ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

দলে ফিরতে বিদ্রোহী এমপিদের ১৫ দিনের আল্টিমেটাম মমতার


দলে ফিরতে বিদ্রোহী এমপিদের ১৫ দিনের আল্টিমেটাম মমতার

দলে ফিরে আসার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি ও বিধায়কদের জন্য। দলের প্রধান এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে না এলে তাদের জন্য দলে আর কোনো স্থান থাকবে না।

রোববার (৪ অক্টোবর) উত্তর দিনাজপুরে তৃণমূলের একটি বড় সমাবেশে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বক্তব্য রাখার সময় মমতা এই ঘোষণা দেন। বিধানসভা নির্বাচনের পর উত্তরবঙ্গে এটি ছিল দলের একটি বড় শক্তিপ্রদর্শন।

মমতা মন্তব্য করেন, ‘আমরা যেসব এমপি ও বিধায়ককে নির্বাচিত হতে সাহায্য করেছি, তাদের অনেকেই বিশ্বাসঘাতক। তাদের এখানে কোনো জায়গা নেই। আমরা আবার ক্ষমতায় ফিরব। যারা তৃণমূল ছেড়েছেন, তারা ১৫ দিনের মধ্যে ফিরে এলে ঠিক আছে। এরপর আর তাদের জন্য এখানে কোনো জায়গা থাকবে না।’

আরও পড়ুন: উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ: কেসিএনএ

তিনি দলের পুনর্গঠনে তৃণমূলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের গুরুত্ব তুলে ধরেন। মমতা বলেন, নেতারা নয়, সাধারণ কর্মীরাই দলের মূল শক্তি। ১৯৯৮ সালে যেভাবে তিনি দল গড়ে তুলেছিলেন, সেভাবেই আবার তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে পারবেন বলেও দাবি করেন তিনি।

বক্তব্যে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তিনি সরব হন। মমতা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে।

একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। মমতার মতে, তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট শক্তিশালী হতে পারে না। বিজেপিকে মোকাবিলা করতে হলে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে হবে।

আরও পড়ুন: বেলজিয়াম ও সুইডেনের সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থান নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিকদের জন্য কেবল একটি বাসস্থান নয়, বরং সেটিকে নিরাপদ ও টেকসই করাও এখন সময়ের দাবি।

তিনি সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়, এর সঙ্গে আরও অনেক বিষয় সরাসরি সম্পৃক্ত।" টেকসই আবাসনের অর্থ সাধারণত নিরাপদ পানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহণ ও উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। তিনি বলেন, সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন একটি নিরাপদ পরিবেশ।

তিনি আরও বলেন, সব নাগরিকের জন্য এমন একটি নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের জন্য যতটা সহজ, বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে ততটা সহজ নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বেড়েই চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, "অস্বীকার করার উপায় নেই, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ওভার পপুলেটেড।" দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও প্রায় একই অবস্থা বিদ্যমান। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।" শহরগুলোতে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।

তবে এসব বিষয় বলা যতটা সহজ, দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এর বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ" নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ, মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একইসঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেই লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

এর ফলে একদিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে বলে জানান তিনি।

শহরাঞ্চলে জনগণের চাপ কমাতে সম্ভাব্য সব পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনাকে সরকার একটি কার্যকর বিকল্প মনে করে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান নগরায়ণ পরিস্থিতিতে রাজধানী এবং কতিপয় বড় শহরের কেন্দ্রীভূত উন্নয়নের বাইরে এসে বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয় বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন।

তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।

বাসযোগ্য আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের নানা রকম চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা—উভয়েরই মুখোমুখি করছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলায়, বিশেষত সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ দ্রুততার সঙ্গে, স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

দেশের নগর বা শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে সঙ্গত কারণেই কিছুটা কষ্টসাধ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন খাতসংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ, মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার। নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সক্ষম হলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’—এটি দেশের নাগরিকদের সামনে একটি বিদ্যমান বাস্তবতা হয়ে উঠবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে প্রসিকিউশন, ন্যায়বিচারের প্রহর গুনছে কুষ্টিয়ার শহীদ পরিবারগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে প্রসিকিউশন, ন্যায়বিচারের প্রহর গুনছে কুষ্টিয়ার শহীদ পরিবারগুলো

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড বৃদ্ধি করার জন্য চলতি সপ্তাহে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রসিকিউশন।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। তবে প্রসিকিউশনের প্রত্যাশা অনুযায়ী সাজা সন্তোষজনক না হওয়ায় তা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এই আপিল আবেদন দাখিল করা হবে।

গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। একই সঙ্গে দুটি অভিযোগের জন্য ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, প্রসিকিউশনের আনা আটটি সুনির্দিষ্ট মূল অভিযোগের মধ্যে ৩ নম্বর অভিযোগে ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং প্রতিটিতে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। যদিও পৃথক অভিযোগে দণ্ড দেওয়া হলেও সাজা একই সঙ্গে চলায় তাকে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে বিচারক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। শুনানি শেষে ২ নভেম্বর আটটি অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলায় ৩০ নভেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের পর ১ ডিসেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন দুজন। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২২ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয় এবং ৩০ জুন এই রায় ঘোষণা করা হয়।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে পুলিশ ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র সদস্যদের গুলিতে নিহত ৬ জনের পরিবার আজও স্বজন হারানোর বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য অপেক্ষা করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সাজা বাড়ানোর আপিল প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইনুর প্ররোচনা ও সরাসরি নির্দেশে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল যে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন, তা নিহত পরিবারগুলোর কষ্টের তুলনায় অপ্রতুল। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সাজা বাড়ানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানে তাঁরা ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনী কলেজ ছাত্রদলকর্মীকে পিটিয়ে জখম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেনী প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৮ পি.এম


ফেনী কলেজ ছাত্রদলকর্মীকে পিটিয়ে জখম

অভ্যন্তরীণ 'বিরোধের জেরে' মো. তাসফিক সোয়ালেহিন (১৯) নামে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের এক কর্মীকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে কলেজ গেট এলাকায় ২০-৩০ জনের একটি দল তার উপর হামলা করে। তবে এই ঘটনাটিকে দলীয় কোন্দল নয়, ব্যক্তিগত বিরোধ বলে দাবি করছেন কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করেই এসব ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাসফিক সোয়ালেহিন ফেনী কলেজ ছাত্রদলের একজন কর্মী। তিনি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি নোমানুল হক নোমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। রোববার দুপুরে কলেজে পরীক্ষা শেষে বাড়ি যাওয়ার জন্য গেটে এলে আবির ও আদিত্যর নেতৃত্ব ২০-৩০ জনের একটি দল তাকে অতর্কিতভাবে মারধর করে আহত করে। পরে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। এই ঘটনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কলেজ সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে বিরোধের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসে।
এ বিষয়ে আহত মো. তাসফিক সোয়ালেহিন বলেন, আমি পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় ২০ থেকে ৩০ জন এসে আমার উপর হামলা চালায়। তবে তাদের বেশিরভাগই অপরিচিত। এর মধ্যে আবির ও আদিত্য নামে দুইজনকে আমি চিনি। হামলাকারীদের বেশিরভাগকেই কলেজ ছাত্রদলে কোনদিন দেখিনি। তাদের হামলায় আমার মাথার পেছনে আঘাত লাগে, পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। তার উপর কেন হামলা করা হয়েছে এ ব্যাপারে কিছু জানেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, কলেজের বাইরের কোন বিষয়ের সাথে আমি জড়িত নই। আমি শুধুমাত্র ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করছি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান রনি অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনা কলেজ ছাত্রদলের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, একাডেমি ও ফেনী সেন্টার কেন্দ্রিক দুটি কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুই গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিরোধে গড়ায়। সেটিকে কেন্দ্র করে রেলগেট এলাকায় একজনের ওপর হামলা করা হয়। ওই ঘটনার জেরে গতকাল কলেজের এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করা হয়েছে। হামলায় একজন গুরুতর আহত হলে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।
অন্যদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি নোমানুল হক নোমানও ঘটনাটিকে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল নয় বলে দাবি করে বলেন, আমি দুপুরে কলেজে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। এখানে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধ নেই। তিনি আরও বলেন, কলেজ ছাত্রদল শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বদ্ধপরিকর।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনা সম্পর্কে জেনেছি, তবে এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোসেনপুরে আমন মাঠে সবুজের সমারোহ,সোনালী স্বপ্নে বিভোর কৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৯ পি.এম


হোসেনপুরে আমন মাঠে সবুজের সমারোহ,সোনালী স্বপ্নে বিভোর কৃষক

 

শরতের নীল আকাশের নিচে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন রোপা আমনের সবুজ সমারোহ।যেদিকে দু চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ, উপজেলার মাঠ জুড়ে যেন সবুজ গালিচায় মোড়ানো, এই গালিচায় মিশে আছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন।পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচের যোগানদাতা এই ফসলের মাঠ।আর মাত্র মাসখানেক পরেই ধানের গোলা ভরে উঠবে সোনালী ফসলে এমন ভাবনায় দিন রাত নানান স্বপ্নে বিভোর তারা।

‎রবিবার সরেজমিনে উপজেলার মাঠগুলি ঘুরে দেখা যায়, ধানের শীষে দানা আসতে শুরু করায় ভালো ফলনের প্রত্যাশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তবে মাঠপর্যায়ে আরও পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চান তারা।

‎উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে,

‎চলতি মৌসুমে হোসেনপুরের ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় আট হাজার ২৫১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩৩ থেকে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন।

‎ধানের অবস্থা ভালো থাকলেও কোথাও কোথাও ইঁদুরের ক্ষতির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ।

‎‎সিদলা ইউনিয়নের গড় মাসুয়া গ্রামের সফির উদ্দিন ও কোনা মেছেরা গ্রামের রুবেল মিয়া জানান, পোকার আক্রমণে তাদের ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় ভালো ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

‎‎অন্যদিকে, গোবিন্দপুর গ্রামের সোহরাব উদ্দিন এবং জিনারী ইউনিয়নের পিপলা কান্দি গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, কিছু জমিতে ইঁদুরের ক্ষতি হলেও এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারলে আমনের ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন তারা।

‎কৃষকদের মতে, সময়মতো তেল, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হলে চাষাবাদ আরও নির্বিঘ্ন হবে।

‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলছেন, আমনের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

‎ইঁদুর ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় জমির আইল ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, পার্চিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%