ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যৌথ যুদ্ধবিমান প্রকল্প থেকে সরে এল জার্মানি ও ফ্রান্স


যৌথ যুদ্ধবিমান প্রকল্প থেকে সরে এল জার্মানি ও ফ্রান্স

যৌথ যুদ্ধবিমান প্রকল্প বাতিল করেছে জার্মানি ও ফ্রান্স। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নির্মাণ কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মতবিরোধ ও অচলাবস্থার কারণে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় দুই দেশের শীর্ষ নেতারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গত সপ্তাহে মন্টিনিগ্রোতে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয়Union– পশ্চিম বলকান সম্মেলনের ফাঁকে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। জার্মান কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রকল্পে জড়িত অস্ত্র ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনের সম্ভাবনা দেখা যায়নি।

ফ্রিডরিখ মার্জ ম্যাক্রোঁকে যৌথ যুদ্ধবিমান নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে আর না এগোনোর পরামর্শ দিয়েছেন। ম্যাক্রোঁর কার্যালয় জানিয়েছে, দুই নেতা দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং জার্মানি ও স্পেনের প্রতিনিধিত্বকারী ইউরোপীয় মহাকাশ প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন: আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসক জাহিদ হাসানের সদস্যপদ স্থগিত

প্রকল্পটির সমাপ্তি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন পশ্চিমা সামরিক কর্মকর্তারা রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে সতর্ক করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা জোরদারের জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। ২০১৭ সালে সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি শুরু করেছিলেন ম্যাক্রোঁ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রকল্প বাতিল হলেও ফ্রান্স-জার্মানির প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উভয় দেশ এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের জন্য এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের এই প্রকল্পের অংশীদার ছিল স্পেনও। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটির ব্যর্থতা ইউরোপের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জকেই সামনে নিয়ে এসেছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল একটি ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করা, যা ড্রোন ও অত্যাধুনিক ‘কমব্যাট ক্লাউড’ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তবে প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ, মেধাস্বত্ব এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে এয়ারবাস ও দাসোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল।

একটি ইউরোপীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের মূল যুদ্ধবিমান অংশ বাতিল হলেও ‘ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম (এফসিএএস)’ নামের আওতায় কিছু প্রযুক্তি উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে নিরাপদ যোগাযোগভিত্তিক ‘কমব্যাট ক্লাউড’ ব্যবস্থাও রয়েছে। জার্মানির প্রভাবশালী শ্রমিক ইউনিয়ন আইজি মেটাল প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির উপ-চেয়ারম্যান ইয়ুর্গেন কার্নার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট ছিল যে দাসো ও এয়ারবাস সমমর্যাদার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্ত জার্মানির বিমান শিল্প ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ছিল।

এদিকে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলেন, প্রকল্পটির ব্যর্থতা ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য একটি বড় ধাক্কা। আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইআইএসএস-এর সামরিক বিমান বিশেষজ্ঞ ডগলাস ব্যারি বলেন, এটি ওয়াশিংটন কিংবা মস্কো— কোনো পক্ষের কাছেই ইতিবাচক বার্তা নয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ফ্রান্সিস টুসা বলেছেন, প্রকল্পটি গত তিন বছর ধরেই কার্যত জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থার ওপর টিকে ছিল। অন্যদিকে চ্যান্সেলর মার্জ প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন, জার্মান বিমানবাহিনীর জন্য মানবচালিত ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান আদৌ প্রয়োজন কি না। তিনি আরো বলেছেন, জার্মানির এমন কোনো পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন নেই, যা বিমানবাহী রণতরীতে অবতরণ করতে পারে।

আরও পড়ুন: ইরান: হামলা হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুপুরের মধ্যে ১৬ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ এম


দুপুরের মধ্যে ১৬ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

দেশের ১৬ জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে চললেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রপাতও হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানাচ্ছে, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুয়েটের হলে গাঁজা সেবনের অভিযোগে আটক ৪ শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


রুয়েটের হলে গাঁজা সেবনের অভিযোগে আটক ৪ শিক্ষার্থী

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলে এক অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় চার শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। যেটি অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার সময়। এই অভিযান হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, গোপন সংবাদ মিলে শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলের একটি কক্ষে অভিযানটি সম্পন্ন হয়। অভিযানের সময় চার শিক্ষার্থীকে গাঁজা সেবনে লিপ্ত অবস্থায় আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এই অভিযানে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সহকারী পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী এবং শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিক অংশগ্রহণ করেন।

ঘটনার প্রসঙ্গে সহকারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকসহ যেকোনো ধরনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। মাদক সেবনের ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকের বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে জানিয়েছে যে, তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পাদনের পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে মাদকমুক্ত এবং সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে নতুন হামলা হলে একাই দায় নিতে হবে, নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ এম


ইরানে নতুন হামলা হলে একাই দায় নিতে হবে, নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরানের সঙ্গে ইসরাইল পুনরায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে তাকে একাই তা সামলাতে হবে।

সোমবার যখন এই সতর্কবার্তাটি এসেছে, তখন ইসরাইল ও ইরান জানিয়েছে যে, কয়েকদিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর তারা আক্রমণ বন্ধ করবে।

এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো একে অপরের ওপর হামলা চালায় ইরান-ইসরাইল।

জানা গেছে, নেতানিয়াহুর ওপর ক্রমশ বিরক্ত হয়ে ওঠা ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে উভয় পক্ষকে ‘গুলি চালানো’ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন যে, শান্তির জন্য ‘চূড়ান্ত আলোচনা’ এগিয়ে যাবে, যদি অজ্ঞতা বা মূর্খতা এর পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের अनुसार, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ফোন করে হামলা বন্ধ করতে বলেছেন।

অ্যাক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলেছি, বিবি, আপনার সতর্ক থাকা উচিত, নইলে খুব শিগগিরই আপনাকে একাই লড়তে হবে।’

রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলের প্রাণঘাতী বোমাবর্ষণের পর এই সংঘাত শুরু হয়। ইরান, যারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো শান্তি চুক্তি আংশিকভাবে লেবাননের যুদ্ধবিরতির ওপর নির্ভরশীল, উত্তর ইসরাইলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এর জবাব দিয়েছে।

জানা গেছে, ট্রাম্প রোববার সন্ধ্যায় নেতানিয়াহুকে ফোন করে প্রতিশোধ নিতেও অনুরোধ করেন। কিন্তু ইসরাইল সোমবার ভোরেই ইরানের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ে।

ইসরাইলি বাহিনী ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও একটি পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান হাইফায় একই ধরনের একটি স্থাপনায় হামলা এবং দুটি ইসরাইলি বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যমাত্রা বানায়।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘এটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দায়ী। তারা যুদ্ধবিরতি আলোচনার একটি পক্ষ। সুতরাং, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনকারী যেকোনো কাজ, তা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ আটক করাই হোক বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে দক্ষিণ লেবাননকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্যই হোক, অন্য যেকোনো ঘটনাই হোক, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দায়ী থাকবে।’

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৬ নদীর ভাঙন-ঘূর্ণিপাকে ঝুঁকিতে ১০ লাখ মানুষ, বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


১৬ নদীর ভাঙন-ঘূর্ণিপাকে ঝুঁকিতে ১০ লাখ মানুষ, বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

আসন্ন জাতীয় বাজেটে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর ভাঙন রোধ ও চরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন নাগরিক সমাজ ও জনপ্রতিনিধিরা। প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার।

ভুক্তভোগীদের মতে, অস্থায়ী প্রতিরোধ নয়, বরং স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা গেলে নদীপাড় ও চরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন সম্ভব। অন্যদিকে জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষকে স্থায়ী সংকটে রেখে দেশের সার্বিক ও সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করেন সচেতন মহল।

সরেজমিনে প্রতি বছর দেখা যায়, বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই নদ-নদীর তীব্র ভাঙনে ভিটেমাটি ও আবাদী জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে অসংখ্য পরিবার। বন্যার সময় গৃহপালিত পশুসহ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রাণপন লড়াই করতে হয় তাদের। আবার শুষ্ক মৌসুমে খরায় কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায় দেখা দেয় তীব্র টান। বন্যা, খরা আর নদীভাঙনের এই ত্রিমুখী ঘূর্ণিপাকেই কাটছে নদীপাড় ও চরাঞ্চলের মানুষের জীবন।

নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, নদ-নদী এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখার প্রধান মাধ্যম হওয়ার কথা থাকলেও কুড়িগ্রাম জেলায় তা যেন এক চরম দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর প্রধান চারটি নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নতুন জেগে ওঠা চরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় হাজার হাজার পরিবার। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই চরটিও আবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে তাদের পুনরায় অন্য চরে বসত গড়তে হয়।

বার বার ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অস্থায়ী ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে তা রোধের চেষ্টা করে। কিন্তু পরের বছর বন্যার প্রবল স্রোতে তা ভেসে যায় এবং আবারও একই নিয়তি বরণ করতে হয়। এজন্য এবারের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে নদ-নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন তারা।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের দুধকুমার পাড়ের বাসিন্দা লেবু মিয়া বলেন, 'গত বছর বর্ষায় যাত্রাপুরের বানিয়াপাড়ায় নদী ভাঙনে প্রায় ২শ টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এবারও নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা নদী পাড়ের মানুষরা বার বার ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। তাই এবারে নতুন সরকারের বাজেটে যেন ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হয়।'

স্বাধীনতার পর থেকে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর ভাঙনরোধে কোনো স্থায়ী সমাধান না করায় জেলাটি দেশের অন্যতম দরিদ্রতম জেলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তাই বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নদীশাসন এবং একই সাথে চরের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়নে কাজ করার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুড়িগ্রামে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি খন্দকার খায়রুল আনম বলেন, 'জাতীয় বাজেটে সমবণ্টনের পাশাপাশি কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোর ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশেষ নজর দিতে হবে। চরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে এই জেলার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।'

কুড়িগ্রাম চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, 'কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে ১৬টি নদ-নদী প্রবাহিত। প্রতি বছর এসব নদ-নদীর ভাঙনে হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। নদী ভাঙন রোধ এবং চরের মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগের উন্নয়ন করা না গেলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে না। তাই এসব বিশেষ এলাকার টেকসই উন্নয়নের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনসহ বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।'

কুড়িগ্রামসহ সারাদেশে নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় বিশেষ বাজেট বরাদ্দের পক্ষে মত দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যও। কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, 'দেশে নদ-নদীর ভাঙনরোধে বর্তমানে বাজেটে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা পর্যাপ্ত নয়। এই বরাদ্দ অন্তত দুই থেকে তিন গুণ বাড়ানো উচিত। যাতে করে শুধু কুড়িগ্রাম নয়, সারাদেশের মানুষ নদী ভাঙনের স্থায়ী অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়।'

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান ভাঙনের তীব্রতার কথা স্বীকার করে জানান, প্রতি বছর বর্ষায় ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারের প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পয়েন্টে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। তবে এসব নদ-নদীর তীর রক্ষায় যদি দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী কাজ করা যায়, তবে ভাঙন ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা সম্ভব।

উল্লেখ্য, জেলার ৯টি উপজেলায় জালের মতো বিস্তার করে আছে প্রধান ৪টিসহ মোট ১৬টি নদ-নদী। এই নদীগুলোর অববাহিকায় গড়ে ওঠা সাড়ে ৪ শতাধিক চরাঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ এবং নদীপাড়ের অববাহিকায় আরও ১০ লাখের বেশি মানুষ চরম ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। আসন্ন বাজেটে সরকার কুড়িগ্রামের এই প্রান্তিক জনগণের প্রাণের দাবিকে মূল্যায়ন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%