০২:৪৩ পি.এম
রোববার ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে একটি বিস্তৃত সুড়ঙ্গ ধ্বংস করেছে। এতে ওই এলাকার একাধিক হামলার খবর লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে।
ঈরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ জানায়, তারা এসব হামলার জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইল একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিটির লক্ষ্য হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে শান্তির পথ সুগম করা এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা। ঠিক এ সময়েই এসব ঘটনা সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
বৈরুত থেকে প্রকাশিত বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানাচ্ছে, রোববার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়েহসহ প্রায় কয়েকটি এলাকায় ইসরাইল হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের ছোড়া একটি স্টান গ্রেনেডে দুই জন আহত হয়েছেন।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ ও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ‘দুইশ’ মিটারের বেশি দীর্ঘ ও ২৫ মিটারেরও বেশি গভীর এই সুড়ঙ্গে বিভিন্ন অস্ত্র এবং ইসরাইল রাষ্ট্র এবং এর বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে নির্মিত একাধিক উৎক্ষেপণ শ্যাফট ছিল।’
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
বিবৃতিতে আরও মন্তব্য করা হয়েছে, ‘অবকাঠামোটি ধ্বংসের আগে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্র এবং লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন প্রতিনিধিকে এই বিষয়ে অবগত করেছে।’
দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর টাইরে অবস্থানরত এএফপি’র একজন প্রতিবেদক জানান, মাজদাল জুন গ্রামের কাছে বিস্ফোরণের স্থান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে তিনি ধোাঁয়া উঠতে দেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, লেবাননের সংবাদমাধ্যমে ইসরাইল কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর খবর প্রচারিত হওয়ার পর টাইরের দক্ষিণের বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা এলাকা ছেড়ে চলে যান।
রোববারের হামলার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘শত্রুপক্ষ যা করেছে, তা তাদের যুদ্ধবিরতি মেনে আসার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা এসব লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করবে। নিজেদের মাতৃভূমি ও জনগণকে রক্ষার অধিকার তারা রাখে।’
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
- হিজবুল্লাহর ওপর চাপ -
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানাচ্ছে, দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন।
পরে তারা জানায়, তাদের বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে হিজবুল্লাহর এক সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।
মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট ছুঁড়ে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে।
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
এর জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানান, চুক্তি বাস্তবায়নে তার দেশ ‘নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।’
চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেবে— এমন ‘পাইলট জোন’ গঠন করে বৈরুত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার পরই কেবল অধিকৃত লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইল সেনা প্রত্যাহার করবে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে তার দেশের জন্য ঐতিহাসিক এবং তেহরানের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ জোর দিয়ে বলেছেন, যতদিন হিজবুল্লাহর কাছে অস্ত্র থাকবে, ততদিন ইসরাইলি সেনারা লেবাননে অবস্থান করবে।
-'অভ্যন্তরীণ সংঘাত' -
শুরু থেকেই ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনার বিরোধিতা করে আসছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি এ চুক্তিটিও প্রত্যাখ্যান করেছে।
হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম শনিবার বলেছেন, তাদের কাছে এ চুক্তি ‘বাতিল ও অকার্যকর।’
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
রোববার এএফপি’র এক প্রতিবেদক জানান, শহরের হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ উপশহরের পাশ দিয়ে যাওয়া বৈরুত বিমানবন্দর সড়কে ‘লেবানন ফার্স্ট’ লেখা একটি সাইনবোর্ডে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে সেখান থেকে ‘ধন্যবাদ ইরান’ লেখা বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ রোববার বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যা করেছে, তা দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়া এবং শত্রুর সঙ্গে সংঘাতকে অভ্যন্তরীণ সংঘাতে রূপ দেওয়া উদ্দেশ্যে উসকানি।’
লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার ও হিজবুল্লাহর মিত্র নাবিহ বেরি বলেন, বর্তমানে এই চুক্তি পাস হবে না।
তিনি এটিকে এমন একটি চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন, যা ‘লেবাননের অধিকার’ সংরক্ষণ করে না।
নাবিহ বেরি রাজনৈতিকভাবে এর মোকাবিলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘এটি ১৯৮৩ সালের ১৭ মে স্বাক্ষরিত চুক্তির চেয়েও দশ গুণ খারাপ।’
নাবিহ বেরি লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সর্বশেষ শান্তি চুক্তির উল্লেখ করেন।
ওই চুক্তি পর সিরিয়া এবং তাদের লেবাননি মিত্রের চাপে বাতিল করা হয়।
হিজবুল্লাহ বারবার লেবাননের কর্তৃপক্ষকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরানের আলোচনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে তেহরান জোর দিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের যেকোনো যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
নাবিহ বেরির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও তেহরানের আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য লেবাননের যুদ্ধের অবসান ঘটানো, শরণার্থীদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনা, দখলদারিত্বের অবসান এবং লেবাননের ভূখণ্ড থেকে জায়নবাদী শাসনের প্রত্যাহার নিশ্চিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন