১১:১৭ পি.এম
পাকিস্তানের লাহোরের একটি থানার প্রাঙ্গণের ভেতরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি করা হয়েছে যে, এই ঘটনা ঘটে এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কর্তৃক। যে পরিস্থিতিতে এই মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে, তা প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গলবার গাজীয়াবাদ থানার ওসিসহ দায়িত্বশীল সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে একযোগে।
পুলিশের মতো একটি দায়িত্বশীল সংস্থার কার্যালয়ে এমন পাশবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই লাহোরসহ পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। লাহোর পুলিশের ডিআইজি (অপারেশনস) ফয়সাল কামরান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গাজীয়াবাদ থানার ভবনের দ্বিতীয় তলায় অভিযুক্ত সহকারী উপপরিদর্শক ওই তরুণীকে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালান। পরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নির্যাতিতা তরুণী ঘটনাস্থল ও নির্দিষ্ট কক্ষটি চিহ্নিত করে দেন।
ডিআইজি স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোনো নারী পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি ছাড়া কীভাবে একজন সদস্য একা একজন তরুণীকে থানায় নিয়ে এলেন এবং তা কারও নজরে এলো না, সেই গাফিলতির দায় পুরো থানার। পুলিশি নিয়ম অনুযায়ী থানার প্রাঙ্গণে যেকোনো ধরনের অন্যায় বা অনিয়ম ঠেকানোর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও সদস্যদের জবাবদিহিতার আওতায় আসতেই পুরো থানার কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার একটি কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাতারের সতর্কতা: ইরানের হামলার শঙ্কায় বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট বিপর্যয়ের আশঙ্কা
একটি দায়িত্বশীল সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, এই নজিরবিহীন শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আওতায় গাজীয়াবাদ থানায় কর্মরত প্রায় ৭০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাকে একযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত সোমবার ভুক্তভোগীর বাবা গাজীয়াবাদ থানায় পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা (ধর্ষণের শাস্তি) এবং ২০০২ সালের পুলিশ অর্ডারের ১৫৫-সি ধারায় (পুলিশ কর্মকর্তার গুরুতর অপরাধমূলক আচরণ) একটি প্রাথমিক তথ্যবিবরণী বা এফআইআর দায়ের করেন।
এফআইআর-এ উল্লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর এবং তিনি মানসিকভাবে খানিকটা ভারসাম্যহীন। গত রবিবার বিকেলের দিকে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় এক প্রত্যক্ষদর্শী তরুণীর বাবাকে বলেন যে, সাদা পোশাকের এক পুলিশ সদস্য তার মেয়েকে নিজেদের মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গেছেন।
সংবাদ পেয়ে স্বজনরা রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গাজীয়াবাদ থানায় উপস্থিত হন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীর চাচা ফোনে জানান যে, তরুণীটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে এসেছে। তারপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাড়ি ফিরে কান্নার কারণ জানতে চাইলে ওই তরুণী আকুল হয়ে জানান যে, এক পুলিশ সদস্য তাকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে থানায় নিয়ে যান এবং সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান।
আরও পড়ুন: মার্কিন দূত উইটকফের পুতিনের সঙ্গে বৈঠক বুধবার
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর অভিযুক্ত ওই এএসআই-এর বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সূত্র: ডন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন