ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘ইসলামিক ন্যাটো’ বদলে দিতে পারে মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ভাবনা


‘ইসলামিক ন্যাটো’ বদলে দিতে পারে মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ভাবনা

নিজেদের সুরক্ষার জন্য সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এতদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করতো। কিন্তু ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে এ নির্ভরতা আসলে ফাঁকা বুলি।

বরং অতিরিক্ত যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা এবং সংশ্লিষ্টতার কারণেই তারা বারবার ইরানের হামলার শিকার হচ্ছে। ইরান সমর্থিত হুতিদের অন্যতম টার্গেটও সৌদি আরব। তারচেয়ে বড় কথা হলো, হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ থাকায় তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় সৌদি আরবের আয়েও বড় ধাক্কা লেগেছে। ইরান যুদ্ধ আসলে সৌদি আরবের এতদিনের নিশ্চিন্তিকেই দুশ্চিন্তায় পরিণত করেছে।

সৌদি আরবকে বদলে দিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা 'ভিশন ২০৩০'কেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে ইরান যুদ্ধ।

আরও পড়ুন: গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে সরকারের পরিষ্কার ব্যাখ্যা চায় নেজামে ইসলাম পার্টি

অর্থ এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনোটাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না, এটা বুঝে যাওয়ার পর সৌদি আরব নিজেদের সুরক্ষায় বিকল্প ভাবনা শুরু করে। সে ভাবনারই ফল হলো নতুন ইসলামী প্রতিরক্ষা জোট। গত শুক্রবার পবিত্রভূমি মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়েছে নতুন এই প্রতিরক্ষা জোট।

ন্যাটো স্টাইলে গঠিত এই জোটটি বলা হচ্ছে 'ইসলামিক ন্যাটো'। নতুন জোটের তিন দেশই মুসলিম বিশ্বের তিনটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী দেশ। সামরিক সক্ষমতায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও সৌদি আরবের আছে অঢেল অর্থ। আর ন্যাটো জোটে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই সামরিক সক্ষমতায় তুরস্কের অবস্থান। পাকিস্তান হলো মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তির অধিকারী।

আর্থিক ও সামরিক সক্ষমতা মিলিয়ে নতুন এই জোট মুসলিম বিশ্বে নিরাপত্তা ভাবনায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। পরিবর্তন আসবে বৈশ্বিক ভাবনায়ও। যখন ইসরায়েল পুরো অঞ্চলে তার সামরিক প্রভাব বিস্তার করছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে রিয়াদয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এই জোট আঞ্চলিক সম্পর্কেও নতুন মেরুকরণ আনতে পারে।

মক্কা চুক্তির প্রধান অঙ্গীকার হলো- তাদের যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই অঙ্গীকার পাকিস্তান ও তুরস্ককে এমন একটি যুদ্ধের মধ্যে টেনে আনতে পারে, যা তারা এ পর্যন্ত বেশ সতর্কতার সাথে এড়িয়ে চলছিল। তিন দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক যৌক্তিকতা হলো যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধকে শক্তিশালী করা এবং তিনটি রাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সব দিকের আরও উন্নতি করা। জোটের তিনটি দেশই সুন্নী নেতৃত্বাধীন। তাদের প্রাথমিক মূল লক্ষ্য হচ্ছে যে শিয়া নেতৃত্বাধীন ইরান, তা নিয়ে কারোই কোনো সন্দেহ নেই।

আরও পড়ুন: আসামে ১১০০ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, ১০ মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় ওলামা অ্যালায়েন্সের নিন্দা

কিন্তু এ জোটের মানেই যে পাকিস্তান ও তুরস্ক ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, এই বিষয়টি এমনও নয়। বরং পাকিস্তান আর তুরস্ক ইরান যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। সৌদি আরবের যুবরাজ সালমান নিজেও হামলা থেকে বিরত থাকতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন। পাকিস্তান ও তুরস্ক উভয়ের সাথেই ইরানের সীমান্ত রয়েছে এবং এই সংঘাত যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে তা ঠেকানোর জন্য উভয় দেশেরই জোরালো কারণ রয়েছে। পাকিস্তানকে তার দেশের বড় আকারের শিয়া জনগোষ্ঠী এবং তেহরানের সঙ্গে তার সংবেদনশীল সম্পর্ক সামাল দিতে হবে। অন্যদিকে, তুরস্ক ও ইরান অঞ্চলের অন্যান্য জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদ নিয়ে উভয়েরই সাধারণ উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাৎক্ষণিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া হতেই নতুন এই জোটের আশু লক্ষ্য নয়। নিজেদের সক্ষমতাকে বাড়িয়ে ইরানের দিক থেকে আক্রমণের হুমকি কমিয়ে রাখতেই নতুন এই জোটের যাত্রা।

তুরস্কের একজন কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, এই জোট কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। পাশাপাশি সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্পষ্টভাবে বলেছে যে, এটি কোনো সামরিক অক্ষ বা কোনো উপদলীয় ব্লক তৈরির প্রচেষ্টা নয়। তুরস্কের ওই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোও এতে যোগ দিতে পারে, যা ন্যাটো-র মতোই এই জোটে নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।

এই জোট নিয়ে ইরানের সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। নিজেদের অসন্তোষ গোপনও করেনি ইরান। ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, 'সৌদিদের বোঝা উচিত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে একটি কাগজের চুক্তি তাদের নিরাপত্তা এনে দেবে না। ঠিক যেভাবে আমেরিকানদের ওপর দশকের পর দশক ধরে একতরফা নির্ভরতাও ব্যর্থ হয়েছে।'

মুখে যাই বলুক, নতুন এই জোটের ফলে ইরানের নেতৃত্বের কপালে দুশ্চিন্তার ভাজের সংখ্যা আরো বাড়বে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এখন সৌদি আরবের ওপর হামলার আগে ইরান নিশ্চয়ই নতুন করে ভাববে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক, উদ্ধারকাজ সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতে ইসলামের ৯ দফা দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতে ইসলামের ৯ দফা দাবি

 

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ৯ দফা দাবি পেশ করেছে। রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান প্রধানমন্ত্রী কাছে লিখিতভাবে এসব দাবি তুলে ধরেন।

হেফাজতে ইসলামের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে কঠোর ব্লাসফেমি আইন প্রণয়ন করা। এছাড়া কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করার দাবি জানানো হয়।

লিখিত দাবিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হুকুমদাতা ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিগত সরকারের সময়ে আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করে তাদের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করার দাবি জানান।

শিক্ষাসংক্রান্ত দাবির মধ্যে বর্তমান রয়েছে কওমি মাদরাসার ‘দাওরায়ে হাদিস’ ডিগ্রির (মাস্টার্স) সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করা এবং সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে এ ডিগ্রির উল্লেখ রাখা। এছাড়া প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যান্য দাবির মধ্যে আছে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা, পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত ষড়যন্ত্র বন্ধ করা এবং ভারতের মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে আগমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবি। একই সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে।

মতবিনিময়সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে রবিবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও মাদরাসার পক্ষ থেকে তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি বাবুনগর মাদরাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির দায়িত্বে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


ফ্যামিলি কার্ড শুমারির দায়িত্বে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা

কুমিল্লার লালমাইয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা মো. শাহ নেওয়াজ ফ্যামিলি কার্ড শুমারির দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পাওয়া গেছে, শাহ নেওয়াজ উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি। ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকায় অদ্ভুতভাবে ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) বিষয়টি সামাজিকমাধ্যমে প্রচারিত হলে এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দেয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে নির্বাচনকৃতদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ওই উপজেলায় একই পরিবারে একাধিক সদস্য নিয়োগ দেওয়ার কারণে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন কমিটির সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস দাসের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদনকারীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। ওই প্রক্রিয়ায় সুপারভাইজার পদে ৮০ জন এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৩১৯ জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। উপজেলা প্রশাসনের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় ছাত্রলীগের ওই সভাপতির নাম দেখে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নির্বাচিতদের তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ওয়ার্ড সভাপতি শাহ নেওয়াজের নাম রয়েছে। একইসঙ্গে একই পরিবারের দুই সদস্য-আয়েশা সিদ্দিকা সাবরিনা ও জুনায়েদ আহমেদ একসঙ্গে নির্বাচিত হওয়ায় এখানেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু মন্তব্য করেছেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির দায়িত্বে ছাত্রলীগ সভাপতির নাম দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি। তিনি বলেছেন যে, লালমাই উপজেলা প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছে। অপরদিকে, লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস দাস জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। আর বলেছেন, ছাত্রলীগ সভাপতিকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। চূড়ান্ত তালিকায় কোন ত্রুটি বা বিচ্যুতি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ। ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান, জীবন ও সুস্থতার সুরক্ষায় তাদের অবদান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয় উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে।

কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সেক্রেটারি ও সদর উপজেলার পারগানার সভাপতি কর্নেলিয়াস মুরমু। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের তথ্য, যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম, আদিবাসী যুবনেতা সিপোনেন মেহব্রুম, ফোরামের সম্পাদিকা মলিকা সরণ, এনজিও সিনেরিয়া ম্যানেজার ও সমাজকর্মী নিকোলাস মুরমু, আদিবাসী কোল নেত্রী কল্পনা কোল মুরমু, রেডিও মহানন্দার স্টেশন মাস্টার রেজাউল করিম টুটুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এই শোভাযাত্রাটি শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে শুরু হয়ে উদয়ন মোড়, নিউমার্কেট, সেন্টু মার্কেট ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি অফিস) চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানেই পরে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য ও প্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। সমাবেশ থেকে তারা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংবিধানে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান; সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন; আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমি দখল বন্ধ করে কার্যকর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা; আদিবাসীদের সংস্কৃতি সংরক্ষণে রাজধানীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা; সাঁওতালসহ সকল আদিবাসী শিশুর জন্য প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত চালু করা; জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে আদিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া আলফ্রেড সরেন, চুডু সরেন, বাগদা ফার্মের তিন সাঁওতাল নেতা শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডী ও রমেশ টুডু, চলেশ রিছিল, পীরেন স্নালসহ সমতল ও পাহাড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং আদিবাসীদের ভূমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা। বক্তারা সমাবেশে বলেন, ‘তারা আদিবাসী, তবে আদিম নয়।’ বক্তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেন। বক্তারা আরও বলেন, অনেক আদিবাসী পরিবার কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও শিক্ষা ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এছাড়া, বক্তারা জানান যে, নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ না থাকায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বক্তারা বলেন, তারা নিজেদের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ পরিচয়ের পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। দীর্ঘদিনের ভূমি সমস্যা সমাধান, দখল হয়ে যাওয়া ভূমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং আদিবাসীদের অধিকার ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বক্তারা আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে এসব দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তালিকায় কৃষকের নাম নেই, গুদামে ধান দিয়েছে সিন্ডিকেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


তালিকায় কৃষকের নাম নেই, গুদামে ধান দিয়েছে সিন্ডিকেট

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান দিয়েছিল একটি সিন্ডিকেট। খবর অনুযায়ী, নাভজান বেওয়ার স্বামী তিন বছর আগে মারা গেছেন। তার ১৫ শতকের বসতভিটা ছাড়া কোনো জমি নেই। সংসার চলে অন্যের বাড়িতে কাজ করে। বিধবা ভাতা দেওয়ার কথা বলে এলাকার দুলাল নামের এক ব্যক্তি তাকে ব্যাংকে নিয়ে যান। পরে তাকে দুটি চেক বইয়ের পাতার মাধ্যমে দুই দফায় এক হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়।

যেমন করে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ছাটবাড়ী গ্রামের এই নারীর নাম উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষক তালিকায় ওঠে এলাকার একটি সিন্ডিকেটের কারসাজিতে। এই প্রতারণার মাধ্যমে কৃষকের বদলে সরকারী গুদামে নাভজান বেওয়ার নামে ধান দিয়ে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। স্থানীয় প্রভাবশালী এবং ধান ব্যবসায়ীরাও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।

প্রকৃত কৃষকের বদলে তালিকায় উঠে এসেছে হতদরিদ্র, ভূমিহীন, দিনমজুরসহ অকৃষকদের নাম। এতে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। খাদ্য ও কৃষি বিভাগ একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাগেশ্বরীতে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ৮০৭ জনের কাছে দুই হাজার ৪২৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। ধানের দর প্রতি মেট্রিক টন ৩৬ হাজার টাকা। এই জন্য অনলাইনে আবেদন নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, একটি চক্র দরিদ্র, ভূমিহীন ও দিনমজুরদের নাম ব্যবহার করে প্রায় এক হাজার আবেদন করেছে বিভিন্ন সরকারি সহায়তার নামে। পরে লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাইয়ের সময় তালিকায় অর্ধেকের বেশি অকৃষকের নাম এসেছে।

তালিকাভুক্ত অনেকেই জানেন না, তাদের নামে আবেদন হয়েছে। পরে সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের ব্যাংক হিসাব খুলে এক থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে বিদায় দেন। তাদের নামে গুদামে ধান দেওয়ার পর সরকারি অর্থ তুলে নেয় ওই চক্রটি।

কচাকাটা ইউনিয়নের ছাটবাড়ী গ্রামের ১৬ জন ভুয়া কৃষকের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের কারো আবাদি জমি নেই। অথচ সরকারি রেকর্ডে তারা কৃষক হিসাবেই ধরা হয়েছেন এবং খাদ্য গুদামে ধান দিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকার দুলাল মিয়া কৃষি কার্ড, বিধবা কার্ড, ভিজিডি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার নাম ভাঙিয়ে তাদের ব্যাংকে নিয়ে হিসাব খোলেন এবং ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করান। পরে জনপ্রতি এক থেকে দুই হাজার টাকা তারা হাতে দেন।

ছাটবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আছিয়া জানান, ‘ব্যাংকে সই নিয়ে বাইরে পান খেতে পাঠায় দিছে। পরে ওরা চেক দিয়া টাকা তুলছে। এরপর বাড়িতে এসে এক হাজার টাকা দিয়েছে।’

স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি বছরে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ ধান উৎপাদন করেন। অথচ কখনো সরকারি গুদামে ধান দিতে পারেননি। তার অভিযোগ, প্রকৃত কৃষক বাদ দিয়ে দরিদ্র মানুষের নাম ব্যবহার করে সিন্ডিকেট সরকারী লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

অভিযুক্ত দুলাল মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘শুধু কচাকাটা নয়, নাগেশ্বরীর সব ইউনিয়নেই কৃষক ধান দেননি। কৃষক ধান বিক্রি করে ব্যবসায়ীর কাছে।’ তিনি দাবি করেন, কোনো আর্থিক সুবিধা নেননি। তার দাবি, প্রভাবশালী মহলের ‘বড় ভাইদের’ নির্দেশ পালন করছেন।

নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাউছার হাবিব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কৃষি বিভাগের দেওয়া কৃষকের তালিকা অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘স্বল্প সময়ে আবেদনকারী কৃষকদের যাচাই-বাছাই করা সম্ভব নয়। কৃষক নন এমন ব্যক্তির নাম থাকলেও তারা ধান দিতে পারবেন না। এসব নাম বাতিল করে পুনরায় লটারির নিয়ম রয়েছে। তবে খাদ্য বিভাগ এসব বিষয়ে কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করেনি। তাদের জানা নেই কাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ হচ্ছে।’

উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আট কোটি ৭২ লাখ ২৮ হাজার টাকার ধান সংগ্রহ করা হবে। এই সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%