ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি চালানোর নির্দেশ ব্যাংকগুলোকে


ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি চালানোর নির্দেশ ব্যাংকগুলোকে

ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী তিন মাসের জন্য বিশেষ কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই কর্মসূচির আওতায়, প্রতি শনিবার এডিস মশা নিধনের জন্য বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, শাখা, উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, এটিএম বুথ এবং অন্যান্য স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা সহ সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা, মৌসুমি বৃষ্টিপাত, জমে থাকা পানি এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র বিস্তৃত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উল্লেখ করেছে।

আরও পড়ুন: দ্রুত সময়ে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক দৃশ্যমান হবে: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাস বিশেষ কর্মসূচি পালন করতে হবে। এ সময় প্রতি শনিবার এডিস মশা নিধনে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, শাখা, উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, এটিএম বুথসহ সব স্থাপনা এবং আশপাশের এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হতে পারে—এমন স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সার্কুলারে পরিত্যক্ত ফুলের টব, অব্যবহৃত কৌটা, পুরোনো টায়ার এবং প্লাস্টিকের বোতলসহ যেসব পাত্রে পানি জমতে পারে, সেগুলো ধ্বংস বা অপসারণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভবনের ছাদ, গ্যারেজ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্রিজ, পানির ট্যাংক ও রান্নাঘর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে কোথাও পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার না ঘটে।

ব্যাংকের কার্যালয়ের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক স্থাপনাগুলোতেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাংকের কর্মস্থল ও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ, স্প্রে অথবা কয়েল ব্যবহার করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে গ্রাম, শহর ও নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান—যেমন পৌর সভা ও সিটি করপোরেশনের গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে।

আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘হ্যাপি বার্থডে, মাই প্রিন্সেস মমি’ - অপুর জন্মদিনে আব্রামের শুভেচ্ছা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


‘হ্যাপি বার্থডে, মাই প্রিন্সেস মমি’ - অপুর জন্মদিনে আব্রামের শুভেচ্ছা

আজ ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে তার ছেলে আব্রাম খান জয় মাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে তুলেছে। জন্মদিনের প্রথম প্রহরে মায়ের সঙ্গে কেক কাটার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে ভালোবাসা প্রকাশ করে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছে। ছেলের এই ছোট্ট বার্তা আবেগঘন মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপু বিশ্বাসের জন্মদিন উপলক্ষে ছেলের শুভেচ্ছাবার্তা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে জয় লিখেছে, "হ্যাপি বার্থডে, মাই প্রিন্সেস মমি।" এই বার্তার সঙ্গে সে ভালোবাসার ইমোজি যুক্ত করেছে। ছোট্ট এই বার্তায় সন্তানের মমতা ও ভালোবাসা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

অপু বিশ্বাস ১৯৮৯ সালের ১১ অক্টোবর বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল। নাচ শেখার সূত্র ধরে তিনি একসময় অভিনয়জগতে প্রবেশ করেন। ২০০৫ সালে বরেণ্য নির্মাতা আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘কাল সকালে’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি বড় পর্দায় অভিষেক করেন।

তবে পরবর্তী বছর এফ আই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন অপু। এই সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। এরপর শাকিব-অপু জুটি একের পর এক সিনেমায় বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করে। ধীরে ধীরে তারা ঢালিউডের জনপ্রিয় জুটিগুলোর অন্যতম হয়ে ওঠেন।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অপু বিশ্বাস ‘চাচ্চু’, ‘দাদীমা’, ‘আমার জান আমার প্রাণ’, ‘তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা’, ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’, ‘মায়ের হাতে বেহেশতের চাবি’, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’ ও ‘কোটি টাকার প্রেম’-এর মতো বেশ কিছু আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি অপু বিশ্বাস প্রযোজনাতেও যুক্ত হয়েছেন। ‘লাল শাড়ি’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দুই দশকের অভিনয়জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ঢালিউডে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন এই তারকা।

তবে পর্দার ব্যস্ততা কিংবা তারকাখ্যাতির বাইরেও অপু বিশ্বাসের জীবনে বিশেষ জায়গা দখল করে রেখেছে ছেলে আব্রাম খান জয়। জন্মদিনে ছেলের সঙ্গে কেক কাটার মুহূর্ত এবং ভালোবাসাভরা শুভেচ্ছাবার্তা আবারও মা-ছেলের মধুর সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলাউড়ায় প্রশাসনের ‘অ্যাকশন’! সরকারি খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল ভেকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎আহমেদ আক্তার রানা ‎কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


কুলাউড়ায় প্রশাসনের ‘অ্যাকশন’! সরকারি খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল ভেকু

‎‎মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সরকারি খালের ওপর অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শরীফপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজারে এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে আব্দুল আহাদ মিয়ার নির্মিত স্থাপনা।
রোববার (১১ অক্টোবর) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাসের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সরকারি খালের ওপর নির্মিত স্থাপনাটি অপসারণ করা হয়।
‎সরকারি খাল দখলমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
‎সরকারি খালের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত রাখা, জনস্বার্থ রক্ষা এবং খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় রাখার লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
‎সরকারি সম্পদ দখলমুক্ত করার এ উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে খাল রক্ষা ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ প্রতিরোধের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। সরকারি খাল ও জলাশয় রক্ষায় প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজেপি সরকারের ঘুম হারাম, প্রতিবাদের প্রেতাত্মা তাড়া করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১২ পি.এম


বিজেপি সরকারের ঘুম হারাম, প্রতিবাদের প্রেতাত্মা তাড়া করছে

যে ব্যক্তি ভয় পায়, সে-ই স্লোগানকারীদের লাঠি ও বন্দুকের ভয় দেখাতে চেষ্টা করে। তবুও, স্লোগানগুলি অব্যাহত রয়েছে। সরকার চাইলে বুলেটের ছিপি কানে লাগিয়ে রাখতে পারে, যাতে কিছু শুনতে না পায়, কিন্তু বাকিরা তা স্পষ্টভাবে শুনতে পাচ্ছে।

১০ অক্টোবরের দিল্লির রাজপথের দৃশ্য থেকে একটি বিষয় একেবারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল—ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার জনগণের কাছে আর এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে থাকার সুযোগ পাবে না। এই সরকার ঘুম হারিয়েছে। তারা চারপাশে শুধুমাত্র বিরোধী দেখতে পাচ্ছে। প্রতিবাদের প্রেতাত্মা তাদের তাড়া করছে।

রাস্তার প্রবেশপথগুলোতে উঁচু ব্যারিকেড এবং শত শত পুলিশকর্মীর সজাগ নজর এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া পার হওয়া অসম্ভব ছিল। পুলিশের কাছে সামান্যতম সন্দেহ জাগলেই তাদের ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।

অথবা বলা যায়, হেঁটে যাওয়া প্রতিটি মানুষ যেন পুলিশের কাছে সন্দেহভাজন। আমার ছাত্ররা জানাল, মিন্টো ব্রিজে যখন তারা পকোড়া খাচ্ছিল, তখন পুলিশ তাদের তুলে নিয়ে গেছে। তারা আরও দেখেছে, এক যুবককে পাবলিক টয়লেট থেকে ধরে টেনে-হিঁচড়ে বের করা হচ্ছে, যেখানে সে কেবল প্রাকৃতিক কাজ সারতে গিয়েছিল।

আমরা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাসে থাকি। আমি এবং আমার স্ত্রী ভাবছিলাম কীভাবে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানো যায়। আমরা জানতাম সেখানে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। একই সাথে আমাকে কলকাতার ফ্লাইটও ধরতে হবে, তাই পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ঝুঁকি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কিন্তু আমরা প্রতিবাদের অংশ হতে মুখিয়ে ছিলাম।

আমাদের দিনটি শুরু হয়েছিল এক বন্ধুর বার্তার মাধ্যমে, যে জানতে চেয়েছিল আমরা ঠিক আছি কি না। সে আমাদের আরও কয়েকজন বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিল, যেগুলোর কোনো জবাব মেলেনি। আমি তাকে বললাম, হতে পারে তারা ফোন বন্ধ করে রেখেছে, কারণ পুলিশ পরিচিত সব ভিন্নমতালম্বীদের খুঁজছে।

এরপর এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বন্ধু ফোন করে জানতে চাইলেন যন্তর মন্তরে কীভাবে পৌঁছানো যায়। তিনি বললেন, গাড়ি যদি না চলে, তবে তিনি হেঁটেই যাবেন। কিছুক্ষণ পর আমাদের ফোন বেজে উঠল। ফোন করেছিলেন বিখ্যাত লেখিকা নয়নতারা সহগলের কন্যা গীতা সহগল। তিনি জানতে চাইলেন দিল্লিতে দিনটি কীভাবে এগোচ্ছে। ভারতের এই বিদগ্ধ নারী এই অন্যায়ের দানবের বিরুদ্ধে লড়াইরত তরুণদের আশিস জানাতে ফোন করেছিলেন।

তাহলে আমাদের এখন কী করার ছিল? আমরা জানতাম দিল্লির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ এবং অন্যান্য রাজ্য ও শহরের পুলিশ ইতিমধ্যেই গলিতে গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাস্তায় কোনো তরুণকে দেখলেই পুলিশ তাকে আতশিকাচের নিচে ফেলছে আর ভাবছে—এও কি ১০ তারিখে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যাচ্ছে?

সরকারের চোখে প্রতিটি নাগরিকই ছিল সম্ভাব্য প্রতিবাদী। দিল্লি পুলিশ রাজধানীর রাস্তায় হেঁটে যাওয়া প্রতিটি মানুষের পদচিহ্ন মেপে দেখার চেষ্টা করছিল, তারা যন্তর মন্তরের দিকে মোড় নিচ্ছে কি না। এই মুহূর্তে সরকারের চোখে যেন প্রতিটি মানুষই একজন সম্ভাব্য আন্দোলনকারী।

পুরো দিল্লি শহর যেন একটি সেনাঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, জম্মু-কাশ্মীর এবং ছত্তিশগড় থেকে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ উড়িয়ে আনা হয়েছে। প্রায় ২০,০০০ আধা-সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই দিল্লিতে মোতায়েন ছিল, তার ওপর আরও ১২,০০০ জওয়ান আনা হচ্ছিল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।

যাদের গ্রেপ্তার করা হবে, তাদের আটকে রাখতে ১০টি সাময়িক আটক কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। ওলা এবং উবারের মতো ক্যাব কোম্পানিগুলোকে ১০ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে দিল্লির রাস্তায় গাড়ি না নামাতে বলা হয়েছিল। হোটেলগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কোনো অতিথি যেন না তোলে। শহরের দুটি প্রধান রেল স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়। বন্ধ রাখা হয়েছিল ৫৭টি মেট্রো স্টেশন। প্রায় প্রতিটি রাস্তায় উঠে গিয়েছিল ব্যারিকেড। দোকান ও রেস্তোরাঁগুলো তাড়াতাড়ি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোর পাঠদান অনলাইনে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। কিন্তু ইন্টারনেট ছাড়া এই অনলাইন ক্লাস কীভাবে চলবে? সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর ছিল না। ক্যাম্পাসগুলোর চারপাশে পুলিশের ভারী পাহারা বসানো হয়। সরকারের ভয় ছিল, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। তাই ক্লাস অনলাইনে নিয়ে যাওয়া হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ের চারপাশেও ছিল পুলিশের কড়া পাহারা। এদিকে বেশ কয়েকজন ইউটিউবার অভিযোগ করেন, সরকারের সমর্থনে ভিডিও বানাতে পুলিশ তাদের ফোন করে যন্তর মন্তরে যেতে বলেছে এবং এর জন্য তাদের টাকাও দেওয়া হচ্ছিল।

বিষয়টি পরিষ্কার—সরকার আর দেশের সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করে না। অথবা বলা ভালো, সাধারণ জনগণের ওপর তাদের আর আস্থা নেই। সরকারের অনুগত সমর্থকরা—যাদের অনেকের বিরুদ্ধে অর্থ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে—প্রকাশ্যেই ভিডিও বানাচ্ছিল এবং যন্তর মন্তরের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তারা সরকারের বিরোধীদের ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল।

পুলিশ কেন সহিংসতা সৃষ্টিকারী এই গুন্ডাদের গ্রেপ্তার করছিল না? সাধারণ মানুষকে যারা এই আন্দোলনে যোগ দিতে পারে—কেবল এই সন্দেহে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, অথচ এই দুষ্কৃতীদের দিব্যি ছেড়ে দেওয়া হয়ে ছিল। কারণ কি এই যে তারা পুলিশের অনুগত? এরাই তো তারা, যারা স্লোগান দিচ্ছিল: “দিল্লি পুলিশ লাঠি চালাও, আমরা তোমাদের পাশে আছি।”

তাহলে আজ যারা লাঠি হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা মুক্ত, আর যারা কেবল চিন্তা ও আদর্শে বিশ্বাসী তারা জেলে। শত শত তরুণকে আটক করা হয়েছে; প্রকৃত সংখ্যা হয়তো আরও অনেক বেশি, কারণ পুলিশ যেখানেই যাকে পেয়েছে তুলে নিয়ে গেছে। বহু বাড়িতে পুলিশ গিয়ে আস্তানা গেড়ে বসে রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। কোনো আদালতের নির্দেশ ছাড়াই পুলিশ সদস্যরা ঘরে ঢুকে জাঁকিয়ে বসছে। বিগত ১৩ বছরে এটিই যেন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।

এমনকি আদালতগুলোরও এতে কোনো আপত্তি নেই! মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে যখন একটি 'হেবিয়াস কর্পাস' (অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে পিটিশন) আবেদন করা হয়, তখন বিচারকরা তা খারিজ করে দেন। বিচারকরা বলেন, পুলিশের উচিত এদের মা-বাবার কাছে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া। ভেবে দেখুন, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই পুলিশ গায়েব করে দিচ্ছে, অথচ আদালত তাতে কোনো অন্যায় দেখতে পাচ্ছে না! উল্টো আমাদের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। সহজ কথায়, পুলিশ চাইলে আপনাকে যতদিনের জন্য ইচ্ছা গায়েব করে দিতে পারে।

একইভাবে, সুপ্রিম কোর্টও মনে করে যে সরকারের দিল্লিকে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করে ফেলাটা একবারে যুক্তিযুক্ত। নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতার অধিকারের এখন আর কোনো মূল্য নেই, কারণ আদালত সরকারের টিকে থাকার অধিকার রক্ষাতেই বেশি উদ্বিগ্ন বলে মনে হচ্ছে। আদালত সাফ জানিয়েছে, প্রতিবাদের অনুমতি না থাকলে তা বেআইনি এবং সরকার তা বন্ধ করতে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারে। একটি আস্ত শহর স্তব্ধ করে দেওয়াকেও আদালতের কাছে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে।

কিন্তু যখন একটি পুরো রাষ্ট্র তার সমস্ত শক্তি নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে এসে দাঁড়ায়, তখন তা কী প্রমাণ করে? কে বেশি শক্তিশালী? কে বেশি ভীত? যে ভয় পায়, সে-ই আসলে স্লোগানকারীদের লাঠি ও বন্দুকের ভয় দেখায়।

তবুও, স্লোগান কিন্তু উঠেই চলেছে। সরকার চাইলে নিজের কানে বুলেটের ছিপি এঁটে রাখতে পারে যাতে কিছু শুনতে না পায়, কিন্তু বাকি সবাই তা স্পষ্টভাবে শুনতে পাচ্ছে।

আমরা যখন মডেল টাউন থেকে মেট্রো ধরলাম, তখন বিষয়টি আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করলাম, কারণ বিশ্ববিদ্যালয় (বিশ্ববিদ্যালয়) মেট্রো স্টেশনের গেটগুলো বন্ধ ছিল। মেট্রোতে আমাদের সাথে এমন দুজন তরুণের দেখা হলো, যারাও যন্তর মন্তরের দিকেই যাচ্ছিল। তারা ইতিমধ্যেই যন্তর মন্তরের কাছাকাছি কোনো বের হওয়ার পথ খোঁজার চেষ্টায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়ে দিয়েছে। আমরা শেষ পর্যন্ত এইমস স্টেশনে নেমে বাইরে এলাম।

একজন সদয় অটোচালক আমাদের যতদূর সম্ভব নিয়ে যেতে রাজি হলেন। আমরা চারজনই অটোতে চেপে বসলাম। চালক দক্ষতার সাথে পুলিশের পাহারা এড়িয়ে ছোট ছোট রাস্তা দিয়ে আমাদের নিয়ে চললেন। সময় কিছুটা বেশি লাগলেও পথটুকু মন্দ ছিল না।

নিরবতার সেই গর্জনে সরকার আজ আতঙ্কিত

অবশেষে কস্তুরবা গান্ধী মার্-এর মোড়ে আমাদের থামানো হলো। আমাদের মাথার পাকা চুল দেখে পুলিশ হয়তো দয়া করল, ফলে আমরা প্রেস ক্লাব পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলাম।

যাত্রাপথে তিনটি জায়গায় আমাদের পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল এবং এত খারাপ একটা দিনে আমরা কেন রাস্তায় নেমেছি তার ব্যাখ্যা দিতে হয়েছিল। প্রেস ক্লাবের প্রধান ফটক বন্ধ ছিল, তাই আমাদের পিছনের গেট দিয়ে ঢুকতে হয়।

ভেতরে সংবাদিক বন্ধুরা একে অপরের সাথে তথ্যের আদান-প্রদান করছিলেন। এমন সময় এক সাংবাদিক বন্ধুর ফোন এল। তিনি জানালেন, নেহা বোরা দিল্লি হাট থেকে একটি পদযাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন। আমার স্ত্রী ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সতর্ক করল, এখনই রওনা না দিলে আমার কলকাতার ফ্লাইট মিস হয়ে যাবে।

বিশ্বদীপ নামের এক সাংবাদিক বন্ধু আমাকে এইমস পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন, যেখান থেকে আমি বিমানবন্দরের মেট্রো ধরতে পারব। দিল্লি হাট উড়ালপুলের কাছে গিয়ে আমরা যানজটে আটকে গেলাম। কারণটা আমার জানা ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই চেনা কিছু মুখ দেখতে পেলাম। চোখাচোখি হলো, হাত নাড়ানি হলো। আমার ফোন বেজে উঠল, দেখলাম আলী শান; সে লাফিয়ে আমাদের গাড়িতে উঠে পড়ল। সে জানাল, নেহা ও যোগেন্দ্র যাদবকে আটক করা হয়েছে। দীপঙ্কর ভট্টাচার্য গণমাধ্যমের সাথে কথা বলছিলেন। কিছু তরুণ উড়ালপুলের ওপর বসে পড়েছিল। গাড়ি ধীর গতিতে এগোচ্ছিল, কিন্তু দিল্লির রাস্তায় এই প্রথমবার যানজটে আটকা পড়েও আমার খারাপ লাগছিল না।

আমি আনন্দিত ছিলাম যে অন্তত এমন একটি পথের মধ্য দিয়ে যেতে পেরেছি যা প্রতিবাদের শক্তিতে উত্তাল ছিল। আমার বন্ধু অতুল সুদ এবং নবশরন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। গাড়ি থেকে নেমে তাদের সাথে যোগ দিতে না পারার আক্ষেপ আমার মনে রয়ে গেল।

পুরবা ফোন করেছিল। অলকা নামে এক বন্ধু শেষ পর্যন্ত প্রেস ক্লাবে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। তারা চারপাশে ঘোরাঘুরি করেছিলেন কিন্তু পুলিশের ব্যারিকেড পার হতে পারেননি। এক ঘণ্টা ঘোরাঘুরির পর তারা পাঞ্জাবি বাগের বাসে উঠে পড়েন।

প্রশ্ন হলো—এটি কি কোনো প্রতিবাদ ছিল, নাকি ছিল না?

সরকার হয়তো বিজয়ের দাবি করবে, কারণ তারা যন্তর মন্তরকে একটি 'নীরব এলাকায়' পরিণত করতে পেরেছে। তবে নিশ্চিত থাকা যায়, সেই স্তব্ধতা ও নীরবতার যে বিকট গর্জন সবাই শুনতে পাচ্ছে, তাতেই ভেতরে ভেতরে আজ চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এই সরকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা নাগরিকের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়া ত্যাগের দাবি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১২ পি.এম


রোহিঙ্গা নাগরিকের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়া ত্যাগের দাবি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে কোনো রোহিঙ্গা নাগরিকের মালয়েশিয়া ত্যাগের দাবির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ও জোরালো প্রমাণ না থাকলে সে বিষয়ে মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সরকারের এই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।

এর আগে, এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে এক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার প্রকাশ করার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ওই সাক্ষাৎকারে উক্ত ব্যক্তি দাবি করেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে তার কোনো জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্ড ছিল না এবং তিনি পরিবারের সহযোগিতায় বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করে দেশে ফিরেছেন।

এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া যেকোনো ধরনের গুঞ্জন বা দাবির ওপর ভিত্তি করে প্রতিক্রিয়া জানানো সমীচীন নয়।

তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, কেবলমাত্র জোরালো ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%