০৩:২৭ পি.এম
বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানান। এতে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তারা। ছবি: পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল (৯ জুলাই) আসন্ন বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন করবেন। মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, "আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সরকার আগামী ৯ জুলাই বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ আয়োজন করতে যাচ্ছে। দেশের জনগণের মাঝে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশ রক্ষার এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই আয়োজন।"
আরও পড়ুন: হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি মোজাম্মেলকে গ্রেফতার দেখানো হল
এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠান উদ্বোধনের ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন।
এছাড়াও, ঢাকায় পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের ৭টি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে ৭ দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ১২০টি স্টল থাকবে।
মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যে বনায়ন কার্যক্রমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান সরকারের গতিশীল ও ভিশনারি নেতৃত্বে বাংলাদেশের বন ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম ‘স্মার্ট’ ফরেস্ট্রির যুগে প্রবেশ করেছে। প্রযুক্তি ও প্রকৃতির মেলবন্ধন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
আরও পড়ুন: নাজমা আক্তার: শ্রমিক অসন্তোষ রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ
এ বিষয়ে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা এবং 'স্মার্ট ফরেস্ট্রি'-এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং তার রক্ষণাবেক্ষণের এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।
এসব কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্যাটেলাইটভিত্তিক পর্যবেক্ষণ। জিআইএস (GIS) এবং রিমোট সেনসিং প্রযুক্তির মাধ্যমে রোপণ করা চারাগাছের অবস্থান ও প্রবৃদ্ধি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজের মাধ্যমে সারাদেশে রোপণ করা বৃক্ষের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ট্রি মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হবে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিটি বৃক্ষের টিকে থাকার হার ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
আরও পড়ুন: মিরপুরে পোশাকশ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পাঁচটি মামলা, আটক ২৯
তিনি বলেন, ফোনের প্রযুক্তির ব্যবহার করে দুর্গম চরাঞ্চল বা উপকূলীয় অঞ্চল এবং বনাঞ্চলে ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাল ঘন সৃজন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আগামী ৫ বছরে এই বনায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং ৩.৫ লক্ষাধিক নতুন 'সবুজ কর্মসংস্থান' সৃষ্টি হবে। এতে করে গ্রামের নারী ও যুবসমাজ নার্সারি ব্যবসা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: হত্যাচেষ্টা মামলায় ফের গ্রেপ্তার আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন