ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সুইডেনের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সামান্য এগিয়ে বামপন্থী জোট


সুইডেনের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সামান্য এগিয়ে বামপন্থী জোট

সুইডেনের সাধারণ নির্বাচনে এখনও কোনো পক্ষের বিজয় নিশ্চিত হয়নি। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে পৌঁছালেও, বামপন্থী জোট সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনকারী পক্ষ সম্পর্কে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না।

বিবিসির তথ্যমতে, সোমবার ভোরে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট গণনা সম্পন্ন হয়। তখন বামপন্থী জোট প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। সুইডেনের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সামাজিক গণতন্ত্রী দলের নেত্রী ম্যাগদালেনা আন্দেরসনের নেতৃত্বাধীন জোট সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, জোটটি বর্তমান রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোটের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। ৯৪ শতাংশ ভোটের হিসাব অনুযায়ী, আন্দেরসনের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী জোট ১৭৬টি আসনে এগিয়ে ছিল, অপরদিকে ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট ১৭৩টি আসন পেয়েছিল। এই ব্যবধান মাত্র তিনটি আসনের। তবে ভোট গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণে সুইডেনের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো এখনো কোনো পক্ষকে বিজয়ী ঘোষণা করেনি।

আরো পড়ুন

আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে

আসিফ নজরুলের গ্রেপ্তার চাইলেন নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী।

সুইডেনে দুটি বড় রাজনৈতিক জোট বিদ্যমান। প্রতিটি জোটে চারটি করে দল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্বাচনে যদি কোনো জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে অন্য দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হয়। এ কারণে দেশটিতে জোট সরকার ও সংখ্যালঘু সরকার গঠন একটি পরিচিত বিষয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে কট্টর ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দল, যার রাজনৈতিক শিকড় নব্য নাৎসিবাদে।

ক্রিস্টেরসন ক্ষমতায় থাকলে সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলের সদস্যদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে এই বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

সোমবার ভোরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ক্রিস্টেরসন বলেন, পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ভোটাররা তাদের মতামত দিয়েছেন, কিন্তু এখনো চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি। আগামী বছরগুলোতে সুইডেনের নেতৃত্বে কোন সরকার থাকবে, সেটি এখনও অজানা। অন্যদিকে, রবিবার রাতে আন্দেরসনও সমর্থকদের চূড়ান্ত ফলের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। তবে তিনি জানান, বর্তমান ফলাফল একই থাকলে সুইডেনে নতুন সরকার গঠিত হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সামাজিক গণতন্ত্রী দল সুইডেনের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে, তবে এবারের নির্বাচনে দলটির ভোট কমেছে।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

আরো পড়ুন

অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসনসহ ইউরোপীয় নেতারা।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত সামাজিক গণতন্ত্রী দল প্রায় ২৮ শতাংশ ভোট পাওয়ার পথে ছিল। এই ফল চূড়ান্ত হলে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি দলটির সবচেয়ে খারাপ নির্বাচনী ফল হতে পারে। তবে বামপন্থী জোটের অন্য কয়েকটি দলের সমর্থন বেড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বাম দল, গ্রিনস এবং সেন্টার পার্টি। কট্টর ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলও এবারের নির্বাচনে সমর্থন হারিয়েছে বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে। ১৯৮০-এর দশকে নাৎসি সমর্থকদের হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটি বহু বছর সুইডেনের মূলধারার রাজনীতির বাইরে ছিল, তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে দলটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। সে সময় দলটি মূলত অভিবাসন এবং সহিংস অপরাধের মতো বিষয়গুলোকে সামনে রেখে প্রচার চালায়।

আরো পড়ুন

আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা

জন্মদিনেই মারা গেলেন কিংবদন্তি বক্সার।

এবারের নির্বাচনে সেই দলটির ভোটও কমেছে। ২০১০ সালে রিক্সদাগে প্রবেশের পর এই প্রথম দলটির সমর্থন কমার চিত্র দেখা গেল। এবারের সুইডেনের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও কমেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোট পড়ার হার প্রায় ৪ শতাংশ কম। রবিবার ভোট দেওয়ার পর আন্দেরসন নির্বাচনের মূল রাজনৈতিক প্রশ্নটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুইডেন কি এমন একটি সরকার চায়, যেটি পুরোপুরি সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে? নাকি এমন একটি সরকার চায়, যার নেতৃত্বে থাকবেন তিনি এবং নতুন রাজনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবেন? অন্যদিকে, ক্রিস্টেরসন বলেন, তার জোট যাতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো চালিয়ে যেতে পারে, সেটি মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুন

অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসনসহ ইউরোপীয় নেতারা।

আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড গেজেট প্রকাশের ঘোষণা শ্রমমন্ত্রীর

নিজের ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, মানুষ চায় তার সরকার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো চালিয়ে যাক। এবারের নির্বাচনী প্রচারে কয়েকটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা, গ্যাং অপরাধ এবং সামাজিক কল্যাণ খাতে সরকারি ব্যয়। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর কোন জোট সরকার গঠন করবে, তা নির্ধারণ হবে। তবে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনে ছোট দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সুইডেনে আসন বণ্টন হয় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে। দেশটির পার্লামেন্ট রিক্সদাগে কোনো দলকে আসন পেতে হলে সাধারণত অন্তত ৪ শতাংশ ভোট পেতে হয়। ফলে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ছোট দলগুলোর অবস্থানও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজার তথ্যচিত্র নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি ইসরায়েলি সংস্কৃতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩১ পি.এম


গাজার তথ্যচিত্র নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি ইসরায়েলি সংস্কৃতিমন্ত্রীর

গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত একটি পুরস্কারপ্রাপ্ত তথ্যচিত্রের দুই নির্মাতার নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার। চলচ্চিত্র নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল জোরের বিরুদ্ধে তিনি ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুলেছেন।

ইন্ডিয়া টুডে জানাচ্ছে, ‘নাজা’ নামের তথ্যচিত্রটিতে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তথ্যচিত্রটির দাবি, এসব মৃত্যু শুধু যুদ্ধের অনিচ্ছাকৃত ফল নয়; বরং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ ও সামরিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই অনেক বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি নেওয়া হয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তথ্যচিত্রটি বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পর ইসরায়েলে এ নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনা বৃদ্ধি পায়।

আরো পড়ুন

ফুটবল নিয়ে খেলায় মেতেছে বুনো হাতি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার দুই নির্মাতার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, বিশ্বের ইহুদিবিদ্বেষীদের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার জন্য নির্মাতারা নিজেদের দেশের ক্ষতি করতে প্রস্তুত। জোহার বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে দুই নির্মাতার ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও দুই নির্মাতার সমালোচনা করেছেন। তিনি তাদের ‘পুরো ইসরায়েলি জনগণের জন্য লজ্জা ও অপমান’ বলে মন্তব্য করেন। বেন-গভির তাদের ইসরায়েল ছেড়ে চলে যাওয়ারও আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, হামাস তাদের স্বাগত জানাতে পারে।

‘নাজা’ তথ্যচিত্রটি প্রযোজনা করেছে যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান। তথ্যচিত্রটির নাম একটি সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা বিমান হামলার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করে। ৮০ মিনিটের তথ্যচিত্রটিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ২৪ জন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। নির্মাতাদের দাবি, এসব ব্যক্তি গাজা যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যবস্থা পরিচালনা বা সেগুলোর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের পদ্ধতির কারণে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

আরো পড়ুন

তিউনিশে অবতরণের সময় তুর্কি বিমানে ভয়াবহ পরিস্থিতি

সাক্ষাৎকার দেওয়া এক ব্যক্তি দাবি করেন, হামাসের একজন সদস্যকে হত্যার জন্য এমন একটি হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যাতে ৫০০ বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তথ্যচিত্রটিতে ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম প্রদর্শনের পর ‘নাজা’ দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পায়। প্রদর্শন শেষে প্রায় ২৫ মিনিট ধরে দর্শকেরা দাঁড়িয়ে নির্মাতাদের অভিনন্দন জানান। এরপর শনিবার তথ্যচিত্রটি বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়। ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল জোর এর আগে ২০২৫ সালে ‘নো আদার ল্যান্ড’ তথ্যচিত্রের জন্য অস্কার জিতেছিলেন।

ভেনিসে পুরস্কার পাওয়ার পর আব্রাহাম বলেন, ‘নাজা’তে সাক্ষাৎকার দেওয়া ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গাজায় বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখেননি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত ব্যবস্থা ছিল। আব্রাহাম বলেন, তারা যেসব ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন, তারা এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইসরায়েলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে তথ্যচিত্রটি দেখার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ইসরায়েলিদের নিজেদের দেশের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর মুখোমুখি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরো পড়ুন

সৌদির ৪ শহরে সতর্কতা জারি, হুতিদের হামলা অব্যাহত

তথ্যচিত্রে ওঠা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। তারা সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় ও বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিরা সত্যিই সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন কি না, তারা কী পদে ছিলেন এবং তারা যেসব সামরিক অভিযানের কথা বলেছেন, সেগুলোর সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না- এসব বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারেনি। তথ্যচিত্রে ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের যে প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে, সেটিও অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের বক্তব্য, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ ও হামলার অনুমোদনের সিদ্ধান্ত মানুষই নেন। এসব সিদ্ধান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে দেওয়া হয় না।

আরো পড়ুন

ফুটবল নিয়ে খেলায় মেতেছে বুনো হাতি

ইসরায়েলি বাহিনী আরো বলেছে, তাদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরিচালিত হয় এবং এর প্রধান লক্ষ্য হামাসের মতো সশস্ত্র সংগঠন। বেসামরিক মানুষের ক্ষতি কমাতে তারা ‘নজিরবিহীন চেষ্টা’ চালায় বলেও দাবি করেছে তারা। সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, হামাস বেসামরিক এলাকায় যোদ্ধা ও সামরিক অবকাঠামো স্থাপন করে। ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তা তদন্তের জন্য বাহিনীর নিজস্ব তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে তথ্যচিত্র ও প্রতিবেদন তৈরি করা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে রাজনৈতিক সমালোচনা বাড়ছে। এর মধ্যেই আব্রাহাম ও জোরের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হলো।

আরো পড়ুন

সৌদির ৪ শহরে সতর্কতা জারি, হুতিদের হামলা অব্যাহত

ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট ২০২২ সালে রায় দিয়েছিল, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। এর মধ্যে দেশের প্রতি আনুগত্যের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়টি রয়েছে। গুপ্তচরবৃত্তি বা রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার মতো কর্মকাণ্ডও এর আওতায় পড়তে পারে। পরবর্তী বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি সুযোগ আরো বাড়ানো হয়। এর ফলে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ তৈরি হয়। তবে দুই চলচ্চিত্র নির্মাতার বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অলরাউন্ডার মিরাজের দেখা মিললেও গায়ানা হেরে গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩২ পি.এম


অলরাউন্ডার মিরাজের দেখা মিললেও গায়ানা হেরে গেল

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) নিজের অভিষেক মৌসুমের শুরু থেকেই বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের প্রতিনিধিত্ব করে প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেট এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ উইকেট শিকার করেছেন মিরাজ। তিনি হয়েছেন ম্যাচসেরাও। তবে এই দুটি ম্যাচে ব্যাট হাতে তার রান ছিল যথাক্রমে ১ ও ২।

আজ অলরাউন্ডার মিরাজের পারফরম্যান্স আবারও দেখা গেছে। ২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ১ চার ও ১ ছক্কায় ১৮ রান করেন তিনি। যদিও তার ব্যাটিংটি টি-টোয়েন্টির জন্য যথাযথ ছিল না, কারণ তিনি ২৪টি বল খরচ করেছেন।

তবে মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স শেষ পর্যন্ত গায়ানার জন্য কোনো উপকারে আসেনি। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের কাছে গায়ানা ৬ উইকেটে পরাজিত হয়েছে।

ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে গায়ানা আল্লাহ গজনফরের স্পিনের সামনে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়। বার্বাডোজ ৩১ বল হাতে রেখে লক্ষ্য পূরণ করে।

কুইন্টন ডি কককে বোল্ড করার পর স্যাড্রার্ক ডেকার্টকে রোনালদো আলীমোহাম্মদের ক্যাচ বানান মিরাজ। গায়ানা ১৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর মিরাজ ব্যাটিংয়ে নামেন।

শুরুর ধাক্কা সামাল দিতে তিনি ধীরগতিতে ব্যাটিং করেন। তবে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারেননি।

তবে এই পরাজয়ে গায়ানার কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা আগেই প্লে-অফ পর্ব নিশ্চিত করেছিল, তাই এই ম্যাচটি তাদের জন্য ছিল শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রথম কোয়ালিফায়ারে গায়ানা অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের মুখোমুখি হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স : ১৮.১ ওভারে ৯৯ অলআউট (ফিলিপস ২৪, শেফার্ড ২২, মিরাজ ১৮; লেইন ৩/১৪, গজনফর ৩/১৭)।

বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস : ১৪.৫ ওভারে ১০০/৪ (কিং ৪৪*, ডেকার্ট ৩২; মিরাজ ২/২৫, পারমল ১/১৪)।

ফল : বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : আল্লাহ গজনফর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পকেটে ১০ হাজার টাকা নিয়ে বিয়ে, আয়ুষ্মান আজ সাফল্যের চূড়ায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ পি.এম


পকেটে ১০ হাজার টাকা নিয়ে বিয়ে, আয়ুষ্মান আজ সাফল্যের চূড়ায়

বলিউডে অভিনয়ের নতুন ধারার সূচনা করে বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানা। ২০০৪ সালে রিয়ালিটি শো ‘রোডিজ’ জিতে তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেন। সম্প্রতি ৪২ বছর পূর্ণ করেছেন এই জনপ্রিয় তারকা। রেডিও জকি, উপস্থাপক এবং ছোটপর্দার কাজের মাধ্যমে তিনি আজ বলিউডে একটি স্বতন্ত্র সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। দীর্ঘ পথচলার পর ২০১২ সালে সুজিত সরকারের ‘ভিকি ডোনার’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। প্রথম ছবিতেই অভিনয় এবং ‘পানি দা রাং’ গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি বাজিমাত করেন, যা তাকে সেরা নবাগত অভিনেতার পুরস্কার এনে দেয়।

এরপর থেকে তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। ‘দাম লাগা কে হইশা’, ‘বারেলি কি বারফি’, ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’, ‘বাধাই হো’, ‘আর্টিকেল ১৫’, ‘ড্রিম গার্ল’ এবং ‘বালা’-র মতো একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। বিশেষ করে ‘আন্ধাধুন’ সিনেমায় অন্ধ পিয়ানোবাদকের চরিত্রে তার অসাধারণ অভিনয় তাকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এনে দেয়। সামাজিক টানাপড়েন ও জীবনের ভিন্নধর্মী গল্প বেছে নেওয়ার জন্য হিন্দি সিনেমায় তার নিজস্ব একটি বলয় তৈরি হয়েছে।

আয়ুষ্মানের ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে সাফল্য। ২০০৮ সালে তিনি শৈশবের বন্ধু তাহিরা কাশ্যপকে বিয়ে করেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাহিরার ক্যান্সার যুদ্ধসহ জীবনের নানা কঠিন সময়ে সবসময় তিনি পাশে ছিলেন। এজন্য বলিউডে তাদের জুটিকে অনুকরণীয় ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সাফল্যের সাথে সাথে তার অর্থনৈতিক অবস্থাও পরিবর্তিত হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে বিয়ের সময় যার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা, বর্তমানে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি টাকা বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্র্যান্ড অ্যান্ডোর্সমেন্ট, শেয়ার বিনিয়োগের পাশাপাশি সিনেমার জন্য তিনি ৮ থেকে ১৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। ২০২৫ সালে মুক্তি পেতে যাওয়া তার ‘থাম্মা’ সিনেমার জন্য তিনি ১০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেবেন বলে জানা গেছে। অভিনয়, গান এবং উপস্থাপনায় নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে বলিউডে তার অনন্য অবস্থান প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবানন জাতিসংঘকে ইউনিফিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ পি.এম


লেবানন জাতিসংঘকে ইউনিফিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালো

লেবানন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির উদ্বেগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিশনটি সরিয়ে নেওয়ার ফলে দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক নিরাপত্তাশূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে।

লেবাননের বক্তব্য, ২ মার্চের পর দেশটির সীমান্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। এই নতুন বাস্তবতার প্রেক্ষিতে ইউনিফিলের কার্যক্রম শেষ করার সিদ্ধান্ত পুনরায় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো ২৬ আগস্টের একটি চিঠিতে লেবানন এই অবস্থান তুলে ধরেছে। চিঠিটি দ্য ন্যাশনালের কাছে এসেছে। এতে জাতিসংঘে লেবাননের রাষ্ট্রদূত আহমাদ আরাফা উল্লেখ করেন, ২ মার্চের পর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কারণে ইউনিফিলের কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সময়োপযোগী নয়। তিনি বলেন, লেবানন, সীমান্তের নীল রেখা এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। এই অবস্থায় ইউনিফিল বন্ধের সিদ্ধান্ত সতর্কতার সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

আরো পড়ুন

বরিস জনসনসহ ইউরোপীয় নেতারা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। আহমাদ আরাফার মতে, ইউনিফিল সরিয়ে নেওয়া হলে এমন একটি নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হবে, যা লেবানন সরকারের নিরাপত্তা প্রচেষ্টাকে দুর্বল করবে। একই সঙ্গে, অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করা অন্যান্য পক্ষের প্রচেষ্টার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আবার লড়াই শুরু হয়। এর ফলে দক্ষিণ লেবাননে ইউনিফিল যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করে, তা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়ে যায়। পরে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। ইসরায়েলের দাবি, উত্তর ইসরায়েলের বসতিগুলোকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতে ওই এলাকায় একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রয়োজন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। লেবানন জানিয়েছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০০৬ সালে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধ শেষ করার কাঠামো হিসেবে এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। বৈরুত আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নেও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইভাবে, ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সই হওয়া ত্রিপক্ষীয় কাঠামোও বাস্তবায়ন করতে চায় তারা। লেবাননের মতে, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

আরো পড়ুন

সুইডেনের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সামান্য এগিয়ে বামপন্থী জোট। ইউনিফিলের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতিসংঘ যে কয়েকটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করছে, সেগুলো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে লেবানন। লেবাননের রাষ্ট্রদূত আহমাদ আরাফা বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ১ জুনের প্রতিবেদনে যে বিকল্পগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলো তৈরি করা হয়েছিল মার্চের সংঘাত এবং ২৬ জুনের ত্রিপক্ষীয় কাঠামো সইয়ের আগের পরিস্থিতি ও আলোচনার ভিত্তিতে। তার মতে, এরপর পরিস্থিতিতে যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে ওই বিকল্পগুলো বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই নাও হতে পারে। এই অবস্থায় ইউনিফিলের মেয়াদ সীমিত সময়ের জন্য বাড়ানোকে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ বলে মনে করছে লেবানন।

আহমাদ আরাফা বলেন, ইউনিফিলের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা, এর সরবরাহ ও পরিচালনার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় জনগণ ও লেবানন সরকারের কাছে মিশনটির গ্রহণযোগ্যতা- সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে মেয়াদ বাড়ানোই ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। লেবানন সরকার বলেছে, দক্ষিণাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইউনিফিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মিশনটি লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করেছে। ১৯৭৮ সাল থেকে দক্ষিণ লেবাননে কাজ করছে ইউনিফিল। মিশনটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সেখানে সংঘর্ষ বন্ধ থাকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা। পাশাপাশি ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তের নীল রেখা বরাবর নিরাপত্তা বজায় রাখতে লেবাননের সেনাবাহিনীকে সহায়তা করা। বর্তমানে ইউনিফিলে ৭ হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে।

আরো পড়ুন

তিউনিশে অবতরণের সময় তুর্কি বিমানে ভয়াবহ পরিস্থিতি। তবে ইউনিফিলের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থান ভিন্ন। গত সপ্তাহে ইসরায়েল জানিয়েছে, ইউনিফিলের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বাহিনী রাখার যেকোনো উদ্যোগের তারা বিরোধিতা করবে। ইসরায়েলের যুক্তি, সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্ব লেবাননের সেনাবাহিনীকেই নিতে হবে। জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ডানন বলেন, ইউনিফিলের মেয়াদ বছরের শেষ নাগাদ শেষ করার বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিই মেনে চলা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের পর ২০২৫ সালের আগস্টে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইউনিফিলের কার্যক্রম শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইউনিফিলের কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে ১৯৭৮ সাল থেকে দক্ষিণ লেবাননে চলা প্রায় পাঁচ দশকের এই শান্তিরক্ষা মিশনের সমাপ্তি ঘটবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%