প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী, সরকারি বাহিনী এবং সউদী জোটের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক সূত্রের মাধ্যমে এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দুটি প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সরকারি সেনাদের মধ্যে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হুথি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সউদী জোটের বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে তাদের অন্তত ৪০ জন যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন।
সম্প্রতি সউদী আরবের মক্কা নগরীর দিকে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের অভিযোগের পর সংঘাতের তীব্রতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সউদীর ত্বায়েফ নগরীতে একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর তার ধ্বংসাবশেষের কারণে এক ইয়েমেনি নাগরিকের মৃত্যু এবং দুজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর এটি সউদী আরবের ভূখণ্ডে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। অন্যদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত ‘আল মাসিরা’ টিভি জানিয়েছে, ‘সউদী-সমর্থিত বাহিনী’র হামলায় ৩ শিশু নিহত হয়েছে। তাইজ প্রদেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে বিমান হামলায় এক সাধারণ নাগরিকও প্রাণ হারান। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই তীব্র লড়াইয়ের কারণে ইতোমধ্যে ১ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হুথিরা লোহিত সাগরের পুরো ইয়েমেন উপকূল নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে এবং বাব আল-মানদে প্রণালী অবরুদ্ধ করার হুমকি দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘ইরানের ওপর আবারও বড় পরিসরে আক্রমণ চালাব, নাকি এটি এখানেই থামাবÑসে বিষয়ে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। আমার পক্ষ থেকে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।’ তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প।
সউদীর কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সউদী আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তিটির মূল্য প্রায় ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান, ৪৯টি এফ-১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি কংগ্রেসের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিক্রয় সউদী আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে এবং দেশটির সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সামরিক সমন্বয় জোরদার করবে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এটি ভূমিকা রাখবে বলেও ওয়াশিংটন জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এফ-৩৫ বিক্রি হলেও এতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসবে না। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তুলনায় ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতার প্রাধান্য বজায় রাখার দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে শুধুমাত্র ইসরাইলই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ভিসা দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানের মূল প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের আয়োজনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ইরানের মূল প্রতিনিধি দলকে অধিবেশনে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের ইরানি প্রতিনিধি দলের আকার সীমিত রাখা হবে। প্রতিনিধি দলের সদস্যদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসবহুল পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বসছে। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের এই বার্ষিক বৈঠকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তদারকি সংক্রান্ত একটি কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পেশ করা খসড়া প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে স্থায়ী দুই সদস্য দেশ রাশিয়া ও চীন। এর ফলে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়ে গেছে। নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র এই খসড়া প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। তবে শুরু থেকেই প্রস্তাবের কড়া বিরোধিতা করে আসছিল মস্কো ও বেইজিং। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তথাকথিত ‘স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম’ সক্রিয় করার মার্কিন প্রচেষ্টার বিপক্ষে তাদের শক্ত অবস্থানের কথা জানায় দুই দেশ।
পাকিস্তান বলপ্রয়োগের চেয়ে কূটনীতিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করে পাকিস্তান জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চলমান সংঘাত সমাধানে কোনো প্রকার জোর-জবরদস্তি বা বলপ্রয়োগের বদলে আলোচনা ও কূটনৈতিক মাধ্যমকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার এক সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো প্রকার সামরিক শক্তি প্রয়োগের চক্রে অংশ না নিয়ে বরং অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে চায় পাকিস্তান। তিনি বলেন, “হুতিদেরও সব ধরনের হামলা ও হামলাজনিত কর্মকা- বন্ধ করা উচিত। আমাদের আলোচনা মূলত সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রিক, কোনো চাপ বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়।” তবে সউদী আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এই মুখপাত্র। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ এবং সম্প্রতি তুরস্কসহ স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’-এর প্রতি নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এই চুক্তিগুলোর আওতায় ইতোমধ্যে সউদীতে সেনা মোতায়েন বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে মোতায়েনকৃত বাহিনীর ধরণ বা অপারেশনাল বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
হরমুজে ফের তেলের ট্যাংকারে হামলা ঘটেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে আবারও একটি বাণিজ্যিক তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রণালীটিতে এটি দ্বিতীয় কোনো ট্যাংকারে হামলার ঘটনা, যা এ অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, টাগোর পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাংকার বেআইনিভাবে প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে তারা সেটিতে আঘাত হানে।
বিশ্ববাজারে আবারও কমলো জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়লেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো দরপতনের পরও ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০১ ডলার বা ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ০৩ ডলার বা ১ শতাংশ কমে ১০০ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবারও দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছিল। সউদী আরব ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলা হলেও বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিকল্প পথে তেল সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হবেÑএমন প্রত্যাশাই সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাকে ছাপিয়ে গেছে। সূত্র : রয়টার্স, আল-জাজিরা, এএফপি, নিউইয়র্ক টাইমস, ডন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন