১১:৫৩ এম
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে নারকীয় তাণ্ডব চালাচ্ছে ইসরাইলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় গ্রামে গ্রামে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি-ঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে।
গুলিবিদ্ধদের হাসপাতালে নেয়ার সময়ও অ্যাম্বুলেন্সে আক্রমণ করছে। অন্যদিকে গাজায় বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের জীবন কাটছে বেহাল অবস্থায়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন রোগ। এর মধ্যেই চলছে ইসরাইলি হামলা।
সম্প্রতি পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়ে গেছে। একের পর এক গ্রামে তারা সহিংস হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সারাক্ষণ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। শুক্রবার বেথলেহেমের আবু নুজাইম গ্রামে হামলা চালায় সেটেলাররা। ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলিও নিক্ষেপ করেছে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হন।
আরও পড়ুন: সমরকন্দে আধ্যাত্মিক যাত্রার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এমিনি এরদোয়ান
গুলিবিদ্ধদের হাসপাতালে নেয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সে এলো ইসরাইলিরা আক্রমণ করে। গাড়ির জানালা ভেঙে মরিচের গুঁড়ো স্প্রে করেছে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা। পরে হামলাকারীরা গ্রামের প্রধান সড়কও বন্ধ করে দেয়।
পশ্চিম তীরের হেবরনেও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা সহিংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। মাসাফের ইয়াত্তায় তুবা এলাকায় ফিলিস্তিনি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এসেছে। এই হামলায় ১৪ শিশুসহ তিনটি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
হামলায় ধ্বংস হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও বিপুল পরিমাণ পশুখাদ্য। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বছরের প্রথম সাত মাসেই বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধের ফলে দুই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
শুক্রবার পশ্চিম তীরের নাবলুস ও বেথলেহেম গভর্নরেটজুড়ে একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা। এতে দুইজন প্যারামেডিকসহ ছয়জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) জানায়, নাবলুসের পূর্বে অবস্থিত বেইত ফুরিক-এ তাদের কর্মীরা ইসরাইলি বাহিনীর হাতে মার খাওয়া এক ব্যক্তির চিকিৎসা করাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে পুলিশের রেকারে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় হোটেল ব্যবসায়ী নিহত
গাজার আকাশে যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের তৎপরতা কিছুটা কমলেও এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের অনিশ্চয়তা কাটেনি। তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন লাখো ফিলিস্তিনি।
অতিরিক্ত ভিড়, বিশুদ্ধ পানির সংকট, ইঁদুরের উপদ্রব ও স্বাস্থ্যসেবার সংকটের ফলে নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। জাতিসংঘ বলছে, যুদ্ধবিরতির পরও শত শত শিশু নিহত হয়েছে। প্রতিদিনই হামলার ঝুঁকিতে রয়েছেন বেসামরিক মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে সেনা পাঠাতে অনুমোদন দিয়েছে উগান্ডার সংসদ। মরক্কোও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের ধাপ শেষ হলে গাজায় মোতায়েন হবে এই বাহিনী।
আরও পড়ুন: চকরিয়ায় বাস ও পিকআপের সংঘর্ষে ২ নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন