প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার জওগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি বকেয়া থাকার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঐ শিক্ষার্থীর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দিনা আক্তারের পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি বাবদ এক হাজার ১০০ টাকা বকেয়া ছিল। ১ জুলাই অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রথম দিন নির্ধারিত সময়ে ফি পরিশোধ করতে না পারায় বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন এবং তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই কারণে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
কান্না জড়িত কণ্ঠে দিনা আক্তার জানিয়েছেন, তার বাবা-মা বাড়িতে না থাকার কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার ফি জমা দিতে পারেননি। প্রধান শিক্ষক ও দুই সহকারী শিক্ষিকার কাছে বিষয়টি জানিয়ে তার পরীক্ষা দেয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর অপমানবোধে তিনি বাড়ি ফিরে যান। এর ফলে পরের দিন তিনি আবারও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে তার দাবি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রতিভাবান এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ মোটেই উচিত হয়নি। ঘটনার পর থেকে দিনা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং সঠিকভাবে খাদ্য গ্রহন করতেও অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এমনকি পরদিন কোনো শিক্ষক তার খোঁজও নেননি। তাদের মতে, শিক্ষকদের আরও মানবিক হওয়া প্রয়োজন ছিল।
দিনা আক্তারের বাবা দুলাল হুসেন বলেছেন, “আমরা বাড়িতে না থাকায় আমার মেয়ে সময়মতো টাকা জমা দিতে পারেননি। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়নি। ফলে আমার মেধাবী মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বলেছেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বাবুল জানাতে পারবেন।”
সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বাবুল জানান, “পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি সংগ্রহ করা হচ্ছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থীর বকেয়া থাকায় তাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। দিনা আক্তারও তাদের মধ্যে ছিল। তবে তাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়নি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেন, “আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, “সভায় থাকায় অভিযোগপত্রটি তখন হাতে পাইনি। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন