০৩:৫৯ এম
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হয়েছে। শনিবার, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিবসের তাৎপর্য স্মরণে এসব দূতাবাস প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠান শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, আলোচনা পর্ব এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করা হয়। এছাড়া দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আলোচনা পর্বে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জাতি গঠন প্রক্রিয়ায় এর অবদান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে দেশের জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুরক্ষায় জনগণের সম্মিলিত আকাক্সক্ষা ধারণ ও সংরক্ষণে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিল ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূতগণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, নেপালের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ প্রায় ১০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সকালে হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান। এ সময় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। সভায় ইকবাল হোসেন খান জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতির অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক একাডেমিক সেমিনার ও প্যানেল আলোচনায় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ১৯৭৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তার সুদূরপ্রসারী উদ্যোগে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাইকমিশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় ইতিহাস, কূটনৈতিক উত্তরাধিকার এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের বন্ধুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। এতে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষাবিদ, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: পদ্মার পানি নিয়ে ষড়যন্ত্র হলে লংমার্চের হুঁশিয়ারি আখতার হোসেনের
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হুদ ইব্রাহিম। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. কে এম হুরিয়া পারভীন এবং মালদ্বীপের বিশিষ্ট বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি নেতা খলিলুর রহমান।
প্যারিস (ফ্রান্স) প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা। এরপর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা পর্ব শুরু হয়। আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বাক্ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ৭ নভেম্বরের বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করা হয়। পরে অতিথিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আরও পড়ুন: ‘আসবো আসবো বলে আসবেন না তা হবে না’— হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন