শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৬ পি.এম
সাড়ে চার বছরের সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর প্রস্তুতির মধ্যে ইউক্রেনে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশটির বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত হামলায় এক শিশুসহ পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের একটি শিল্পকেন্দ্রে হামলার বিষয়ে স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর হানঝা জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের হামলায় শ্রমিকদের মৃত্যু ঘটেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিকোপোল জেলায় পৃথক আরেকটি হামলায় ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু বাড়ি ও একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলের দুটি ধাতু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় হামলা চালিয়েছে। মন্ত্রণালয় কারখানাগুলোকে ইউক্রেনের সামরিক উৎপাদনের জন্য ধাতব পণ্যের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে রাতের হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো। বোরিসপিল জেলায় হামলার ফলে সৃষ্ট আগুনে একটি নয়তলা আবাসিক ভবন আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, রুশ বাহিনী রাতের বেলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ অঞ্চলের একটি শপিং সেন্টারে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৭২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী আহত হয়েছেন। জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানায়, পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীদের বারবার নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুকূল হলে তারা আবার কাজে ফিরেছেন।
দেশটির বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া তাদের রোস্তভ ও ভোরোনেজ অঞ্চল থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং রাতের বেলায় ১৬৭টি আক্রমণকারী ড্রোন মোতায়েন করেছে। ড্রোনগুলোর মধ্যে শাহেদ-টাইপ (যার প্রায় অর্ধেকই জেট-চালিত), গেরান এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী বা ‘ডিকয়’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১২৮টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রাতের বেলায় ইউক্রেনের ৫৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া রাতে কিয়েভ ও বোরিসপিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। তিনি এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি বলেন, বিমানবন্দরগুলোতে রাশিয়ার হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিমানে করে ইউক্রেন সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতির প্রতিক্রিয়া। তিনি বলেন, "আমরা রাশিয়ার এই পদক্ষেপটি আমলে নিয়েছি এবং আগামী সপ্তাহে রুশ আকাশসীমা নিয়ে আমাদের কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করব।"
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি জানান, মস্কো ও কিয়েভ উভয় স্থানে বৈঠকের জন্য প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের আলোচক দল মার্কিন পক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে, দ্বীপটির উপকূল থেকে প্রায় ছয় নটিক্যাল মাইল দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ইরানি সংবাদমাধ্যম
দ্বারা জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সূত্রের তথ্য মতে, ট্যাংকারটি দ্বীপটির নিকটে নোঙর করা অবস্থায় মার্কিন বাহিনী সেখানে ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। হামলার পর, ট্যাংকারের নাবিকরা নিরাপদে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, এই হামলার ফলে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, হামলার ফলে ট্যাংকারটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং হামলার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য গোপন করে মৃত স্বামীর সরকারি পেনশনের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সরকারি মহিলা কলেজের অফিস সহায়ক আফসানা বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে পরিচিত সাগর আহমেদ উজ্জ্বলের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন মৃত স্বামীর পরিবারের সদস্যরা।
অভিযুক্ত আফসানা বেগম ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অফিস সহায়ক মৃত আসাদ মিয়ার স্ত্রী। অভিযোগ রয়েছে, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলেও তা গোপন রেখে বিধবা হিসেবে স্বামীর পেনশনের টাকা উত্তোলন করেছেন।
তবে আফসানা বেগম দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে সাগর আহমেদ দাবি করেছেন, আফসানা তার স্ত্রী এবং পেনশনের টাকা উত্তোলনের সুবিধার্থে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল।
মৃত আসাদ মিয়ার ভাই ও অভিযোগকারী কাউসার মাহমুদ বলেন, “আমার ভাই সরকারি মহিলা কলেজে অফিস সহায়কের চাকরি করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর আমার ভাবি আফসানা বেগম আরেকটি বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর তিনি আমাদের না জানিয়ে ভাইয়ের প্রাপ্য পেনশনের টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। আমাদের কিছু না জানিয়ে ভাবি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মা অসুস্থ, অথচ ভাইয়ের পেনশনের এক টাকাও আমার মাকে দেওয়া হয়নি। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ভাবি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে যোগসাজশে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ে হলে এভাবে পেনশনের টাকা উত্তোলন করা যায় না। আমি চাই বিষয়টি তদন্ত করা হোক এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত নেওয়া হোক।”
তিনি আরও বলেন, “আমার সাদিয়া নামে একটি ভাতিজি রয়েছে। তার ভবিষ্যৎ নিয়েও আমরা চিন্তিত।”
জানা যায়, ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি মারা যান সরকারি মহিলা কলেজের অফিস সহায়ক আসাদ মিয়া। তার স্ত্রী আফসানা বেগমও একই প্রতিষ্ঠানে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের সংসারে সাদিয়া নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রী হিসেবে প্রাপ্য পেনশনের অর্থ উত্তোলন করেন আফসানা বেগম। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি গোপনে সাগর আহমেদ নামের এক যুবককে বিয়ে করেন।
স্থানীয়ভাবে সাগর আহমেদ উজ্জ্বল যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হলেও স্থানীয় যুবলীগ নেতারা জানান, তিনি সংগঠনের কোনো পদে নেই। তাদের দাবি, ব্যক্তি সাগরের কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন নেবে না এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগের নাম ব্যবহার করে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়।
অভিযোগের বিষয়ে আফসানা বেগম বলেন, “আমার কারও সঙ্গে বিয়ে হয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।”
তবে সাগর আহমেদ বলেন, “আফসানা আমার স্ত্রী। সে আমাকে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিল। গোপন না রাখলে নাকি আগের স্বামীর পেনশনের টাকা উত্তোলন করতে পারবে না।”
এদিকে আফসানা বেগমের ভাই উজ্জ্বল মিয়া দাবি করেন, “সাগর আমার বোনকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সাগরের কাছ থেকে আমার বোনকে ডিভোর্স করাব।”
এ বিষয়ে ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, “আসাদের স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুর পর নিয়মানুযায়ী টাকা উত্তোলন করেছেন। তার দ্বিতীয় বিয়ের কথা আমাদের জানা ছিল না। নিয়ম রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ে হলে তিনি পেনশনের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না। এ বিষয়ে আলাদা সরকারি বিধান রয়েছে।”
এ বিষয়ে ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, “উক্ত বিষয়ে আমাদের জানা নেই। আমি আগামীকাল রবিবার অফিসে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
তিনি আরও বলেন, “দ্বিতীয় বিয়ে হলে পেনশন ভাতা নিতে পারেন না। এখন যদি আসাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করেন, তাহলে আদালত উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”
অভিযোগের সত্যতা, দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য গোপন করে পেনশনের টাকা উত্তোলনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং সরকারি বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় মৃত আসাদ মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ জানিয়েছেন, হজ নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সৌদি সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শ্রেষ্ঠ হজ গাইডদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করার পাশাপাশি বাংলাদেশি হাজিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
গতবার একটি এজেন্সির অব্যবস্থাপনার কারণে দুজন হাজি সময়মতো হজে যেতে পারেননি উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী জানান, পরে পুলিশ, এনএসআইসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহযোগিতায় তাদের হজে পাঠানো হয়। এটিকে তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হাজিদের সেবার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, গতবার সরকার বিনা মূল্যে ১ লাখ পানির বোতল সরবরাহ করেছে।
এছাড়া লাগেজ র্যাপিং করতেও কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি; পুরো কার্যক্রম সরকারের ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নদীর বুকে সারিবদ্ধ নৌকাগুলি। নৌকাগুলিতে সাজানো রয়েছে তাজা শসা, লাউ, করলা, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, ঝিঙে, বড়বটি—এমন সব ধরনের সবজি।
কৃষকদের চিৎকার এবং পাইকারদের দরদামে সকাল থেকেই চারপাশ মুখর হয়ে আছে।
বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের গজালিয়া খালে শতবর্ষী ভাসমান সবজি হাটের দৃশ্য এটি।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই ভাসমান সবজির হাট সপ্তাহে দুই দিন—রবি ও বুধবার বসে। কৃষকদের উৎপাদিত সবজি বিক্রির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
শুধু বাগেরহাট নয়, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা নৌকা ও ট্রলার নিয়ে এখানে আসেন সবজি কিনতে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গজালিয়া বাজারের পাশে গজালিয়া খালে ভাসমান হাটে বেচাকেনা চলে চার ঘণ্টা ধরে। এই সময়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সবজি বেচাকেনা হয়। পুরো মৌসুমে এই হাটে কেনাবেচার পরিমাণ প্রায় চার কোটি টাকার
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে গজালিয়া খালে হাটের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। আশপাশের গ্রামের কৃষকরা নিজেদের জমিতে উৎপাদিত সবজি নৌকায় করে নিয়ে আসছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নৌকার সংখ্যা বাড়তে থাকে।
নৌকায় করে সবজি নিয়ে আসা কৃষকরা জানান, এই হাটে সরাসরি পাইকারদের কাছে সবজি বিক্রি করতে পারায় তাদের উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম পাওয়া যায়। একই সঙ্গে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাওয়ায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কম থাকে।
পিরোজপুরের ব্যবসায়ী সালাম হালাদার বলেন, গজালিয়ার এই হাটে একসঙ্গে অনেক ধরনের টাটকা সবজি পাওয়া যায়। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি সবজি কেনার সুযোগ থাকায় আমরা এখান থেকে বড় পরিসরে বিভিন্ন সবজি সংগ্রহ করতে পারি। পরে এসব সবজি পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে বিক্রি করি।
বরিশালের ব্যবসায়ী সুলতান শেখ বলেন, গজালিয়া খালের ভাসমান হাটে নিয়মিত অনেক কৃষক সবজি নিয়ে আসেন। তাই অন্য জায়গার তুলনায় এখানে একসঙ্গে বেশি সবজি কেনা যায়। ভোর থেকে শুরু করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধরনের বেচাকেনা হয়ে যায়। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হলে ব্যবসার পরিধি আরো বাড়বে।
স্থানীয়দের দাবি, শত বছরেরও বেশি সময় ধরে গজালিয়া খালে এই ভাসমান হাট চলে আসছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় কৃষকরা এখানে নিজেদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে আসছেন। তাদের কাছ থেকে কেনা এসব সবজি নৌকা ও ট্রলারে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যান পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলে আধুনিক বাজারব্যবস্থার সঙ্গে এর সংযোগ বাড়ানো গেলে শতবর্ষী এই হাটটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় সবজি বিপণনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। এতে স্থানীয় কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে বলে মনে করেন তারা।
স্থানীয় কৃষক রাজ্জাক মোল্লা জানান, তারা নিজের জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। হাটের দিনে নৌকায় করে সবজি নিয়ে আসেন। এখানে পাইকাররা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সবজি কিনে নেন। ফলে তাদের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বিক্রি হয়ে যায় এবং পরিবহন খরচও তুলনামূলক কম পড়ে।
তবে সম্ভাবনাময় এই হাটে রয়েছে নানা সমস্যা। বিশেষ করে যোগাযোগব্যবস্থা, সড়ক এবং নৌকা-ট্রলার ভেড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট অবকাঠামোর অভাবে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুনের ভাষ্য, হাটটি অনেক পুরনো। এখানে প্রচুর সবজি চাষি ওঠে এবং অনেক ব্যবসায়ী আসেন। কিন্তু হাটে আসার সড়ক ভালো না। নৌকা ও ট্রলার ভেড়ানোর জন্যও ভালো ব্যবস্থা নেই। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরো বাড়ে।
তিনি বলেন, হাটের নির্দিষ্ট জায়গায় নৌকা ও ট্রলার নোঙরের ব্যবস্থা, সড়ক সংস্কার, পণ্য ওঠানামার সুবিধা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা গেলে বেচাকেনা কয়েক গুণ বাড়তে পারে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, গজালিয়ার ভাসমান সবজি হাটটি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকের উৎপাদিত সবজি দ্রুত পাইকারদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। এতে কৃষক যেমন বাজার পাচ্ছেন, তেমনি ভোক্তার কাছে দ্রুত তাজা সবজি পৌঁছাচ্ছে।
উপপরিচালক জানান, চার ঘণ্টার এ হাটে বেচাকেনা হয় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সবজি। আর পুরো মৌসুমে এই হাটে কেনাবেচা হয় প্রায় চার কোটি টাকার।
হাটের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপপরিচালক বলেন, হাটটির অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে, এগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবজি চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বাজারজাত করার প্রক্রিয়া আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ