বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৩ পি.এম
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আগস্ট মাসে দেশের সীমান্ত এলাকা এবং অন্যান্য স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মোট ৩৪৭ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার চোরাচালান পণ্যসামগ্রী, অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগস্ট মাসে বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হওয়া চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৮ কেজি ৫৫৪ গ্রাম স্বর্ণ, ২১ হাজার ৬৪৬টি শাড়ি, ৩ হাজার ৯৬২টি থ্রিপিস ও চাদর, ৫ হাজার ১৫৪টি তৈরি পোশাক, ৬ লাখের বেশি কসমেটিক্স সামগ্রী, ১০ লাখ ৪০ হাজার পিস আতশবাজি, ৪১৮টি মোবাইল ফোন এবং প্রচুর পরিমাণ কাঠ, কয়লা ও সার।
এছাড়া, অভিযানে বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য ও মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৫ লাখ ৯৩ হাজার ৮৬৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১ হাজার ৩৭১ বোতল ফেনসিডিল, ৭ হাজার ৬৩৬ বোতল বিদেশি মদ, ১ হাজার ৮৬৩ কেজির বেশি গাঁজা এবং ১ লাখ ২৬ হাজার প্যাকেটের বেশি বিড়ি-সিগারেট।
সীমান্ত সুরক্ষা এবং চোরাচালানবিরোধী এই অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১৪টি দেশি-বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন এবং ৭৪ রাউন্ড গোলাবারুদ।
পাশাপাশি, চোরাচালানে ব্যবহৃত বিভিন্ন যানবাহন যেমন ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, সিএনজি, মোটরসাইকেল এবং নৌকাসহ অন্যান্য যানবাহনও জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, গত এক মাসে চোরাচালান ও মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২০ জন চোরাচালানিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৩৭ জন বাংলাদেশি, ৬ জন ভারতীয় এবং ১৮৮ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যথাযথ ব্যয় প্রাক্কলন না করা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল মনিটরিং এবং জবাবদিহির অভাবসহ বিভিন্ন কারণ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
জাতীয় সংসদের বৈঠক বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শুরুতে লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটিমাত্র কারণে হয় না— বরং প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত করার উদ্যোগ রয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনসংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে সংশোধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বাড়ানো হয়েছে।
ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান।
তিনি বলেন, যেসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি, সেগুলোর বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ পর্যালোচনা করে বিলম্বের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেসব প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন কিংবা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি ব্যবহারের সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করেন।
প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদের কার্যক্রম চলছে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) মডেলে প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা এবং সরকারি ক্রয় আরো প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মহাখালী কলেরা হাসপাতালের পাশে একটি রঙের দোকানে আগুন লেগেছে।
বুধবার দুপুর ৩টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ।
তিনি বলেন, দুপুর ২টার পরে কলেরা হাসপাতালের পাশে একটি রঙের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।
ডিউটি অফিসার জানান, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং অপরিকল্পিতভাবে ফুটপাথ ও সাইকেল লেন নির্মাণ বন্ধের দাবিতে ‘জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলন’-এর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন কমিটির (টিএমসি) সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই প্রায় ২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ, ফুটপাথ ও পৃথক সাইকেল লেন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার প্রকল্পটির উদ্বোধনের কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়।
মানববন্ধনে ‘জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলন’-এর অন্যতম সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিস বলেন, ‘উন্নয়নের নামে এরই মধ্যে প্রায় ৩ হাজার গাছ কাটা পড়েছে এবং অসংখ্য লেক ও জলাধার ভরাট হয়েছে। এর ফলে ক্যাম্পাসের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং লেক শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
তাই প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার স্বার্থে একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি আরো বলেন, ‘মানববন্ধনের খবর পেয়ে প্রশাসন প্রায় ২৫ কোটি টাকার ফুটপাত ও রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন স্থগিত করেছে। সাত বছরের আন্দোলনের ফলে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের জন্য আর্থিক সংকুলান ও টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাই নতুন কোনো খণ্ডিত উন্নয়নকাজ শুরুর আগে মাস্টারপ্ল্যানের কাজ দৃশ্যমান করতে হবে।
জেনিসের দাবি, ফুটপাত ও সড়ক নির্মাণের এই পরিকল্পনাটি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন কোনো সামগ্রিক পরিকল্পনা ছাড়াই সেটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তার ভাষ্য, কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যকর হবে না।
মানববন্ধনের সমাপনী বক্তব্যে অদ্রি অংকুর বলেন, মূল সড়ক ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে নতুন কলা ভবন নির্মাণের ফলে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সড়ক বন্ধ রাখতে হয়। এটি প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, টিএসসি-সংলগ্ন পুকুর ভরাটের কারণে বর্ষাকালে ক্যাম্পাসে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তার মতে, ক্যাম্পাসের জলাধার, গাছপালা ও সড়কব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে খণ্ডিত ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন এসব প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ ছাড়া, পৃথক ও সামগ্রিক পরিবেশগত মূল্যায়ন ছাড়া কোনো সড়ক প্রশস্তকরণ বা ফুটপাত নির্মাণ না করার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের বিভাগীয় সম্প্রসারণ, আবাসন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি সামগ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের দাবি জানান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার দুইজন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১১৯ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬৯ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৯০৪ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৯০২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত হামে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ