মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার নিজস্ব প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৪১ পি.এম
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার জওগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি বকেয়া থাকার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঐ শিক্ষার্থীর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দিনা আক্তারের পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি বাবদ এক হাজার ১০০ টাকা বকেয়া ছিল। ১ জুলাই অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রথম দিন নির্ধারিত সময়ে ফি পরিশোধ করতে না পারায় বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন এবং তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই কারণে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
কান্না জড়িত কণ্ঠে দিনা আক্তার জানিয়েছেন, তার বাবা-মা বাড়িতে না থাকার কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার ফি জমা দিতে পারেননি। প্রধান শিক্ষক ও দুই সহকারী শিক্ষিকার কাছে বিষয়টি জানিয়ে তার পরীক্ষা দেয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর অপমানবোধে তিনি বাড়ি ফিরে যান। এর ফলে পরের দিন তিনি আবারও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে তার দাবি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রতিভাবান এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ মোটেই উচিত হয়নি। ঘটনার পর থেকে দিনা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং সঠিকভাবে খাদ্য গ্রহন করতেও অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এমনকি পরদিন কোনো শিক্ষক তার খোঁজও নেননি। তাদের মতে, শিক্ষকদের আরও মানবিক হওয়া প্রয়োজন ছিল।
দিনা আক্তারের বাবা দুলাল হুসেন বলেছেন, “আমরা বাড়িতে না থাকায় আমার মেয়ে সময়মতো টাকা জমা দিতে পারেননি। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়নি। ফলে আমার মেধাবী মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বলেছেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বাবুল জানাতে পারবেন।”
সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বাবুল জানান, “পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি সংগ্রহ করা হচ্ছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থীর বকেয়া থাকায় তাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। দিনা আক্তারও তাদের মধ্যে ছিল। তবে তাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়নি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেন, “আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, “সভায় থাকায় অভিযোগপত্রটি তখন হাতে পাইনি। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার মাটিয়ানি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৮৮ বোতল বিভিন্ন ধরনের মাদকসহ মো. আজিবুর রহমান (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মাটিয়ানি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজিবুর রহমান মৃত আবদুল গাফ্ফারের ছেলে এবং ওই গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব-১৩ সূত্রে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল পৌনে ৮টার দিকে র্যাব-১৩, সিপিসি-১ দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল পীরগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর জাবরহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাটিয়ানি গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় আজিবুর রহমানের বসতবাড়ির গোয়ালঘরে তল্লাশি করে ১১৭ বোতল এসকাফ, ৫৯ বোতল এমকেডিল এবং ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ মোট ১৮৮ বোতল মাদক উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ থেকে জানা যায় যে, গ্রেপ্তার আজিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন জেলা থেকে মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন তিনি। শনাক্ত করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে ৪ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী মন্তব্য করেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে র্যাব-১৩-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পীরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার সীতাকুণ্ডের বুক চিরে চলে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় দীর্ঘ একটি বিশাল অংশ জুড়ে সম্প্রতি যে অভূতপূর্ব এবং নজিরবিহীন রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল একটি সাধারণ বিক্ষোভ বা অবরোধ ছিল না। বরং এটি ছিল বিগত এক দশকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং ১ লাখ ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটের এক ঐতিহাসিক জনরায়ের অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এক স্বতঃস্ফূর্ত আবেগীয় মহাবিস্ফোরণ। বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, চেয়ারপারসনের দূরদর্শী উপদেষ্টা এবং সীতাকুণ্ড সংসদীয় আসন থেকে বিপুল ভোটে সদ্য নির্বাচিত এমপি লায়ন অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ'র শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া আইনি বেড়াজালে আটকে থাকার জের ধরে চট্টগ্রাম সিটি গেট থেকে শুরু করে বড়দারোগারহাট পর্যন্ত অন্তত ২০টিরও বেশি পয়েন্টে একযোগে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে যে সর্বাত্মক সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা পুরো দেশের রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে একটি বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, এই আন্দোলনের নেপথ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক ঘোষণা বা পূর্বপরিকল্পিত এজেন্ডা ছিল না, বরং এটি ছিল সম্পূর্ণ রূপেই সীতাকুণ্ডের আপামর জনসাধারণের এক আবেগঘন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ। যেখানে সাধারণ রিকশাচালক থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তৃণমূলের সাধারণ ভোটাররা পর্যন্ত স্বপ্রণোদিত হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে এই ব্যস্ততম মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ায় এবং হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হওয়ায় যখন পরিস্থিতি প্রায় এক প্রকার আইন-শৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, ঠিক তখনই দীর্ঘ কারাবাসের ক্লান্তি ও আইনি লড়াইয়ে অবরুদ্ধ থাকা সত্ত্বেও জননেতার দায়িত্বশীল পরিচয় দিয়ে আসলাম চৌধুরী নিজেই এক বিশেষ অডিও-ভিডিও বার্তা পাঠান। যেখানে তিনি তাঁর প্রিয় সীতাকুণ্ডবাসীকে শান্ত থাকার, কোনো প্রকার জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার এবং আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার কঠোর ও আবেগঘন নির্দেশনা দেন। মুহূর্তের মধ্যেই আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছেড়ে দেয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় মহাসড়কে পুনরায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে। যা স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর একচ্ছত্র ও প্রশ্নহীন নিয়ন্ত্রণকে আবারও প্রমাণ করে।
মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃণমূলের ভোটারদের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক নির্বাচনে অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ সীতাকুণ্ড আসন থেকে যে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন, তা কেবল একটি দলীয় বিজয় ছিল না। বরং সেটি ছিল বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর ওপর চলা একের পর এক রাজনৈতিক মামলা, ধারাবাহিক হয়রানি এবং দীর্ঘ কারাবাসের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের দেওয়া একটি নীরব ব্যালট বিপ্লব। কিন্তু এই বিশাল গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট পাওয়ার পরও ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত পুরোনো কিছু দেওয়ানি মামলা, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা এবং নতুন কিছু আইনি মারপ্যাঁচকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাঁর শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়াকে যেভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তাঁকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও তাঁর হাজার হাজার অনুসারী সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জনগণের পবিত্র রায়ের ওপর এক ধরনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ-র প্রতি সীতাকুণ্ডের মানুষের এই অন্ধ ভালোবাসা ও আবেগ একদিনে বা কোনো সস্তা স্লোগানে তৈরি হয়নি। বরং বিগত ১০-১৫ বছরে যখনই সীতাকুণ্ডে কোনো বড় সংকট এসেছে, দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দলের শত শত নির্যাতিত নেতাকর্মীকে রাজপথে আগলে রাখা এবং নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকার সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করার মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে এক স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। এই চলমান বারুদসদৃশ পরিস্থিতির মাঝে জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর কন্যার একটি অত্যন্ত আবেগঘন এবং হৃদয়স্পর্শী ফেসবুক স্ট্যাটাস। যেখানে তিনি লিখেছেন, "যে মানুষটি নিজের জীবনের সোনালী ও শ্রেষ্ঠ সময়গুলো সীতাকুণ্ডের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অন্ধকার কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে কাটিয়ে দিলেন, আজ লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ও ঐতিহাসিক বিজয়ের পরও কেন তাকে তার রাষ্ট্রীয় অধিকার ও শপথ থেকে এভাবে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে, সীতাকুণ্ডের মানুষ কি তাদের প্রিয় নেতাকে মুক্ত বাতাসে তাদের মাঝে ফিরে পাবে না?"-আর এই একটি মাত্র আবেগঘন আকুতি সীতাকুণ্ডের আপামর জনসাধারণের মনে এমন এক তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। যার ফলেই পুরো উপজেলা জুড়ে এই গণবিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি সম্মান রেখে আইনি প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং দেওয়ানি বা ঋণ সংক্রান্ত মামলাগুলোর আইনি নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তবে ১ লাখ ৪২ হাজার ভোটারের দেওয়া এই বিশাল জনরায়কে টেকনিক্যাল মারপ্যাঁচে ফেলে বেশিদিন চেপে রাখা সীতাকুণ্ডের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সীতাকুণ্ডের রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্ত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের উপশম ঘটাতে অতি দ্রুত এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার একটি সুষ্ঠু, সম্মানজনক এবং স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে। একসময়ের একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত বহুমেরুকেন্দ্রিক বাস্তবতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর, আর সেই কারণেই বাংলাদেশ আজ আর কেবল একটি ভৌগোলিক রাষ্ট্র নয়; বরং বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু।
দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত প্রতিবেশী একটি বৃহৎ শক্তির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সীমারেখার মধ্যেই আবদ্ধ থাকবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে—এটাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বীকৃত নীতি।
বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি সেই বাস্তবতাকেই নতুনভাবে তুলে ধরছে। চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ হোক কিংবা অন্যান্য বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা—এসবই বাংলাদেশের স্বাধীন কূটনৈতিক পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত বহন করে। এ ধরনের উদ্যোগকে কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক কৌশলগত বৈচিত্র্য হিসেবে দেখা অধিকতর বাস্তবসম্মত।
বাংলাদেশের এই পরিবর্তিত অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার প্রচলিত ক্ষমতার সমীকরণে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ভারতের নীতিনির্ধারণী মহল ও দেশটির গণমাধ্যমের একটি অংশে বাংলাদেশকে ঘিরে যে উদ্বেগ, সংশয়, গাত্রদাহ শুরু হয়েছে এবং ধারাবাহিক আলোচনা ও সমালোচনা ঝড় দেখা যাচ্ছে, তা এই পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন- কারণ তারা দীর্ঘদিনের জমিদার কর্তৃক প্রজা শাসনের মত অধিকার হারিয়ে ফেলছে। কারণ, যে বাংলাদেশকে তারা দীর্ঘদিন অনেকেই নিজেদের প্রভাব বলয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কল্পনা করত, সেই বাংলাদেশ এখন নিজের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বহুমাত্রিক কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করছে।
এখানেই নতুন বাস্তবতার সবচেয়ে বড় বার্তা নিহিত রয়েছে। সার্বভৌম রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত আর কারও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকবে না। বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সম্পদ, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কিংবা বৈদেশিক সম্পর্ক—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হবে বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ।
বঙ্গোপসাগর আজ শুধু একটি সমুদ্র নয়; এটি আগামী কয়েক দশকের বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র। ফলে এই অঞ্চলকে ঘিরে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ যদি বিচক্ষণ কূটনীতি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে পারে, তবে অন্যের কৌশলগত দাবার গুটিতে পরিণত না হয়ে নিজেই হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটি বিষয় এখন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে—বাংলাদেশকে আগের ছকে ফেলে বিচার করার সময় শেষ। আধিপত্যের মানসিকতা দিয়ে প্রতিবেশীকে পরিচালনার যুগও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ, সমতা এবং সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের সম্পর্ক গড়ে উঠবে। যে রাষ্ট্র এই বাস্তবতা যত দ্রুত উপলব্ধি করবে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার জন্য তার অবস্থান ততই শক্তিশালী হবে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির নির্মম সত্য হলো—স্থায়ী বন্ধু বা স্থায়ী প্রতিপক্ষ নয়, স্থায়ী হয় কেবল জাতীয় স্বার্থ। বাংলাদেশ যদি সেই নীতিতে অবিচল থাকে, তবে পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় শুধু দক্ষিণ এশিয়ার নয়, সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম কৌশলগত শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ তার সামনে উন্মুক্ত থাকবে। এরূপ বিচক্ষণ কূটনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায ভূ রাজনৈতিকভাবে দ্রুতই কৌশলগত আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হবে এমন কথা বলা মনে হয় অমূলক হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বে সংগঠিত হওয়া হামলার ঘটনায় একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইসরাইলের বেশিরভাগ নাগরিক। এক জরিপ প্রচার করে এমন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সম্পন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চার জন ইসরাইলির মধ্যে তিন জন চাইছেন হামাসের হামলার ‘স্বাধীন’ তদন্ত হোক। এর কারণ হলো, ইসরাইলিদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে যে, একই ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। সেটা গাজা থেকে হতে পারে, অথবা অন্য কোনো এলাকা থেকেও হতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর ইসরাইল ফিলিস্তিনের গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযান ফলে গাজা উপত্যকা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের একটিতে।
হামাসের হামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছু নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আলাদাভাবে তদন্ত করেছে, তবে সাধারণ মানুষ চাইছে স্পষ্ট জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা হোক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার এই ধরনের তদন্তকে আটকে দিয়েছেন।
কেন জাতীয় তদন্ত চাওয়া হচ্ছে? কারণ নেতানিয়াহু বলছেন, যেকোনো তদন্তই ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হবে। দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহু বলেন আসছেন যে, বিচার বিভাগ তার বিরুদ্ধে। তাই এমন জাতীয় তদন্তের ফল তার জন্য ভালো কিছু হবে না।
তিনি আরও যুক্তি তুলে ধরেছেন যে, অক্টোবর ৭-এর ঘটনার তদন্ত শুধুমাত্র এই অঞ্চলে চলমান যুদ্ধগুলো শেষ হওয়ার পরই করা উচিত। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু একের পর এক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
নেতানিয়াহুর সকল বিরোধী এই মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে তার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং নিজেদের ভোট বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, গাজার যুদ্ধ আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ১০০০তম দিনে প্রবেশ করেছে। গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলাগুলি বন্ধ হচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
গাজার সরকারি ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৭৩ হাজার ৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় উপত্যকার ৯০ শতাংশের বেশি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থল অভিযান, সামরিক অভিযান এবং জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভূখণ্ড বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গত বুধবার (১ জুলাই) ইসরাইলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেন, ইসরাইল বর্তমানে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এই নিয়ন্ত্রণ ‘১০০ শতাংশে’ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই মন্তব্যের পর হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম আরব লীগের জরুরি সম্মেলন আহ্বানের দাবি জানান। তার মতে, ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতি শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, বিশেষ করে মিশরসহ অন্যান্য আরব দেশের জন্যও হুমকি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ