১১:০৯ এম
ইবোলা মহামারির বিপদের মধ্যেও এবং চরম সংকটের পরিবেশের মাঝে বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ারে ভেসে উঠেছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফুটবল পরাশক্তি পর্তুগালের বিরুদ্ধে ইয়োয়ান উইসার সমতাসূচক গোল দিয়ে দেশটিকে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং একঝাঁক তারকা সমৃদ্ধ শক্তিশালী পর্তুগালের বিপক্ষে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার পর কঙ্গোর রাজপথ রূপ নেয় উৎসবের নগরীতে। এমনকি ইবোলা মহামারীর সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় থাকা দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়াতেও মানুষ সাময়িক সময়ের জন্য সব দুঃখ ভুলে উল্লাসে মেতে ওঠে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায় যে ১৯৭৪ বিশ্বকাপে 'জায়ার' নামে অংশ নিয়েছিল ডিআর কঙ্গো। তবে সেবার তারা কোনো গোল করতে না পারার পাশাপাশি ১৪টি গোল হজম করেছিল। তবে এবারের গোলটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা উইসারের জন্য বিশ্বমঞ্চে প্রথম গোলের স্বাদ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম পয়েন্টও এনে দেয়। ম্যাচের আগে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করছিলেন কঙ্গো কত গোলে হারবে, কিন্তু ম্যাচ শেষে ডিআর কঙ্গোর ফরাসি কোচ সেবাস্টিয়ান দেসাব্রে গর্বিত কণ্ঠে জানান যে ছেলেরা কঙ্গোকে বিশ্বমঞ্চে দারুণভাবে তুলে ধরেছে এবং পুরো দেশের মানুষের এই আনন্দ প্রাপ্য ছিল।
কোচের এই কথার সত্যতা সবচেয়ে বেশি সমর্থিত হয়েছে বুনিয়াতে, যেখানে কঙ্গোর ইবোলা মহামারীর কেন্দ্রস্থল। সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কঙ্গো এবং উগান্ডা মিলিয়ে ৮৩৭ জন এই রক্তক্ষরণকারী জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৯৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বুনিয়াতে ২১৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই চরম সংকটের মধ্যেও টেলিভিশনের সামনে বিশ্বকাপ দেখাটাই ছিল বুনিয়াবাসীর জন্য একমাত্র মানসিক স্বস্তি। উইসারের গোলের পর জীর্ণ দোকানগুলোর সামনে জটলা পাকানো তরুণরা দুই হাত উঁচিয়ে লাফাতে শুরু করে এবং রাজপথে মোটরবাইকের নানা কসরত ও তীব্র হর্নের আওয়াজে মুহূর্তেই তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
আরও পড়ুন: রিজভী: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার
ইবোলার সংক্রমণ ঠেকাতে মে মাসের শেষদিকে প্রশাসন যেকোনো জমায়েতে সর্বোচ্চ ৫০ জনের সীমা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু এই ঐতিহাসিক আনন্দের দিনে বারের উপচে পড়া ভিড়ের সামনে সেই নিয়ম খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে। উচ্ছ্বসিত স্থানীয় অধিবাসী আন্তোয়ানেত মাকাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, "নিজের দেশের পক্ষে গলা ফাটাতে পারাটা একটা গর্বের বিষয়।" তবে সামাজিক দূরত্বের বালাই না থাকার কারণে কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরো যোগ করেন, "ম্যাচ শেষে বাড়ি ফিরেই আগে নিজেকে ভালোমতো জীবাণুমুক্ত করতে হবে।" সবমিলিয়ে মহামারি এবং মৃত্যুর ভীতির মাঝেও ফুটবল যেন কঙ্গোবাসীকে ফিরিয়ে দিয়েছে বেঁচে থাকার অনাবিল আনন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন