প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুন্সীগঞ্জে গত ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী পরিমাণে হয়েছে। ভূমি উন্নয়ন কর (সাধারণ এবং সংস্থা) এর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মোট ৮ কোটি ৩৪ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩৬৯ টাকা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে বকেয়া করের পরিমাণ ৩ কোটি ৬৯ লক্ষ ২৬ হাজার ৫৩৫ টাকা।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে মুন্সীগঞ্জ জেলার ৬ উপজেলায় ভূমি উন্নয়ন কর (সাধারণ এবং সংস্থা) বকেয়াসহ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ কোটি ৪৪ লক্ষ ২১ হাজার ৫৯৮ টাকা। যার বিপরীতে আদায় করা ৮ কোটি ৩৪ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩৬৯ টাকা। এই আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯০ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৭১ টাকা বেশী। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২১৮৮৯০৩২ টাকা, গজারিয়ায় ১১৮৮০৫৪৪ টাকা, টঙ্গিবাড়ীতে ৯৬৫২৭০৭ টাকা, লৌহজংয়ে ৮৩৯৫৯৯৪ টাকা, শ্রীনগরে ১১৮৪৬৩২৯ টাকা এবং সিরাজদিখানে ১৯৮২৩৭৭৪ টাকা আদায় করা হয়েছে। এই আদায়ের হার ১১২ দশমিক ১৮ ভাগ।
বিষয়টি সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে যে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ভূমি উন্নয়ন কর (সাধারণ) এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ কোটি ৮৩ লক্ষ ১৮ হাজার ২৫৭ টাকা। কিন্তু আদায় করা হয়েছে ৭ কোটি ৭৫ লক্ষ ২২ হাজার ৩৯৯ টাকা। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২০৬৮৪৮৫৬ টাকা, গজারিয়ায় ১১৫৩৬৪৬৪ টাকা, টঙ্গিবাড়ীতে ৯২৫৩৯৩৯ টাকা, লৌহজংয়ে ৭৬৫১১৫৮ টাকা, শ্রীনগরে ১১৮৪৬৩২৯ টাকা এবং সিরাজদিখানে ১৬৫৪৯৬৫৩ টাকা।
গত বছরের সমুদয় বকেয়া পাওনা আদায় করা হয়েছে ৩৫৭৯১৯৯৩ টাকা।
অন্যদিকে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ভূমি উন্নয়ন কর (সংস্থা) এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬১ লক্ষ ৩ হাজার ৩৪১ টাকা। এর বিপরীতে আদায় করা হয়েছে ৬৫ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৩৬ টাকা। সদর উপজেলায় ১২০৪১৭৬ টাকা, গজারিয়ায় ৩৪৪০৬৯ টাকা, টঙ্গিবাড়ীতে ৩৯৮৭৬৮ টাকা, লৌহজংয়ে ৭৪৪৮৩৬ টাকা, শ্রীনগরে ৫৬৩৪৬৬ টাকা এবং সিরাজদিখানে ৩২৭৪১২১ টাকা আদায় করা হয়েছে। বকেয়া পাওনা আদায় করা হয়েছে ১১৩৪৫৪২ টাকা।
গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২৭১৪০৯৫ টাকার, যার বিপরীতে আদায় করা হয়েছে ৭৫২৮৫৪২৫ টাকা এবং ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০২৬৯২৬৬ টাকার, যার বিপরীতে আদায় হিসেবে ৮৩৯০৪৫৫১ টাকা এসেছে।
সহকারী কমিশনার (রাজস্ব শাখা) মো. ওমর ফারুক বাসস’কে জানান, কিছু নাগরিক কর দিতে চাই না বলে নামজারী করতে আগ্রহী হন না। এ কারণে নিয়মিত ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের বিষয়টিও জেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকিতে দেখা হচ্ছে এবং বকেয়াসহ কর আদায়ের হার নিয়মিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বাসস’কে জানান, নামজারী পদ্ধতি ডিজিটাল হয়ে যাওয়ার কারণে ভূমি উন্নয়ন কর (সাধারণ) আদায়ের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে регуляр জেলা রাজস্ব সভায় ভূমি উন্নয়ন কর (সাধারণ এবং সংস্থা) আদায় নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়, এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্য তদারকির ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ত্বরান্বিত ও সন্তোষজনকভাবে বেড়ে উঠেছে। বিভিন্ন সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে, ফলে সংস্থার বকেয়াসহ হালনাগাদ কর আদায় সম্ভব হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমির ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় সন্তোষজনক হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কর আদায়ের ক্ষেত্রে করদাতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন