্থিক চাপ কমে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন