প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকা কট্টর ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফ্যুর ডয়েচল্যান্ড’ (এএফডি) রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আশা প্রকাশ করেছে।
নির্বাচনে যদি তারা জয়ী হয়, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানির ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো কট্টর ডানপন্থী দল এককভাবে রাজ্য সরকারের ক্ষমতায় বসবে।
জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের আসন্ন সংসদীয় নির্বাচন নিয়ে সারাদেশে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফ্যুর ডয়েচল্যান্ড’ (এএফডি) রাজ্যে সরকার গঠনের লক্ষ্যে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
নির্বাচনে জয়ী হলে এটি হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মান ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যেখানে কোনো কট্টর ডানপন্থী দল এককভাবে রাজ্য সরকারের ক্ষমতায় বসবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এএফডির ৩৫ বছর বয়সী শীর্ষ প্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ডের নেতৃত্বে দলটি তাদের নীতিমালায় মৌলিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে স্কুলগুলোতে এলজিবিটি পতাকা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব, নাৎসি অপরাধের তুলনায় জার্মান ইতিহাসের ইতিবাচক দিক শেখানোর আহ্বান এবং অনিয়মিত ও ভিন্ন সংস্কৃতির অভিবাসীদের দ্রুত আটক ও নির্বাসনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিগমুন্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্য কোনো দল জোট না করলে তারা এককভাবে সরকার পরিচালনা করবেন এবং প্রয়োজনে তাদের ওপর নজর রাখা অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিলুপ্ত করবেন।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক মন্দা এবং অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, যা মূলধারার দলগুলোর ওপর আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে জার্মানির সিডিইউ-র রক্ষণশীল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উলরিখ সিগমুন্ডের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে চ্যান্সেলর মের্জ রাজনৈতিকভাবে চরম চাপের মুখে পড়েছেন। অন্যান্য দলগুলো এএফডি-কে ঠেকাতে ‘ফায়ারওয়াল’ বা জোটবদ্ধ প্রতিরোধের নীতি বজায় রাখলেও, এএফডি একক নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সেই বাধা ভেঙে ফেলার স্বপ্ন দেখছে।
এএফডির শীর্ষ নেতৃত্বের রুশ-পন্থী অবস্থানের কারণে জার্মানির জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা চরম উদ্বিগ্ন। স্যাক্সনি-আনহাল্টে দলীয় কার্যালয়ে রুশ সামরিক স্মারক চিহ্ন রাখা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে বার্লিন-লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার পেছনে মস্কোর যোগসাজশের অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে। জার্মান গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে রাশিয়া-সমর্থিত অপতথ্য প্রচার অভিযান আরো বেড়েছে।
স্যাক্সনি-আনহাল্ট একটি ছোট রাজ্য হলেও শিক্ষা, পুলিশ এবং আঞ্চলিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ব্যাপক সার্বভৌম ক্ষমতা রয়েছে। এখানে এএফডির বিজয় কেবল একটি আঞ্চলিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি পুরো জার্মানি ও ইউরোপীয় রাজনীতির চিত্রকে বদলে দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সূত্র:
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন