১২:২৫ এম
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তথ্যের গোপনীয়তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সম্মতি জোরদার করা এবং সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে ‘এআই এন্ড গর্ভনেন্স: গ্লোবাল টেকনোলজি আর্কিটেকচার, ন্যাশনাল ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাসটাকচার এন্ড পলিসি ডিরেকটিভস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন আর কেবল প্রযুক্তির বিষয় নয়, এটি জাতীয় সক্ষমতা, সুশাসন, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে। জনগণের সম্মতি, সচেতনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধীরে ধীরে এআই গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি সেবাকে আরও দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে হবে।
তিনি বললেন, বাংলাদেশে মেধাবী ও দক্ষ মানুষের পাশাপাশি রয়েছে বিশাল জনসংখ্যা এবং অপার সম্ভাবনা।
তবে শুধু মেধা থাকলেই জাতীয় সক্ষমতা তৈরি হয় না। মেধাকে প্রযুক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে, প্রযুক্তিকে দিতে হবে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত আই ইকোসিস্টেম।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ, তবুও মেধা, গবেষণা, পুঁজি, বিশ্ববিদ্যালয় ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমকে সমন্বিত করে এর আকারের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তিগত প্রভাব তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
জনপ্রশাসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের এআই রূপান্তরের প্রথম বড় ক্ষেত্র হওয়া উচিত জনপ্রশাসন। তিনি দাবি করেন, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব যাতে একজন কর্মকর্তাকে তথ্যের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফাইল খুঁজতে কিংবা অন্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে না।
তিনি বলেন, অনুমোদিত সরকারি তথ্যভান্ডারের ওপর ভিত্তি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারী প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে পারে যেমন সংশ্লিষ্ট বিধি, পরিপত্র, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত এবং উৎস সংক্রান্ত তথ্য। এর মাধ্যমে কর্মকর্তাদের সময় সাশ্রয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সরকারি সেবার দক্ষতা বৃদ্ধি সম্ভব।
যুক্তরাজ্য সরকার সরকারি কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশও এ সম্পর্কে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, সরকারি ব্যয়, ক্রয়, নিয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, করব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা ও ফাইল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগ যদি প্রকল্প প্রণয়ন, ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই ও প্রকল্প পর্যবেক্ষণে এআই ব্যবহার করে, তাহলে তা সময় ও সরকারি অর্থের অপচয় কমাতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক ও জেলা পর্যায়ের সেবাকে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করতেও এআই ব্যবহার করা যেতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে তথ্যের গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই-এর জন্য কোন তথ্য কতটুকু এবং কোন স্তরে ব্যবহার বা শেয়ার করা যাবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। প্রতারণার ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তথ্য শ্রেণিবিন্যাস এবং সুস্পষ্ট আইনগত কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
এআই’র প্রভাব জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত ক্ষেত্রেও দ্রুত বিস্তৃতি পাচ্ছে বলেও তিনি জানান। আধুনিক সামরিক ব্যবস্থায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং নির্ভুল অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নত কম্পিউটিং সক্ষমতা, তথ্য এবং অ্যালগরিদম যেসব দেশ নিয়ন্ত্রণ করবে, ভবিষ্যতে তারাই কৌশলগত ভারসাম্যে অধিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে।
ভারত-চীন সীমান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৈন্যের পরিবর্তে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি নজরদারিতে ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং এআই, রোবোটিক্স ও অপটিক্যাল প্রযুক্তি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপুর্ণ কৌশলগত উপাদানে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও ঝুঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে যেমন রান্না করা যায়, তেমনি একটি ঘরও পুড়িয়ে দেওয়া যায়- এআই ঠিক তেমনই। এআই সরকারি সেবার মান বাড়াতে পারে, আবার নতুন ঝুঁকি ও বৈষম্যও তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার হতে হবে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী।’
তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কর্মসংস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে, তবে অদক্ষতা শুধু কর্মসংস্থান রক্ষার জন্য ধরে রাখা উচিত নয়। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এআই-সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করা, মানুষবিহীন সরকার নয়। প্রযুক্তির সঙ্গে কর্মসংস্থানের ভারসাম্য বজায় রেখে একটি গ্রহণযোগ্য ও জনকল্যাণমুখী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি বলেন, এআই’র অগ্রযাত্রা থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তবে আইন, নীতিমালা, নিরাপত্তা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে এআই’র ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করে জনগণের কল্যাণে এর সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই জনগণের সম্মতি ও সচেতনতা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে এআই গ্রহণে প্রস্তুতি নিতে হবে।
সেমিনারে বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে ঘাঁটি গেড়ে সাধনা করছেন নারী লাভলী শাহ ফকির রানী
এতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি এবং আইসিটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভের চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট আশফাক জামান একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
উপস্থাপনার পর একটি উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে অংশগ্রহণকারীরা এআই-এর সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ, এআই-সংক্রান্ত নীতিমালা এবং মানদণ্ড প্রণয়নে স্থানীয় চাহিদার ভূমিকা এবং সাইবার কার্যক্রম ও আধুনিক যুদ্ধে এআই-এর ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন