মাইদুল ইসলাম মামুন নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৯ পি.এম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মামনি মার্কেটের আরাফাত টি স্টোরে গ্যাসের সিলিন্ডারের পাইপ লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে দোকানদারের সাহসিকতা ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে মার্কেটটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে আরাফাত টি স্টোরে থাকা একটি গ্যাসের সিলিন্ডারের পাইপ হঠাৎ লিক হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
দোকানদার মো. জয়নাল আবেদীন জানান, ঘটনার সময় তিনি দোকানের ভেতরে কাজ করছিলেন। হঠাৎ গ্যাসের সিলিন্ডারের পাইপ লিক হয়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। তিনি প্রথমে দোকানের ভেতর থেকেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নিয়ে আসেন।
জয়নাল আবেদীন বলেন,হঠাৎ করে আগুন জ্বলে ওঠায় আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও পারিনি। পরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নিয়ে আসি। তখন খুব চিন্তায় ছিলাম এই বুঝি আমার জীবনের সম্বলটুকু শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পাশের দোকানদার মো. রিপন বলেন, হঠাৎ পাশের দোকানে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে তিনি দ্রুত সেখানে ছুটে যান। পরিস্থিতি দেখে দোকানদারকে যেকোনোভাবে জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে দোকানদার জয়নাল আবেদীন ঝুঁকি নিয়ে সিলিন্ডারটি বাইরে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের প্রধান মোফাজ্জল জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা দেখতে পান গ্যাসের সিলিন্ডারে আগুন জ্বলছে। পরে ভেজা চটের বস্তা ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে সিলিন্ডারটি নিরাপদ করা হয়।
তিনি জানান, জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নিয়ে আসায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে আগুন আশপাশের দোকান বা মার্কেটে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সময়মতো জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নেওয়া না হলে আগুন পাশের দোকানগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারত। তবে দোকানদারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের সিলিন্ডারের সংযোগকারী পাইপ লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে একই ঘর থেকে পুলিশ প্রবাসী এক ব্যক্তির, তার স্ত্রী এবং দেড় বছর বয়সী কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে, পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রী ও কন্যাকে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহত স্ত্রীর পরিবারের দাবি, এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ড।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহিরচর এলাকার জান্নাকান্দি গ্রামের একটি বন্ধ ঘর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, প্রবাসী একরাম হোসেন (৪০), তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) এবং তাদের দেড় বছর বয়সী কন্যাশিশু।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একরাম হোসেন প্রায় দুই মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর থেকে তিনি অনেকটা ঘরবন্দি অবস্থায় ছিলেন। শনিবার সকালের দিকে পরিবারের সদস্যরা তাদের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ঘরের কাছে যান। পরে ঘরের জানালার পাশে টিনের বেড়া কেটে দেখতে পান, ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে একরামের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় এবং মেঝেতে তার স্ত্রী ও শিশুকন্যার মরদেহ পড়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, প্রথমে প্রিয়াঙ্কার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকেও ইট দিয়ে আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস নিয়ে একরাম আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী আলামিন বলেন, "পাশেই ডেকোরেশনের কাজ করছিলাম। চিল্লাচিল্লির শব্দ পেয়ে এগিয়ে যাই। তখন দেখি ঘরের টিনের বেড়া কাটা। পরে তাকিয়ে দেখি একরাম ভাই ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে আর ভাবী ও তার বাচ্চা নিচে পড়ে আছে।"
স্থানীয় তোফাজ্জল জানান, "রাতে পাশেই বক্স বাজছিল। সকাল ৯টা-১০টার দিকে তাদের ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ঘরের বেড়া কেটে দেখা যায় একজন ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে আর দুজন নিচে পড়ে আছে। তাদের আর্থিক কোনো সমস্যা ছিলো না তবে পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
তবে নিহত প্রিয়াঙ্কা আক্তারের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, এত বড় ঘটনা কেন তাদের দুপুর ১টার দিকে জানানো হলো। তারা বলছেন, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন চক্রান্ত করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
প্রিয়াঙ্কার মা বলেন, "দুই দিন আগেও মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে শুধু বলেছে, স্বামীর বাড়ি থেকে চলে আসবে। তবে আমার মেয়ের সঙ্গে জামাইয়ের কোনো সমস্যা ছিল না। আমার ধারণা, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন চক্রান্ত করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।"
প্রিয়াঙ্কার বাবা মোহাম্মদ মহসিন খান বলেন, "আমার মেয়েকে এই বাড়ির যারা আছে, পুত্রা ঝিয়ারি (প্রিয়াঙ্কার দেবর, ও ননদ), ঝিয়ারির জামাই (ননদের জামাই) ষড়যন্ত্র কইরা মারছে। আমার জামাই (প্রিয়াঙ্কার জামাতা) এর সাথে কোনো অবনতি (অমিল) নাই এটা আমি জানি। আমি ন্যায় বিচার চাই।"
তার দাবি, প্রিয়াঙ্কার সাথে একরামের কোনো সমস্যা ছিল না। একরামের বোনসহ পরিবারের কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলী বলেন, "মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রস্তুতির নানা সমস্যার মধ্যে শনিবার জাপানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ২০তম এশিয়ান গেমস। এই বহুমাত্রিক ক্রীড়া আসরে অলিম্পিকের তুলনায় বেশি সংখ্যক অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করেছেন এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঐক্যের বার্তা প্রদান করা হয়েছে।
তবে নাগোয়ার পালোমা মিজু স্টেডিয়ামের ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মধ্যে বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা ছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে অল্পসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন, যেখানে মূল মঞ্চটি বিশাল হৃদয়ের আকৃতিতে নির্মিত হয়েছিল।
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় উদ্বোধনী আয়োজনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের মার্চ পাস্ট ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ। উপস্থিত দর্শকরা নিজেদের দেশের অ্যাথলেটদের স্টেডিয়ামে আসতে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন।
ইংরেজী বর্ণমালার ক্রমানুসারে বাংলাদেশ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে আফগানিস্তান ও বাহরাইনের পর তৃতীয় স্থানে। বাংলাদেশের শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার প্রিয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন।
এবারের গেমসে ৪৩টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে বাংলাদেশ ২২টিতে অংশগ্রহণ করছে। প্রায় আড়াইশ জনের কন্টিনজেন্ট, যার মধ্যে অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা রয়েছেন।
জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞী স্টেডিয়ামে আসন গ্রহণ করলে তাদের সম্মানজনক অভ্যর্থনা প্রদান করা হয়। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নাগোয়া ও আইচি প্রিফেকচারে আয়োজিত এই আসরে সাতটি খেলায় ২০২৮ অলিম্পিকের জন্য জায়গা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশ্বখ্যাত তারকা ও দ্রুত উঠে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা অংশ নিচ্ছেন।
তবে গেমসের আয়োজনের আগে ধারাবাহিক নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। ১১ হাজারের বেশি অ্যাথলেট ও ৬ হাজার কর্মকর্তা আয়োজকদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেন। তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে গিয়ে আয়োজকদের হিমশিম খেতে হয়।
গত সপ্তাহে রেকর্ড বৃষ্টিতে নাগোয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। পূর্ব জাপানের দিকে এগিয়ে আসা একটি টাইফুন আগামী কয়েক দিনে আরও বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) জানিয়েছে, ৪৫টি দেশ ও অঞ্চল অংশগ্রহণ করছে এবং এই প্রধান ক্রীড়া আসরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে ওসিএ সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানি বলেন, “উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বার্তা হলো, এশিয়ার বিভিন্ন সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সংঘাতের বিরুদ্ধে এশিয়ার ঐক্য দেখানো ও তুলে ধরা।”
যদিও আয়োজকেরা দাবি করেছেন সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, তবুও স্টেডিয়ামের সারি সারি আসন ফাঁকা ছিল।
স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় স্বাভাবিকভাবেই স্বাগতিক জাপানের অ্যাথলেটদের বিশাল বহরের দিকে সকলের নজর ছিল। দর্শকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিবাদন পেয়েছেন চীনের প্রতিযোগীরা।
২০২৩ সালে কোভিডের কারণে বিলম্বিত সর্বশেষ হাংঝু এশিয়ান গেমসে নিজেদের মাটিতে ২০১টি স্বর্ণসহ মোট ৩৮৩টি পদক জিতেছিল চীন। এবারও পদক তালিকায় শীর্ষে থাকার প্রত্যাশা তাদের।
বাস্কেটবল, ফুটবল ও ক্রিকেটসহ কয়েকটি খেলা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
১৯৫১ সালে শুরু হওয়া এশিয়ান গেমসে বরাবরের মতোই অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারের মতো অলিম্পিকের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোর পাশাপাশি সেপাক টাকরো ও কাবাডির মতো আঞ্চলিক জনপ্রিয় খেলাও থাকবে।
থাকছে ই-স্পোর্টস, ব্রেকড্যান্সিং ও বিএমএক্স সাইক্লিং। প্যাডেল ও এমএমএ প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে যুক্ত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বদলির পর, একই জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. সরোয়ার হোসাইনকেও বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া, একই পদমর্যাদার আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তাকেও বদলি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির একটি অফিস আদেশে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আদেশের ভিত্তিতে, গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার হোসাইনকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডেমরা-জোনাল টিম), গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পীকে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিএমপির ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালাইসিস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলামকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিরপুর জোন), মিরপুর বিভাগে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি, মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফারজিনা নাসরিনকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পল্লবী জোনাল টিম), গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চার কর্মকর্তাকে তাদের নামের পাশে উল্লেখিত পদে ও কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় পাঁচ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ বলে দাবি করে প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রূপনারায়নপুর (শল্পী বাজার) এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনের কাছে মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকালে রূপনারায়নপুর এলাকার আব্দুর সোবহানের মাত্র পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে একই এলাকার সাইদুল ইসলামের স্ত্রী মঞ্জুআরা মারধর করেন। বিষয়টি ছেলের মা ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও শিশু নির্যাতনের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে সেটি অল্প সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। বক্তারা আরও জানান, আসলে এটি কোনো শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল না। মজার বশে ছেলের মা ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন। পরে সেটি নির্যাতনের নামে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর শিশুর বাবা আব্দুর সোবহান বাদি হয়ে একই এলাকার সাইদুল ইসলাম, তার স্ত্রী মঞ্জুআরা বেগম এবং ছেলে মিনহাজ নামে তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। এলাকাবাসিরা মনে করেন, তাদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি সঠিক নয়। তাদের দাবি, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে এবং এতে সংশ্লিষ্ট পরিবার সামাজিকভাবে হয়রানি ও নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
এ সময় আমজাদ হোসেন বলেন, শিশু নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তাই কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সামাজিকভাবে হেয় বা হয়রানি না করার আহ্বান জানান তারা।
মামলার আসামির ছেলে মুকিত বলেন, “আমরা কোনো অন্যায়কে সমর্থন করি না। তবে নিরপরাধ কেউ যেন মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।”
এ সময় রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমরা মানববন্ধনে এলাকাবাসি একসঙ্গে উপস্থিত হয়েছি। সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশু নির্যাতনের নামে করা মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। এছাড়াও মিথ্যা মামলার প্রত্যাহারের দাবিতে বক্তব্য রাখেন, একই এলাকার রানা, মুকিত, আব্দুল জোব্বার, হুসনেআরা, মিম্মা আক্তার, আমজাদ হোসেন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ