০৬:৫৯ পি.এম
ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে জেন-জি নেতৃত্বাধীন অনলাইন আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার সকালে এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ ভারতে এসে দিল্লির জন্তর মন্তরে এক বিশাল বিক্ষোভের ডাক দেন।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশকে সমর্থন জানাতে বিপুল সংখ্যক সমর্থক সমবেত হয়েছিলেন দিল্লির জন্তর মন্তরে। ছবি: সংগৃহীত।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
এ সময় পরীক্ষাসংক্রান্ত ও নিয়োগ সংক্রান্ত কথিত ত্রুটির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ সিজেপির সমর্থকরা ৫টি দাবি জানান।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বহু তরুণ-তরুণী যোগদান করে।
‘বন্ধুরা, এটা একটা দীর্ঘ সংগ্রাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানানোর এক মাস ইতোমধ্যেই পার হয়ে গেছে, কিন্তু এই ব্যক্তিরা এতটাই নির্লজ্জ যে, ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে তারা আমাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা এবং পোস্ট মুছে ফেলার মতো অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছে। আপনারা হয়তো আমাদের পোস্ট মুছে ফেলতে পারবেন, কিন্তু এই জায়গা থেকে আমাদের মুছে ফেলতে পারবেন না।’ সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর খবর অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাতা দীপকে এসব কথা বলেন জনতার উদ্দেশে।
বিক্ষোভকারীরা কী দাবি করছে?
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা আরও কয়েকটি দাবি করেছেন।
যথাযথ প্রশিক্ষণের পরেই শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন:
‘আমরা ব্যাংকিং থেকে শুরু করে শিক্ষা পর্যন্ত সবকিছু ডিজিটালাইজ করছি, কিন্তু আমরা কি ভুল পদ্ধতিগুলো বন্ধ করতে পারছি? উত্তর হলো না। ব্যাংক জালিয়াতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং এখন আমরা শিক্ষাক্ষেত্রেও ডিজিটালাইজেশনের প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। আমি এর বিরুদ্ধে নই, কিন্তু শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রশিক্ষণের পরেই এটি চালু করা উচিত।’ দিল্লিতে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত তিন শিক্ষার্থীর বাবার ভাষায়, ৫০ বছর বয়সী রাধেশ্যাম কাইথাল।
মণিপুরে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম:
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
‘গত তিন বছর ধরে মণিপুরে অস্থিরতা চলছে। স্কুল-কলেজসহ আমার রাজ্যের কোনো কিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে না। সেখানকার ছাত্রছাত্রীরা চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছে।’ বলেন ৩২ বছর বয়সী সমাজ উদ্যোক্তা উইনসন, যিনি অস্থিরতার কারণে দুই বছর আগে মণিপুর ছেড়ে বর্তমানে নয়ডায় কর্মরত।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ন্যায্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা:
‘আমার চাচাতো ভাই পরিবার থেকে দূরে কোটার একটি ছোট্ট ঘরে নিট (এনইইটি)-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার আশা ছিল যে, কোনো নিম্ন-র্যাঙ্কিংয়ের কলেজে সুযোগ পেলেও সে তা গ্রহণ করবে। কিন্তু তারপর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। সে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা জানি না কিভাবে তাকে আবার পরীক্ষায় বসার জন্য উৎসাহিত করব।’ বলেন ৩৪ বছর বয়সী গায়ত্রী সিং, যিনি মূলত রাজস্থানের জয়পুরের বাসিন্দা এবং বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রভাবিত করে এমন বিষয়গুলিতে মনোযোগ:
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
‘আমি অনলাইনে দলটিকে অনুসরণ করছিলাম, কিন্তু বিক্ষোভে আসব কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। সকাল ১০টায় আমি রোহিনীতে অফিসে যাচ্ছিলাম, কিন্তু হঠাৎই ভাবলাম এসে একবার দেখে যাই,’ বলেন দিল্লির ১৮ বছর বয়সী রোনাক কুমার।
‘দলটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমি জানি না, কিন্তু আপাতত তারা এমন সব বিষয় নিয়ে কথা বলছে যা সকলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ—আপনি শিক্ষার্থী হোন বা আপনার সন্তানের শিক্ষা নিয়ে চিন্তিত কোনো অভিভাবক।’ কুমার বলেন।
জবাবদিহিতা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ:
সিজেপি আন্দোলন সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষদের তৃণমূল পর্যায়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, যার মানে হলো তারা এমন সব বিষয় নিয়ে কথা বলছেন যেগুলো নিয়ে মানুষ কোনো না কোনোভাবে নিজেদেরকে মেলাতে পারে। কিছু শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে এবং লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ক্রমাগত মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে, অথচ এর সঠিক জবাবদিহিতা নেই। পেশায় মনোবিজ্ঞানী ৩৮ বছর বয়সী সুগন্ধা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন।
আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের
আরও পড়ুন: বিক্ষোভে যোগ দিতে দেশে ফিরলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা।
এই বিক্ষোভে শত শত মানুষ, যাদের অধিকাংশই তরুণ অংশগ্রহণকারী, সমবেত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই তেলাপোকার মুখোশ পরেছিলেন এবং ফুল হাতে নিয়ে আসেন। বেশ কয়েকজন স্কুলছাত্রও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে এই প্রতিবাদে যোগদান করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন