প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাঙামাটি শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে নতুন কবর দেওয়ার জায়গা দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও কবর খনন স্বেচ্ছাসেবকদের। সংক্ষিপ্তভাবে তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় দাফন কার্যক্রম ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তারা দ্রুত কবরস্থান সম্প্রসারণের পাশাপাশি পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের প্রস্তাবও দিয়েছেন।
রিজার্ভ বাজার, পুলিশ লাইন, মাঝেরবস্তি ও তবলছড়ি এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা এই কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাদের স্বজনদের দাফন করেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। কিন্তু বর্তমানে নতুন কবরের জন্য খালি জায়গা খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিনই কবর খননে নানা বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানান স্বেচ্ছাসেবকেরা।
তবলছড়ির কবর খনন স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, নতুন কবর খননের সময় অনেক ক্ষেত্রেই পুরোনো কবরের পাশের অল্প জায়গা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে কখনো কখনো কবরের স্থান নিয়ে স্বজনদের মধ্যেও মতপার্থক্য তৈরি হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
একজন কবর খনন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, “আগের তুলনায় এখন খালি জায়গা অনেক কম। তাই কবর খননের সময় বিভিন্ন ধরনের বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, কবরস্থানটি পৌরসভার আওতাধীন হলেও এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভবিষ্যৎ দাফনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এখনই সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
স্বেচ্ছাসেবকদের দাবি, পাকা ইট, সিমেন্ট ও টাইলস দিয়ে নির্মিত কবরের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নতুন কবর দেওয়ার জন্য ব্যবহারযোগ্য খালি জায়গা দ্রুত কমে যাচ্ছে। ফলে বিদ্যমান জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে নতুন জায়গা তৈরির উদ্যোগ এখন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
বর্ষা মৌসুম নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্য অনুসারে, কবর খননের পর অবশিষ্ট মাটির একটি অংশ বৃষ্টির পানির সঙ্গে ধুয়ে কাপ্তাই হ্রদের দিকে চলে যায়। এতে কবরস্থানের ভূমির উচ্চতা ও ব্যবহারযোগ্য জায়গা ধীরে ধীরে প্রভাবিত হচ্ছে বলেই তারা মনে করেন।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায়, তবলছড়ির কবর খনন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা কবরস্থানের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের মতে, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করালে মাটি ধুয়ে যাওয়া কমবে। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি ভরাট করে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত জায়গা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অতীতেও কবরস্থান সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দক্ষিণ পাশে জেলখানার সীমানা থেকে পূর্বদিকে মাটি ভরাটের একটি পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী ওই এলাকায় বাঁধ নির্মাণ ও মাটি ভরাটের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে, আগাম বর্ষণের কারণে সে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, বিষয়টি কেবল একটি কবরস্থানের জায়গা সংকট নয়; এটি ভবিষ্যৎ নাগরিক সেবার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই রাঙামাটি পৌরসভা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে কবরস্থানের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।
তাদের দাবি, যদি পরিকল্পিত সম্প্রসারণ, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, মাটি ভরাট এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ এখনই নেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে দাফনের জায়গা নিয়ে তৈরি হতে যাওয়া সংকট অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন