রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৩ পি.এম
বরিশাল নগরীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় নগরীর যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় বিএমপি কমিশনার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নগরীর যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয় ও সমন্বিত ভূমিকা রাখার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসাধারণের চলাচলে স্বস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
মতবিনিময় সভায় উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইনসহ ট্রাফিক বিভাগের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রাহকদের ধর্মীয় এবং আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রচলিত ব্যাংকিং এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডুয়াল ব্যাংকিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। এছাড়া, বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সঙ্গে আরও সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ জাতীয় সংসদে ঢাকা-৪ আসনের বিরোধী দলের সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য প্রদান করেন।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের ধর্মীয় এবং আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত ও শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরও সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোকে মোট ১ হাজার ৬৯৯টি শাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ১ হাজার ৭৪টি এবং গ্রামাঞ্চলে ৬২৫টি শাখা রয়েছে।
এসব শাখার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৪০০টি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২২৬টি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৪১টি, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৩৮টি এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখা রয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখার মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২০৬টি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৮১টি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসির ১৫৫টি, ইউনিয়ন ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১১৪টি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১০৫টি শাখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৩টি শাখাও এর আওতায় রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ৩৫টি প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংকে মোট ৭৫টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা এবং ১ হাজার ১০২টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া, আরও দু’টি কনভেনশনাল ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার জন্য তিনি ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এর আগে জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা বিপিএল শুরু করতে প্রস্তুত নন। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বোর্ডের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, ক্রিকেটাররা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। কারণ, টুর্নামেন্টটি তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হওয়ায় তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন। ক্রিকেটারদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে বিসিবি পরবর্তীতে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি বাড়িয়ে দেয়।
তবে আমিনুল হক বলেন, "বিপিএলের মতো একটি জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।" তিনি জানান, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের পর তিনি বিপিএল স্থগিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি এইমাত্র আপনাদের (গণমাধ্যম) কাছ থেকে জানতে পারলাম, বিপিএল যে অনুষ্ঠিত হবে না। বিপিএল বাংলাদেশের জন্য একটি জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট।"
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিপিএল আয়োজন না হওয়ায় বোর্ড সভাপতি আপনাদের কাছে কিছু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, "বিপিএলের মতো একটি টুর্নামেন্ট প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।" কেন এটি অনুষ্ঠিত হলো না, তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রতিযোগিতা যাতে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সেদিকে নজর রাখা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে একটি সমন্বিত, বাস্তবসম্মত ও পরিমাপযোগ্য দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনএপি) প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডাকে এগিয়ে নেওয়া কেবল একটি বৈশ্বিক অঙ্গীকারই নয়; বরং এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও যৌথ কর্তব্য।’
আজ রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডেভেলপিং বাংলাদেশ’স নিউ-জেনারেশন ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান অন ডব্লিউপিএস’ শীর্ষক দু’দিনের কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশ যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করেছে। আগামীকাল (সোমবার) এটি শেষ হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে সাথে নিয়ে ডব্লিউপিএস এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অঙ্গীকারবদ্ধ।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি এই এজেন্ডার প্রতি দেশের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি ২০১৯-২০২৫ মেয়াদে গৃহীত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় কর্মপরিকল্পনার পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরেন, যা ইউএন উইমেনের সহায়তায় বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে।
বক্তব্যে শামা ওবায়েদ মেয়েদের শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার গৃহীত নানা উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন।
পাশাপাশি বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নারীর শিক্ষা, উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং সংস্কৃতি ও ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ বাড়াতে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলোও তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য এই কর্মপরিকল্পনাটি হতে হবে সুপরিকল্পিত, পর্যাপ্ত অর্থায়নসম্পন্ন এবং কার্যকরভাবে সমন্বিত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পরিকল্পনার মূল মালিকানা থাকতে হবে সেই নারীদের হাতেই, যাদের সেবায় এটি তৈরি করা হচ্ছে।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং বলেন, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তার মজবুত ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার বড় সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।
তিনি মাঠপর্যায়ের এর বাস্তবায়ন, নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ, পরিমাপযোগ্য ফলাফল এবং জবাবদিহিতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় গ্রুপের সদস্য এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন, যারা বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের ডব্লিউপিএস রূপরেখা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন।
জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি কার্যকর রূপরেখা প্রস্তুত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটে সময়মতো ও ন্যায্য মূল্যে সার না পাওয়ার অভিযোগে গাছের গুঁড়ি ফেলে লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর বাজারসংলগ্ন বিসিআইসি ডিলার মেসার্স তাহের ট্রেডার্সের সামনে এ বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ শুরু হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন কৃষকরা।
বিক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, টাকা দিয়েও সময়মতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আমনসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, খুচরা বাজারেও পর্যাপ্ত সার মিলছে না। একই সঙ্গে ডিলার পয়েন্ট থেকেও চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করা হচ্ছে না।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। পরে দুপুরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা সঠিকভাবে সার বিতরণের আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণ শুরু হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহাঃ রাসেদুল হক প্রধান বলেন, “জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। গতকালও ওই ডিলার পয়েন্টে ৩০০ বস্তা সার দেওয়া হয়েছে। সকালে বৃষ্টির কারণে সার বিতরণে কিছুটা দেরি হওয়ায় কৃষকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা এখন অবরোধ তুলে নিয়েছেন এবং সার বিতরণ শুরু হয়েছে।”
জেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আমন মৌসুমে কৃষকদের জন্য সময়মতো ও ন্যায্য মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ