ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত


ইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে।

বৈঠকটি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে শুরু হয়।

বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ইসি সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে মারধরের অভিযোগ

অন্যদিকে, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশগ্রহণ করছে।

এতে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক কারবারি জামাই-শাশুড়ি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নড়াইল প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক কারবারি জামাই-শাশুড়ি গ্রেফতার

নড়াইলে এক কেজি গাঁজা ও ইয়াবাসহ জামাই-শাশুড়ি গ্রেফতার

শ্বশুর-শাশুড়ি ও জামাইয়ের মাদকসম্রাজ্য, প্রায় ৬ বছর ধরে করছেন মাদক বেচাকেনা

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পাঁচুড়িয়া গ্রাম থেকে এক কেজি গাঁজা ও ১০১ পিস ইয়াবাসহ জামাই ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে পাঁচুড়িয়া গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে মাদক কারবারি জামাই এবং শাশুড়িকে আটক করা হয়। আজ মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শাশুড়ি সীমা বেগম (৩৮) এবং জামাই রাসেল শেখ (২১) রয়েছেন। সীমা বেগম পাঁচুড়িয়া গ্রামের ইউসুফ শেখের স্ত্রী এবং জামাই রাসেল শেখ একই উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের পুত্র।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর নড়াইলের উপপরিচালক গোলক মজুমদার জানিয়েছেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে নড়াইলের পাঁচুড়িয়া গ্রামের ইউসুফ শেখের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাদের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি গাঁজা ও ১০১ পিস ইয়াবাসহ সীমা বেগম এবং তার জামাই রাসেল শেখকে আটক করা হয়। পরিদর্শক আব্দুল মান্নান এদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। উল্লেখ্য, প্রায় দুই মাস আগে সীমার স্বামী ইউসুফ শেখ মাদক মামলায় কারাগারে গেছেন।

ডিএনসি’র উপপরিচালক গোলক মজুমদার আরও জানান, ইউসুফ শেখ লোহাগড়া উপজেলার একজন পরিচিত মাদক কারবারি। স্বামী কারাগারে থাকায় শাশুড়ি ও জামাই মিলে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এই তিনজন মিলে প্রায় ছয় বছর ধরে মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বঙ্গবীর সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৮ পি.এম


মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বঙ্গবীর সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যাদের নাম চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী (এম এ জি ওসমানী)। বাঙালির কাছে তিনি বঙ্গবীর নামে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধকে একটি সুসংগঠিত সামরিক শক্তিতে রূপ দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব প্রদান করেন। আজ ১ সেপ্টেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে।

১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী ওসমানী ছিলেন অসাধারণ মেধাবী ও দক্ষ সামরিক কর্মকর্তা। ১৯৩৪ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় তিনি সমগ্র ব্রিটিশ ভারতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে তিনি তাঁর সামরিক জীবন শুরু করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি বার্মা রণাঙ্গনে দায়িত্ব পালন করেন। ভারত ভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক জীবনে তিনি জেনারেল স্টাফ ও সামরিক পরিচালনাসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই সামরিক নেতৃত্ব

১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে বাঙালির প্রতিরোধ সশস্ত্র যুদ্ধে রূপ নেয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিরোধ গড়ে উঠলেও একটি কেন্দ্রীয় সামরিক নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল।

ওসমানী সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। এপ্রিল মাসে তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকে তাকে মুক্তিবাহিনীর সর্বময় সামরিক নেতৃত্ব দেওয়া হয়। পরে মুজিবনগর সরকার তাঁকে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়।

তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক কাঠামো সুসংগঠিত হয়। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। সেক্টর ও সাব-সেক্টরগুলোর মধ্যে সমন্বয়, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ এবং গেরিলা অভিযান পরিচালনায় তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

ওসমানী বুঝতে পেরেছিলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর মতো শক্তিশালী ও সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শুধু প্রচলিত যুদ্ধ করে টিকে থাকা কঠিন। তাই গেরিলা যুদ্ধের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাকিস্তানি বাহিনীর যোগাযোগব্যবস্থা, সরবরাহব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত করার কৌশল গ্রহণ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে নৌ-কমান্ডো বাহিনী এবং সীমিত বিমান সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়। ফলে স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি নদীপথ ও আকাশপথেও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি হয়।

বিজয়ের শেষ প্রান্তে

নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনী ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধের পাশাপাশি ডিসেম্বরের শুরুতে ভারতের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ যুদ্ধের গতি আরও দ্রুত বদলে দেয়। ভারত ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়ের মাত্র ১৩ দিন আগে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়।

এরপর ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনী পূর্বাঞ্চলে যৌথভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। ঢাকার চারপাশে পাকিস্তানি বাহিনী কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড আত্মসমর্পণ করে।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ছিলেন না ওসমানী

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজি এবং বিজয়ী যৌথ বাহিনীর পক্ষে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। দলিলেই অরোরাকে ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় যৌথ কমান্ডের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তার অনুপস্থিতি আজও ইতিহাসের একটি আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায়।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর তৎকালীন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব পরে দাবি করেন, ওসমানীকে বহনকারী হেলিকপ্টার গুলিবর্ষণের মুখে পড়েছিল। এতে হেলিকপ্টারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি সময়মতো ঢাকায় পৌঁছাতে পারেননি। জ্যাকবের ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণেই ওসমানী আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি।

তবে এ ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন মতও রয়েছে। কিছু গবেষণা ও লেখায় দাবি করা হয়েছে, ওসমানীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারতীয় সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং তাকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না দেওয়ার পেছনে ভারতের পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে জনমনে দীর্ঘদিন ধরেই আক্ষেপ ও ক্ষোভ রয়েছে।

তবে নিশ্চিত ইতিহাস হলো—আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ওসমানী ছিলেন না এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর উপপ্রধান এ কে খন্দকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আত্মসমর্পণ কি শুধু ভারতের কাছে?

এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আত্মসমর্পণের দলিলে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড বাংলাদেশে অবস্থানরত সব পাকিস্তানি স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র বাহিনীকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণের কথা বলা হয়েছে। একই দলিলে অরোরাকে ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় যৌথ কমান্ডের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বরের আত্মসমর্পণ ছিল ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ। তবে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আয়োজন ও নেতৃত্বে ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা ছিল প্রধান। লেফটেন্যান্ট জেনারেল অরোরাই বিজয়ী পক্ষের হয়ে দলিলে স্বাক্ষর করেন।

এ কারণেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ওসমানীর অনুপস্থিতি নিয়ে পরবর্তী সময়ে নানা প্রশ্ন ও আক্ষেপ তৈরি হয়। স্বাধীনতার জন্য নয় মাস যুদ্ধ করা বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধান সামরিক নেতার উপস্থিতি বিজয়ের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে থাকলে বাংলাদেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীকী উপস্থিতি আরও স্পষ্ট হতো—এমন মতও রয়েছে।

বঙ্গবীর হয়ে ওঠার গল্প

ওসমানীর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল একটি সদ্যোজাত জাতির বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধকে একটি সুসংগঠিত সামরিক কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসা। তিনি শুধু যুদ্ধের নির্দেশদাতা ছিলেন না; মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, যুদ্ধক্ষেত্রের সমন্বয়, সেক্টরভিত্তিক অভিযান এবং গেরিলা কৌশলকে কার্যকর করার ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিয়েছেন।

একদিকে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধ, অন্যদিকে গেরিলা আক্রমণ—দুই কৌশলের সমন্বয় ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নেওয়া হয়। তার নেতৃত্বেই মুক্তিবাহিনী ধীরে ধীরে একটি সংগঠিত সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ওসমানীকে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর জেনারেল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৭২ সালে সামরিক দায়িত্ব থেকে অবসর নিয়ে তিনি সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। পরে রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।

১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এই মহান সামরিক নেতা। পরে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

আজও বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে তার নাম উচ্চারিত হয় গভীর শ্রদ্ধায়। একজন মেধাবী তরুণ থেকে ব্রিটিশ-ভারতীয় ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি—জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জীবন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে।

তিনি ছিলেন সেই ‘বঙ্গবীর’, যিনি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা লাখো মুক্তিযোদ্ধাকে একটি সামরিক কাঠামোর অধীনে সংগঠিত করেছিলেন। তার নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি—একটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম।

সূত্র: বাসস, উইকিসংকলন, মুক্তিযুদ্ধ ই আর্কাইভ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মক্কা জোটে যুক্ত হওয়ার আগে পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করছে বাংলাদেশ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৯ পি.এম


‘মক্কা জোটে যুক্ত হওয়ার আগে পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করছে বাংলাদেশ’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মক্কা জোটে যুক্ত হওয়ার আগে পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করছে।

তিনি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আইপিইউ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশগ্রহণের আগে বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি অনুসরণ করা হয়। তিনি বলেন, "এখানে যুক্ত হলে বাংলাদেশের কি সুবিধা, জনগণের কি লাভ সেটা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।" তিনি আরও জানান, জোটে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যোগদানের জন্য এখনও কোন আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসেনি। তবে তিনি বলেন, "এটা উন্মুক্ত আছে, দেখা যাক।"

এর আগে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকের সময় আইপিইউ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রাকে স্বাগত জানায়।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, আইপিইউ মহাসচিবের সফর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, তরুণ সংসদের উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সার্জিও গোরের মন্তব্য আগের চুক্তিকে কেন্দ্র করে হতে পারে বলেও তিনি জানান।

এছাড়া, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামগুলোর সমর্থন আদায়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪৫ বছর পর মিলল মোজাফফরের ফোনে জিয়া হত্যার নতুন তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ পি.এম


৪৫ বছর পর মিলল মোজাফফরের ফোনে জিয়া হত্যার নতুন তথ্য

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নতুন তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা, যিনি এই তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন শেষে জানান, এবার অনেক অমীমাংসিত রহস্যের সমাধান হবে। মোজাফফরের ফোন এই ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গত ১৫ জুলাই রাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যার সাথে জড়িত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।

ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলোর ভিত্তিতে জানা যায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যার সময় মোজাফফর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর ওই কক্ষে নথিপত্র তল্লাশি এবং মরদেহ সরানোর কাজে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তার গ্রেপ্তারের পর অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা জানার জন্য অনুসন্ধান চলছে। ডিজিটাল এভিডেন্সের খোঁজও চলছে। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে নতুন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন বিশেষ প্রসিকিউটর।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, "জিয়াউর রহমানের মৃত্যুটা নিয়ে কিন্তু এখনো অনেক রহস্য রয়েছে। সে রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে মোজাফফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কারণ, তার সঙ্গে দেশের ভেতর এবং দেশের বাইরের বেশ কিছু লোকের যোগাযোগ আমরা পেয়েছি। তারা আসলে কেউ রাষ্ট্রীয় কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, কেনইবা এতদিন পর মোজাফফরের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন এবং কীভাবে মোজাফফর বাংলাদেশে প্রবেশ করল, কোন কারণে তিনি প্রবেশ করেছেন, কার পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি থেকেছেন, কার ছত্রচ্ছায়ায় তিনি ব্যাংকে বিভিন্ন লেনদেন করেছেন সবকিছুই আমরা তদন্তের আওতায় আনছি।"

জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পর সেনানিবাসে ফিরে আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে দৃশ্যমান উচ্ছ্বাস ছিল। সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন মেজর জেনারেল মঞ্জুর। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে দিয়েছিল, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

বিশেষ প্রসিকিউটর বলেন, "কেন তৎকালীন প্রশাসক তাকে সেনা হেফাজতে নিয়েছিলেন, কোন আইনের বলে যেহেতু এটা একটি সিভিল হত্যাকাণ্ড, সিভিল এলাকায় মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তাকে কারা নিয়ে গেল এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর খবর সেখানে কীভাবে নিশ্চিত করা হলো, তার পোস্টমর্টেম কে করেছিলেন এবং সেখানে যে গুলি করা হয়েছিল, সেই তথ্য থাকলেও কমিশন তা নির্ণয় করতে পারেনি। আসলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিল এবং মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত।"

তিনি আরও বলেন, "তবে আশা করি, সেই সময়কার জীবিত যেসব সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন অথবা তার ইমিডিয়েট জুনিয়ররা যারা রয়েছেন, সেই সঙ্গে গোয়েন্দা ও অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে রিপোর্টগুলো রয়েছে সবকিছুর সমন্বয়ে আমরা হয়তো এই মৃত্যুর কারণ কী ছিল, তা বের করতে পারব। এই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা কী চেয়েছিল, সেটিও তদন্ত করা হবে।"

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রেসিডেন্টের পক্ষে একটি সিক্রেট পেপার তারা খোঁজার চেষ্টা করেছিল, এ মর্মে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেই সিক্রেট পেপারটি আসলে কী এবং তাকে হত্যা করার পর সে বিষয়টি নিয়ে কেন তাদের এত আগ্রহ ছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির এবং ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%