শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০০ পি.এম
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, "আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, "প্রত্যেক মাদক কারবারি ও প্রত্যেক ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে।" তবে, আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের আটক রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে, তারা আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হলেও আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘদিন আটক রাখা যায় না। পরে তারা আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
শনিবার সকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার শহর, আমার দেশ-পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে আইজিপি এসব কথা বলেন।
আইজিপি আরও বলেন, "দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম।" তিনি উল্লেখ করেন, "প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।" তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, "মাদক আমাদের নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে।" ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক তরুণদের হাতে নানা নামে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এগুলোকে এনার্জি ট্যাবলেট বা অন্য কোনো আকর্ষণীয় নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আইজিপি বলেন, "আমাদের সন্তানদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।"
অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, "শুধু লোক দেখানো বা প্রচারের জন্য নয়, বাস্তবে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।" তিনি জানান, ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ কমাতে বেশি করে গাছ লাগানো ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত করতে হবে।" নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, "আজ ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা শহর ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের জন্য একটি মাইলফলক।" এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু গাছ লাগানো নয়, বরং পুরো ঢাকা শহরে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "কমিউনিটি পুলিশ ও কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে আজকের যে ক্যাম্পেইনটি শুরু হলো, আমি বিশ্বাস করি এই ক্যাম্পেইনটি ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়বে।"
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, "পরিবেশ ভালো রাখতে হলে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।" রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা কোনো বিষয়ে গুরুত্ব দিলে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। একইভাবে নগরবাসীও যদি ঢাকাকে নিজের শহর মনে করে ভালোবাসে, তাহলে শহরের পরিবর্তনও সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি নিম গাছ রোপণ করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক। এ সময় কমিউনিটি ব্যাংকের এমডি পরিচালক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকা কট্টর ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফ্যুর ডয়েচল্যান্ড’ (এএফডি) রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আশা প্রকাশ করেছে।
নির্বাচনে যদি তারা জয়ী হয়, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানির ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো কট্টর ডানপন্থী দল এককভাবে রাজ্য সরকারের ক্ষমতায় বসবে।
জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের আসন্ন সংসদীয় নির্বাচন নিয়ে সারাদেশে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফ্যুর ডয়েচল্যান্ড’ (এএফডি) রাজ্যে সরকার গঠনের লক্ষ্যে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
নির্বাচনে জয়ী হলে এটি হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মান ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যেখানে কোনো কট্টর ডানপন্থী দল এককভাবে রাজ্য সরকারের ক্ষমতায় বসবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এএফডির ৩৫ বছর বয়সী শীর্ষ প্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ডের নেতৃত্বে দলটি তাদের নীতিমালায় মৌলিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে স্কুলগুলোতে এলজিবিটি পতাকা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব, নাৎসি অপরাধের তুলনায় জার্মান ইতিহাসের ইতিবাচক দিক শেখানোর আহ্বান এবং অনিয়মিত ও ভিন্ন সংস্কৃতির অভিবাসীদের দ্রুত আটক ও নির্বাসনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিগমুন্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্য কোনো দল জোট না করলে তারা এককভাবে সরকার পরিচালনা করবেন এবং প্রয়োজনে তাদের ওপর নজর রাখা অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিলুপ্ত করবেন।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক মন্দা এবং অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, যা মূলধারার দলগুলোর ওপর আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে জার্মানির সিডিইউ-র রক্ষণশীল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উলরিখ সিগমুন্ডের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে চ্যান্সেলর মের্জ রাজনৈতিকভাবে চরম চাপের মুখে পড়েছেন। অন্যান্য দলগুলো এএফডি-কে ঠেকাতে ‘ফায়ারওয়াল’ বা জোটবদ্ধ প্রতিরোধের নীতি বজায় রাখলেও, এএফডি একক নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সেই বাধা ভেঙে ফেলার স্বপ্ন দেখছে।
এএফডির শীর্ষ নেতৃত্বের রুশ-পন্থী অবস্থানের কারণে জার্মানির জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা চরম উদ্বিগ্ন। স্যাক্সনি-আনহাল্টে দলীয় কার্যালয়ে রুশ সামরিক স্মারক চিহ্ন রাখা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে বার্লিন-লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার পেছনে মস্কোর যোগসাজশের অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে। জার্মান গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে রাশিয়া-সমর্থিত অপতথ্য প্রচার অভিযান আরো বেড়েছে।
স্যাক্সনি-আনহাল্ট একটি ছোট রাজ্য হলেও শিক্ষা, পুলিশ এবং আঞ্চলিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ব্যাপক সার্বভৌম ক্ষমতা রয়েছে। এখানে এএফডির বিজয় কেবল একটি আঞ্চলিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি পুরো জার্মানি ও ইউরোপীয় রাজনীতির চিত্রকে বদলে দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও শহরের কোলাহলে কাটানো তাঁর শৈশব ও কৈশোর। শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়মাঠ তাঁর বাড়ির পাশেই অবস্থিত। যে শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া এবং রাস্তাঘাট তাঁর চেনা, সেই শহর এখন ব্যস্ত হয়ে উঠেছে তাঁকে ঘিরে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামীকাল রোববার প্রথমবারের মতো নিজ মাটি ঠাকুরগাঁও আসছেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
এদিকে, কোথাও তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছে, কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের যেন দম ফেলারও সময় নেই। পৌরসভার কর্মীরা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে তুলতে দিন-রাত কাজ করে চলেছেন। সব মিলিয়ে এলাকার প্রিয় সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ শহরে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁও। শহরের পথে পথে এখন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমনের প্রতীক্ষা। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আগামী রবি ও সোমবার সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় এই সফর ঘিরে প্রশাসনের নানা প্রস্তুতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের আগ্রহ যেন এর চেয়েও বেশি, এর চেয়েও বেশি আবেগের।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় রাজনীতির সুপরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত, আবার অনেকের কাছে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা। ঠাকুরগাঁওয়ের অনেকের কাছে তিনি আজও সেই পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’-নিজ শহরের আপনজন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ শেকড়ের টানে নিজ মাটিতে আসা ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়, এটি একই সঙ্গে গর্ব, আনন্দ, ভালোবাসা এবং গভীর আবেগের ক্ষণ।
রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো: লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি যাবেন জেলা সার্কিট হাউসে। রাষ্ট্রপতি সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।
এরপর রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।
কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহরের কালীবাড়িতে তাঁর নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেই তাঁর রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে।
সফরের দ্বিতীয় দিন রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম করবেন। পরে তিনি সার্কিট হাউসে যাবেন। এরপর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর।
এদিকে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সফরের সম্ভাব্য স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। আমরা চাই, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে তাঁকে স্বাগত জানাক।’
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রোয়েশিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার তৈরি কে২৩৯ চুনমু মাল্টিপল রকেট লঞ্চার ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য দেশটি ৫৪৪ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করবে, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ৬৩২ মিলিয়ন।
ক্রোয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রকেট লঞ্চারগুলোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামরিক ব্যবস্থা সংগ্রহ করা হবে। এসব সরঞ্জাম ২০২৯ সালের মধ্যে ক্রোয়েশিয়ার হাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা হিনা জানায়, ক্রোয়েশিয়া মোট ১৮টি রকেট লঞ্চার ক্রয় করবে।
কে২৩৯ চুনমু একটি আধুনিক ও মডুলার মাল্টিপল রকেট লঞ্চার ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। এই ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের রকেট ব্যবহার করা সম্ভব, যার মধ্যে ১৩০ মিলিমিটার ও ২৩৯ মিলিমিটার ক্যালিবারের রকেটও রয়েছে।
ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ মন্তব্য করেছেন, ২০২১ সালে ১২টি ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার পর, এটি ১৯৯০-এর দশকে স্বাধীনতার যুদ্ধের পর দেশের সেনাবাহিনী আধুনিকায়নে একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
তিনি আরো বলেন, “প্রথমবারের মতো আমরা অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করছি।”
প্লেনকোভিচ জানান, ক্রোয়েশিয়া কারও জন্য হুমকি তৈরি করতে চায় না, বরং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা ও প্রতিরোধ, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ইউরোপের সম্মিলিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় অবদান রাখার জন্য সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।
এর আগে, ক্রোয়েশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আটটি এইচআইএমএআরএস বা হিমার্স রকেট লঞ্চার কেনার চুক্তি করেছে, যেগুলোর সরবরাহ ২০২৮ সালে হওয়ার কথা রয়েছে।
ক্রোয়েশিয়া ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।
২০২৫ সালে দেশটি প্রতিরক্ষা খাতে তার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ০৮ শতাংশ ব্যয় করবে। ওই বছর প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ইউরো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার কথা বলছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, "আমরা এই সরকারকে আন্দোলন করে আগামীকালকেই পতন করতে চাই না।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, "উৎখাতের কোনো আন্দোলন আমরা করছি না।"
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের এক বৈঠক শেষে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি জানাতে তিনি বিফ্রিংয়ে এই মন্তব্য করেন।
গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, একটি পথসভা চলাকালীন অগ্রবর্তী একটি টিম পরবর্তী স্পটে চলে যাবে। তিনি বলেন, "সেখানে তারা বক্তব্য দিয়ে আবার পরবর্তী স্পটে চলে যাবে।" মূল শীর্ষ নেতারা পরে ওই স্পটে গিয়ে যোগ দেবেন। এভাবে সময় সাশ্রয় করা হবে।
লং মার্চের সম্ভাব্য পথসভাগুলোর স্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, "চিটাগাং রোডের কাচপুর ব্রিজের পাশের ট্রাকস্ট্যান্ডে প্রথম পথসভা হবে।" এরপর পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, কুমিল্লার নুরজান হোটেলের সামনে, চৌদ্দগ্রাম, মহিপাল ও মিরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে গাড়িবহর চট্টগ্রামের লালদীঘির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।
জামায়াতের এই সেক্রেটারি আশা প্রকাশ করেছেন যে, "যানজট কিংবা গাড়ির কোনো কারিগরি সমস্যার মতো স্বাভাবিক কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সন্ধ্যা ৭টার দিকে লংমার্চের বহর লালদীঘিতে পৌঁছাবে।"
তিনি আরও জানিয়েছেন, লং মার্চে অংশ নেওয়া প্রত্যেককে ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে। প্রতিটি গাড়ির সামনে ও পেছনে থাকবে নির্দিষ্ট স্টিকার ও নম্বর। এ ছাড়া শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক বিভাগ, আইটি ও মেডিকেল বিভাগের গাড়িগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে গাড়িবহরে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ