১১:১০ এম
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশের তৈরি পোশাক খাত একটি বড় হোঁচট খেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসের মধ্যে দেশটিতে পোশাক রফতানি আয় ৮ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সময়ে, রফতানির পরিমাণও প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম এই বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছেন। উদ্যোক্তাদের মতে, চীন ও ভারতের রফতানি কমলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যার কারণে বাংলাদেশ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি আয় ৪ শতাংশ বেড়ে গেছে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে; এই পাঁচ মাসের মধ্যে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ কমেছে।
আরও পড়ুন: দুদকের সংবাদ সম্মেলন চ্যালেঞ্জে আসিফ মাহমুদ রিট শুনানি শেষ, আদেশ ১১ নভেম্বর
এমন তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতরের টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল অফিস (অটেক্সা) প্রকাশ করেছে। তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৩ দশমিক ২৪৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ কম। তবে একই সময়ে কম্বোডিয়ার রফতানি ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে গেছে এবং ইন্দোনেশিয়ার বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর পরেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।
শুধু রফতানি আয় নয়, রফতানির পরিমাণও কমেছে। জানুয়ারি থেকে মে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়েছে ১০৮ কোটি ৫ লাখ এসএমই (স্কয়ার মিটার ইকুইভ্যালেন্ট) পোশাক, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ২ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ০৫ ডলার থেকে ২ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে এসেছে।
এনজেড অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালেউদ জামান খান বলেন, বাংলাদেশকে চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় থাকতে হচ্ছে। এসব দেশ নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন করে সুবিধা দিচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ২৭ শতাংশ কর আরোপিত হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষমতা আরও হ্রাস পাবে।
উদ্যোক্তাদের মতে, জ্বালানি সংকটসহ ভিন্ন ভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে তৈরি পোশাক খাতে। প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা ও প্রণোদনার অভাবের কারণে চীনা বাজার থেকে সরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রয়াদেশগুলো বাংলাদেশ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট
বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেছেন, গত প্রায় ছয় মাস ধরে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে একটি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও অনেক ক্রয়াদেশ আগের বছরেই দেয়া হয়েছিল, তারপরও অনেক ক্রেতা সেগুলো বাস্তবায়নে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মন্তব্য করেছেন, সামান্য প্রণোদনা নিতে গিয়ে উদ্যোক্তাদের যে পরিমাণ হয়রানি হতে হয়, তাতে এই প্রণোদনা তুলে নেয়াই ভালো।
তবে অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, শুধু মে মাসের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়েছে। যদিও একই সময়ে ইউনিট মূল্য কমেছে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ।
আরও পড়ুন: ৬২ হাজার ১০০ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরে ভিড়লো মাদার ভ্যাসেল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন