শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৪ এম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী, সরকারি বাহিনী এবং সউদী জোটের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক সূত্রের মাধ্যমে এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দুটি প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সরকারি সেনাদের মধ্যে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হুথি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সউদী জোটের বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে তাদের অন্তত ৪০ জন যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন।
সম্প্রতি সউদী আরবের মক্কা নগরীর দিকে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের অভিযোগের পর সংঘাতের তীব্রতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সউদীর ত্বায়েফ নগরীতে একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর তার ধ্বংসাবশেষের কারণে এক ইয়েমেনি নাগরিকের মৃত্যু এবং দুজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর এটি সউদী আরবের ভূখণ্ডে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। অন্যদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত ‘আল মাসিরা’ টিভি জানিয়েছে, ‘সউদী-সমর্থিত বাহিনী’র হামলায় ৩ শিশু নিহত হয়েছে। তাইজ প্রদেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে বিমান হামলায় এক সাধারণ নাগরিকও প্রাণ হারান। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই তীব্র লড়াইয়ের কারণে ইতোমধ্যে ১ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হুথিরা লোহিত সাগরের পুরো ইয়েমেন উপকূল নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে এবং বাব আল-মানদে প্রণালী অবরুদ্ধ করার হুমকি দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘ইরানের ওপর আবারও বড় পরিসরে আক্রমণ চালাব, নাকি এটি এখানেই থামাবÑসে বিষয়ে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। আমার পক্ষ থেকে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।’ তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প।
সউদীর কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সউদী আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তিটির মূল্য প্রায় ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান, ৪৯টি এফ-১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি কংগ্রেসের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিক্রয় সউদী আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে এবং দেশটির সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সামরিক সমন্বয় জোরদার করবে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এটি ভূমিকা রাখবে বলেও ওয়াশিংটন জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এফ-৩৫ বিক্রি হলেও এতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসবে না। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তুলনায় ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতার প্রাধান্য বজায় রাখার দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে শুধুমাত্র ইসরাইলই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ভিসা দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানের মূল প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের আয়োজনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ইরানের মূল প্রতিনিধি দলকে অধিবেশনে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের ইরানি প্রতিনিধি দলের আকার সীমিত রাখা হবে। প্রতিনিধি দলের সদস্যদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসবহুল পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বসছে। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের এই বার্ষিক বৈঠকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তদারকি সংক্রান্ত একটি কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পেশ করা খসড়া প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে স্থায়ী দুই সদস্য দেশ রাশিয়া ও চীন। এর ফলে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়ে গেছে। নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র এই খসড়া প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। তবে শুরু থেকেই প্রস্তাবের কড়া বিরোধিতা করে আসছিল মস্কো ও বেইজিং। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তথাকথিত ‘স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম’ সক্রিয় করার মার্কিন প্রচেষ্টার বিপক্ষে তাদের শক্ত অবস্থানের কথা জানায় দুই দেশ।
পাকিস্তান বলপ্রয়োগের চেয়ে কূটনীতিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করে পাকিস্তান জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চলমান সংঘাত সমাধানে কোনো প্রকার জোর-জবরদস্তি বা বলপ্রয়োগের বদলে আলোচনা ও কূটনৈতিক মাধ্যমকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার এক সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো প্রকার সামরিক শক্তি প্রয়োগের চক্রে অংশ না নিয়ে বরং অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে চায় পাকিস্তান। তিনি বলেন, “হুতিদেরও সব ধরনের হামলা ও হামলাজনিত কর্মকা- বন্ধ করা উচিত। আমাদের আলোচনা মূলত সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রিক, কোনো চাপ বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়।” তবে সউদী আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এই মুখপাত্র। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ এবং সম্প্রতি তুরস্কসহ স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’-এর প্রতি নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এই চুক্তিগুলোর আওতায় ইতোমধ্যে সউদীতে সেনা মোতায়েন বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে মোতায়েনকৃত বাহিনীর ধরণ বা অপারেশনাল বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
হরমুজে ফের তেলের ট্যাংকারে হামলা ঘটেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে আবারও একটি বাণিজ্যিক তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রণালীটিতে এটি দ্বিতীয় কোনো ট্যাংকারে হামলার ঘটনা, যা এ অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, টাগোর পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাংকার বেআইনিভাবে প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে তারা সেটিতে আঘাত হানে।
বিশ্ববাজারে আবারও কমলো জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়লেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো দরপতনের পরও ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০১ ডলার বা ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ০৩ ডলার বা ১ শতাংশ কমে ১০০ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবারও দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছিল। সউদী আরব ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলা হলেও বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিকল্প পথে তেল সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হবেÑএমন প্রত্যাশাই সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাকে ছাপিয়ে গেছে। সূত্র : রয়টার্স, আল-জাজিরা, এএফপি, নিউইয়র্ক টাইমস, ডন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কনাগ্রা ব্র্যান্ডস গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কার ওমাহায় ৪২৯ ফুট ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি দীর্ঘ স্লিমজিম তৈরি করে। এই বিশাল মাংসের স্ন্যাকটি ৯ সেপ্টেম্বর কোম্পানির ওমাহা ক্যাম্পাসে নির্মিত হয়েছে এবং এটি আগের রেকর্ডের চেয়ে ১১৬ ফুট বেশি দীর্ঘ।
নির্মাতারা জানিয়েছেন, যদিও স্লিমজিমটির আকার বিশাল, তবুও এতে সাধারণ স্লিম জিমের রেসিপি ও স্বাদ অপরিবর্তিত রয়েছে। সূত্র : ইউপিআই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর রাম জন্মভূমি মামলার ক্ষেত্রে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী সামাজিক ইস্যুতে সক্রিয় থাকার জন্য প্রায়শই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, "রাম জন্মভূমি মামলার রায় যখন প্রকাশিত হলো, তখন আমি অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। আমি ভাবছিলাম, এ কেমন দেশ, এ কেমন রায়?" তিনি মনে করেন, এটি একটি অন্যায় সিদ্ধান্ত। তাই তিনি তার ফোনবুকে থাকা সকল মুসলিম বন্ধুকে বার্তা পাঠান, যার মধ্যে শাহরুখ খান, আমির খান, সালমান খান এবং ফাহাদসহ আরও অনেকেই ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, "হিন্দু ধর্মের একজন মানুষ হিসেবে আমি সত্যিই দুঃখিত, আমি লজ্জিত এবং আমি এই রায়ের সঙ্গে একমত নই।" তার এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। কিছু ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন যে, তিনি হিন্দুদের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন এবং আদালতের রায়ের অবমাননা করেছেন।
এদিকে, উল্লেখযোগ্য যে, নভেম্বর ২০১৯-এ ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যা জমি বিরোধে ঐকমত্য রায় প্রদান করে। আদালত নির্দেশ দেয়, অযোধ্যায় বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিতে রাম মন্দির নির্মাণ হবে এবং মসজিদ নির্মাণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিকল্প ৫ একর জমি প্রদান করা হবে। সূত্র : জে এন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাকরি পাওয়ার আশায় যোগাযোগ শুরু হয় বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ্লিকেশন টেলিগ্রামে। এরপর কমিশনের লোভ, একের পর এক অনলাইন অর্ডার এবং অ্যাকাউন্টে মুনাফার অঙ্ক দেখানো হতে থাকে। মুনাফা তুলতে গেলেই সামনে আসত নতুন নতুন অজুহাত, ফলে দিতে হতো আরও টাকা।
এভাবে চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। এই অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জুলহাস উদ্দিন (৩৯) ও প্রহড় (২৮) রয়েছেন। এ নিয়ে এই চক্রের মোট ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হলো। শুক্রবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উলস্নাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, গত বছরের ২৪ আগস্ট মেহেদি হক নিয়নকে টেলিগ্রাম অ্যাপের একটি আইডি থেকে জ্যালস জুয়েলারি নামের প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট দেখে চাকরিতে আগ্রহী হন তিনি। এরপরই শুরু হয় প্রতারণার মূল কৌশল। চক্রটি একটি ফিশিং লিংকের মাধ্যমে তাকে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করে। প্রথমে সেখানে অনলাইনে অর্ডার সম্পন্ন করলে কমিশন পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কমিশন পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর আস্থা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, পরবর্তী ধাপে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। একপর্যায়ে জানানো হয়, বিভিন্ন রাউন্ডে মোট ৯০টি অর্ডার সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি অর্ডারের সঙ্গে ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টে মুনাফার অঙ্ক দেখানো হত। ফলে তার কাছে মনে হচ্ছিল, বিনিয়োগ করা টাকা দ্রুতই লাভসহ ফেরত পাওয়া যাবে। কিন্তু টাকা উত্তোলনের সময়ই পাল্টে যেত চক্রটির কৌশল।
মুনাফার টাকা তুলতে হলে আরও অর্ডার সম্পন্ন করতে হবে, দিতে হবে অতিরিক্ত অর্থ, এমন নানা অজুহাতে দফায় দফায় টাকা চাওয়া হয়। চক্রটির কথায় বিশ্বাস করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে একাধিকবার টাকা পাঠান নিয়ন। এভাবে শেষ পর্যন্ত তার কাছ থেকে মোট ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
বিশেষ পুলিশ সুপার ছুফি উলস্নাহ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পল্টন থানায় একটি মামলা করেন নিয়ন। পরে তদন্তের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এরই মধ্যে এই চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মামলার ১৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় প্রহড়কে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় আমন মৌসুমে ধান রোপণের কাজ শেষের দিকে। এরই মধ্যে সারের সংকট ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় অনেক কৃষককে বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিশেষ করে ডিএপি সার বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি সার কোথাও কোথাও ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এদিকে বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের মধ্যে সার সরবরাহ ও বণ্টন নিয়ে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও করছেন কৃষকরা। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও সার সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দৈনিক যুগান্তরের পক্ষ থেকে আসমা ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সার বারহাট্টা সর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মহিম উদ্দিনের গোডাউনে রাখা হয়েছে কেন—এ বিষয়ে জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান পত্রিকার বারহাট্টা প্রতিনিধি।
এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, আসমা ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার সেলিমের কাছে টাকা না থাকায় চলতি মাসের সার মহিম উদ্দিন কিনেছেন।
পরে জানতে চাওয়া হয়, আসমা ইউনিয়নের কৃষকরা যদি নিজ ইউনিয়নে সার না পেয়ে বারহাট্টা সদর ইউনিয়নে এসে যানবাহন ভাড়া করে সার কিনতে বাধ্য হন, তাহলে এতে কৃষকদের বাড়তি ভোগান্তি ও খরচের বিষয়টি কীভাবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এক ইউনিয়নের ডিলারের জন্য বরাদ্দ করা সার অন্য ইউনিয়নের ডিলার কিনতে পারেন কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে চান তিনি।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা। এ সংক্রান্ত বক্তব্যের রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।
এ সময় কৃষি অফিসের কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান কৃষি কর্মকর্তার সামনে সাংবাদিককে তথ্য সংগ্রহ করতে আসতে পারবেন না বলে নিষেধ করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকের উপর চড়াও হন এবং তথ্য সংগ্রহের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন।
পরে বিষয়টি নিয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এক ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সার অন্য ইউনিয়নের ডিলার কেনার বিষয় এবং এতে কৃষকদের ভোগান্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি কৃষি বিভাগের আওতাধীন। এ বিষয়ে তিনি সাক্ষাতে কথা বলবেন।
সাংবাদিকরা কৃষি অফিসে তথ্য জানতে গিয়ে খারাপ আচরণের শিকার হওয়ার বিষয়টি ইউএনওকে জানালে তিনি প্রতিবেদককে আগামী রোববার অফিসে এসে এ বিষয়ে কথা বলতে বলেন।
এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, আমন মৌসুমে প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়া এবং বেশি দামে সার কিনতে হওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থে সার সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সার সংকট, ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দের সার অন্যত্র রাখা এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে কৃষি বিভাগের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও কার্যকর পদক্ষেপ চান ভুক্তভোগী কৃষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ