প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের পূর্ব শুল্যকিয়া গ্রামের বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, দখল ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে জেলা শহর মাইজদীর একটি দৈনিক পত্রিকার জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে বিচার দাবি করেন সদর উপজেলার পূর্ব শুল্যকিয়া গ্রামের আবদুল হালিমের ছেলে ভুক্তভোগী মো. সুমন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. সুমনের স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া, বাবা আবদুল হালিম, ভাই মো. ছানা উল্লাহসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
মো. সুমন অভিযোগ করেন, গত ৬-৭ বছর ধরে তার মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় জমি এবং বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করে আসছে স্থানীয় আবদুল বারেকের ছেলে মো. কামাল, মো. জামাল, মো. বাকের, সাবিছ উদ্দিন, মো. বোরহান ও আলাউদ্দিনসহ তাদের সহযোগীরা। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তারা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকার নিরীহ ব্যক্তিদের জায়গা-জমি জোরপূর্বক দখল করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ এপ্রিল রাতে স্থানীয় উত্তর ওয়াপদা বাজারে তাকে বাড়ির জমির দখল ছেড়ে দিতে প্রথমে গালিগালাজ এবং একপর্যায়ে মারধর করে আহত করেন উল্লেখিত ব্যক্তিরা। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে হামলাকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর সুধারাম থানায় লিখিত অভিযোগ করলে গত ১৮ মে উল্লেখিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
সুমন বলেন, পরদিন অর্থাৎ ১৯ মে তিনি তার জমিতে মাটি কাটার কাজ করতে গেলে জামাল ও সাজিব সংঘবদ্ধ লোকজন নিয়ে তাকে মাটি কাটতে বাধা দেন এবং হামলার চেষ্টা করেন। ওই সময় হামলায় ব্যর্থ হয়ে ২২ মে ভোর রাতে তারা বাড়ির একটি বসতঘর ও একটি খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করে। ওই ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে থানা থেকে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ৬ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের বসতঘরের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং জোরপূর্বক ঘর দখল করে নেন। এ সময় তারা রান্নাঘর ও বাথরুম ভেঙে ফেলেন এবং ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে অভিযুক্তরা তার খামারে থাকা প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের গরু, মুরগি ও মাছ লুটের চেষ্টাও করছে। তাকে এবং তার আত্মীয়স্বজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়িছাড়া করেছে সন্ত্রাসীরা।
ভুক্তভোগীর দাবি, এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও তিনি কোনো আইনগত সহযোগিতা পাননি। তাই পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার অভিযুক্তদের মুঠোফোনে কল করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
যোগাযোগ করা হলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারী ও অভিযুক্তরা পরস্পরের আত্মীয়-স্বজন। থানায় অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বসতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বসতঘর দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন