মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৩ পি.এম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদ কর্তৃক ঘোষিত পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের পক্ষ থেকে।
২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা বারোটার দিকে উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের পর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক আলতাব হোসেনের সভাপতিত্বে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক মো. আলমাছ মিয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য প্রদান করেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক ও বয়ড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান তুষার, যুগ্ন আহ্বায়ক সামছুল আলম মিশুক, মো: নাসির উদ্দিন, মিরাজ হোসেন রাজ, মাসুম শিকদার, রেজাউল করিম রতন, যুবনেতা শাকিল মোল্লা, মীর মনির হোসেন আলম এবং কাজী শিমুল প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগীরা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। তারা বিভিন্ন জেলায় ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হস্তে মোকাবেলা করার পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে এই অরাজকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) আফগান ভূখণ্ড ব্যবহারের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে, যা পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার সাথে সম্পর্কিত। সংগঠনটি তাদের কোনো অভয়ারণ্য বা ঘাঁটির উপস্থিতি আফগানিস্তানে অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, তাদের সামরিক ও প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ড থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।
পশতু ভাষায় সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাক তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মুফতি গাফরান এই বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, টিটিপি যোদ্ধারা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করছে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ইসলামাবাদ বা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী উপস্থাপন করতে পারেনি। মুফতি গাফরান দাবি করেন, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকার বাইরে পাকিস্তানের অন্তত ৩৯টি জেলায় তাদের সাংগঠনিক কাঠামো সক্রিয় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত সামরিক তৎপরতা চালাচ্ছে তারা। সীমান্তে কড়া নজরদারি, কাঁটাতারের বেড়া ও ল্যান্ডমাইন থাকা সত্ত্বেও জঙ্গিরা নিয়মিত পারাপার করছে, এই দাবি পাক সরকারের অলৌকিক ও অবাস্তব বলে বর্ণনা করেন তিনি। হাঙ্গু এলাকায় পাক বাহিনীর সাথে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, এলাকাটি আফগান সীমান্ত থেকে অনেকটাই দূরে অবস্থিত।
এছাড়া, টিটিপিকে ভারতের অর্থায়ন ও সহায়তার বিষয়ে ইসলামাবাদের বহু বছরের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক প্রচার’ বলে আখ্যা দিয়েছে গোষ্ঠীটি। টিটিপি নেতৃত্বের দাবি, তাদের সংগঠন সম্পূর্ণ স্বাধীন তহবিল ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলে। যদিও এখন পর্যন্ত জাতীয় অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলোতে বড় কোনো হামলা চালায়নি, গাফরান প্রয়োজনে কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
টিটিপি আফগান ভূখণ্ডে সম্প্রতি চালানো একাধিক বিমান হামলায় তাদের সদস্যদের মৃত্যুর কথা অস্বীকার করেছে। তাদের মতে, পাক বাহিনীর সেই হামলায় আসলে পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ পশতুন শরণার্থীরা প্রাণ হারিয়েছেন। ঐতিহাসিক ডুরান্ড লাইন সীমান্তকে চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা উল্লেখ করে টিটিপি জানায়, পাক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের বর্তমান সশস্ত্র আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রশ্রয়ে আফগান মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে বড় ধরনের হামলা চালাচ্ছে টিটিপি। যদিও আফগান তালেবান প্রশাসন এ অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে, যা নিয়ে দুই দেশের সীমান্ত কূটনীতিতে তীব্র টানাপোড়েন বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) পদক অর্জন করেছেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আজিজুর রহমান। ক্যাম্পে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কার্যক্রমে তার ভূমিকার জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন
গ্যাসের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন করবে সরকার : তথ্য উপদেষ্টা
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে আসছেন এসআই মো. আজিজুর রহমান। ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে, বিভিন্ন ধরনের অপরাধী চক্রের তৎপরতা এবং নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাকে। এ সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্যাম্প এলাকায় অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের পাশাপাশি তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনায়ও ভূমিকা রাখেন এসআই আজিজুর রহমান। বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তার পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে এসেছে।
বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের অভিযান এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন ছিল অন্যতম চ্যালেঞ্জ। ক্যাম্পের ভেতরে অপরাধী শনাক্ত করা, তাদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দেন এসআই আজিজুর রহমান।
আরো পড়ুন
ওটিটিতে আসছে অপি করিমের ‘মায়ার জঞ্জাল’
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের দায়িত্ব বহুমাত্রিক। সাধারণ অপরাধের পাশাপাশি মাদক, অবৈধ অস্ত্র, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং বিভিন্ন অপরাধী চক্রের তৎপরতা মোকাবিলা করতে হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
দায়িত্ব পালনকালে এসআই আজিজুর রহমানের পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সাহসিকতা এবং তথ্যভিত্তিক কার্যক্রমের বিষয়টি পদকের জন্য বিবেচনায় আসে। দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই বিপিএম পদক প্রাপ্তি তার কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আরো পড়ুন
জগন্নাথের সামনে আটক মনিরের ২ দিনের রিমান্ড
বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ এই পদক পেয়ে এসআই মো. আজিজুর রহমানের দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি মিলেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং এলাকায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের কাজও এই স্বীকৃতির মাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সমন্বিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসআই আজিজুর রহমানের বিপিএম পদকপ্রাপ্তি সেই দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিরই একটি উদাহরণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক সেবাপ্রার্থী জানিয়েছেন, ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে দালালের মাধ্যমে কাজ করাতে হচ্ছে তাদের।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি ফি ও নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফাইলের দিকে হাত দেন না। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের চড়া দামে দালালদের কাছে যেতে হয়। তারা জানান, দালালের মাধ্যমে দরদাম করে টাকা বুঝিয়ে দিলে কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরবাদাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের চারপাশে প্রায় এক ডজন ব্যক্তি নিয়মিত দালালি করেন। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, নামজারি, খারিজ, খতিয়ান, দাখিলা, জমির বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহসহ নানা কাজে সেবাপ্রত্যাশীদের দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরবাদাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বাইরে অনেক সেবাপ্রার্থী অপেক্ষা করছেন। ভূমি কর্মকর্তা মোবারক হোসেনের রুমে তালা মারা ছিল।
এ সময় একাধিক সেবাপ্রার্থী দাবি করেন, তাদের মধ্যে ডজন খানেক দালাল রয়েছে। অফিসের ভেতরে এমরান হোসেন নামের এক অফিস সহায়ককে দেখা যায়, যিনি দালালদের কাছ থেকে কাগজপত্র ও টাকা বুঝিয়ে নিচ্ছেন।
ভূমি কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে দুইজন দালাল বলেন, “উনি মন চাইলে আসেন, মন না চাইলে আসেন না। তবে বাসায় বসে কাজ করেন। মাঝে মাঝে এসে হাজিরাখাতায় স্বাক্ষর করে দুই-চার ঘণ্টা পর খরচসহ কাগজপত্র নিয়ে বাসায় চলে যান।”
এদিকে, দীন-মোহাম্মদ, দুলাল, সুলতান ও মোহাম্মদুল্লাহসহ কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিক আসছে শুনে দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়েন। তারা দালাল বলে জানান উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি।
জানা গেছে, উপজেলার চরবাদাম ও চরপোড়াগাছা দুই ইউনিয়ন মিলে একটি মাত্র ভূমি অফিস রয়েছে। এ দুই ইউনিয়নে বেশকিছু খাস জমি রয়েছে। ওই খাস জমি ঘিরে রমরমা বাণিজ্য ভূমি অফিসে চলছে। খাস জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া ও রশিদ কাটার নামে বেপরোয়া বাণিজ্য চলছে এ অফিসে। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য সেবাপ্রার্থীরা এলে তাদের ২০ থেকে ৩০ বছরের বকেয়ার হিসাব দেওয়া হয়। পরে তাদের সঙ্গে দরদাম (চুক্তি) করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, টাকা নিয়ে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার একটি খাজনার দাখিলা ধরিয়ে দেওয়া হয়- এমন অভিযোগ চরবাদাম ইউনিয়নের কারামতিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুর রশিদের। তিনি জানান, তার সাড়ে চার একর জমির ১৮ বছরের বকেয়া হিসাবে ৫৫ হাজার টাকার খাজনা আসে। পরে সেখান থেকে কাটছাট করে ২৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই টাকা নিয়ে তহসিলদার তাকে পাঁচ হাজার টাকার একটি খাজনার দাখিলা ধরিয়ে দেন।
হারুন বাজার এলাকার জহিরুল হক বলেন, জমা খারিজের সরকার নির্ধারিত ফি ১১৭০ টাকা হলেও তিনি দালালের মাধ্যমে ১২ হাজার টাকা দিয়ে জমা খারিজ সম্পন্ন করেন।
এছাড়া জমিজমা বিরোধ নিয়ে আদালতের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে দুই পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ করেন মামলার দুজন বাদী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মামলার একজন বাদীর দাবি, একটি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দিতে তহশিলদারকে তিনি ২০ হাজার টাকা দিয়ে তারপক্ষে প্রতিবেদন নেন।
আরেকজনের অভিযোগ, তিনি চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে না পারায় প্রতিবেদন তার বিরুদ্ধে দেন তহশিলদার মোবারক।
ভুক্তভোগী দাবি করা কয়েকজনের ভাষ্য, সরাসরি ভূমি অফিসে গিয়ে সেবা নিতে গেলে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। অথচ পরিচিত দালালের মাধ্যমে গেলে দ্রুত কাজ হওয়ার আশ্বাস মেলে। এ কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে দালালের শরণাপন্ন হন।
ভূমি অফিসে দালালনির্ভরতার অন্যতম কারণ হিসেবে স্থানীয় ভূমি-প্রক্রিয়া, সাধারণ মানুষের ভূমি আইন সম্পর্কে সীমিত ধারণা এবং অফিসে তথ্যপ্রাপ্তির অসুবিধার কথা বলছেন অনেকে। ফলে একটি শ্রেণি সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মধ্যস্থাকারী হিসেবে কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।
সেবাপ্রার্থী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “যখনই অফিসে আসি, তখন শুনি কর্মকর্তা নেই। অফিস সহায়ক এমরান অফিসকে বাণিজ্যের আখড়ায় পরিণত করেছেন। সকালে খালি পকেটে এসে বিকেলে পকেট ভরে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অথচ এসব দেখার কেউ নেই।”
আরেক সেবাপ্রার্থী ইয়াছিন বলেন, “ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দালাল নিয়োগ করা হয়েছে। তারা দালালদের কাজ আগে করেন। এজন্য মানুষ দালাল ধরে।” তিনিও ১১৭০ টাকার একটি জমাখারিজ ১০ হাজার টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন বলে জানান ইয়াছিন।
তবে এসব অভিযোগ স্বীকার করে অফিস সহায়ক এমরান হোসেন বলেন, “আগে দালাল আরো বেশি ছিল। এখন তো অনেক কম।” অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয় তিনি বলেন, “টুকটাক কিছু না নিলে আমরা চলবো কীভাবে?”
দালালদের দৌরাত্ম্য ও ঘুষের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চরবাদাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, “আগের তুলনায় দালাল এখন কম। সব তাড়িয়ে দেবো। কাজ করে দিলে মানুষ খুশি হয়ে আমাদের কিছু দেয়। আপনি এসে চা খেয়ে যাবেন কিন্তু।”
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “ওই ভূমি অফিসের অনিয়ম সম্পর্কে আমিও বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের চারটি জুয়েলারি দোকান থেকে গ্রাহকদের দেখানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যবসায়ী রণজিত পালকে ঢাকায় আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নেওয়া স্বর্ণালংকারগুলোও।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আলমগীর হোসেন এবং জেলা বাজুসের সভাপতি সমীর কর্মকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে রণজিত পালকে আটক করা হয়।
আটক রণজিত পাল লক্ষ্মীপুর বাজারের স্বর্ণকার সড়কের পাল শিল্পালয়ের মালিক। তিনি শহরের শাঁখারিপাড়া এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রণজিত প্রায় ৩০ বছর ধরে লক্ষ্মীপুর বাজারে সোনার ব্যবসা করে আসছেন। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে অন্যান্য সোনা ব্যবসায়ীরা তাকে গহনা দিতেন। তিনি বিভিন্ন দোকান থেকে গহনা নিয়ে গ্রাহকদের দেখাতেন এবং বিক্রিও করতেন।
সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর বাজারের চারটি জুয়েলারি দোকান থেকে একইভাবে গ্রাহকদের দেখানোর কথা বলে প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণালংকার নেন রণজিত। পরে গহনাগুলো ফেরত না দিয়ে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। সন্ধ্যা পর্যন্ত তার নিজের দোকান খোলা থাকলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি শাঁখারিপাড়ার ভাড়া বাসাতেও তিনি ছিলেন না। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয় যে, তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন তমা শিল্পালয়ের পলাশ কুরী, বণিক শিল্পালয়ের সাগর বণিক, পুনম শিল্পালয়ের ঝুটন কুরী এবং শিবানী শিল্পালয়ের অসীম কর।
তমা শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী পলাশ কুরী বলেন, "সোনা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রণজিতের বিরুদ্ধে আমি লিখিত অভিযোগ করেছি। পুলিশ তাকে আটক করেছে।"
লক্ষ্মীপুর জেলা বাজুসের সভাপতি সমীর কর্মকার জানান, "বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২২ ভরি সোনা নিয়ে পলাতক ব্যক্তিকে ঢাকা থেকে আটক করেছে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ। পুরো সোনাসহ তাকে আটক করা হয়েছে। এ জন্য আমরা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞ।"
লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, "অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঢাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে লক্ষ্মীপুর আনা হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ