বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৮:৪৫ পি.এম
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ভাঙচুর করা ভাস্কর্য পরিদর্শন করে নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তাঁরা একই সঙ্গে ভাস্কর্যটি পূর্বের স্থানে পুনর্নির্মাণ এবং ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ঢাকার একটি ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল ঝিনাইদহ শহরের বাস টার্মিনালসংলগ্ন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরে পৌঁছায়। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত একটি সমাবেশ করেন, এরপর ভাঙচুর করা ভাস্কর্যে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
পরে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তাঁরা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ এবং ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এর আগে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তৃতা করেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক আবু সাইদ খান। এছাড়া মানবাধিকার কমিশনের সাবেক কমিশনার ও গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান লিটন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ফারাহ তানজীম তিতিল বক্তব্য দেন।
বক্তারা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান তাঁরা। প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুলাই থেকে ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন অসমাপ্ত চত্বর ও ভাস্কর্য অপসারণের কাজ শুরু হয়।
এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ জুলাই থেকে অপসারণের কাজ স্থগিত করে জেলা প্রশাসন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সেনাবাহিনী মোসাদের ২১ গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করেছে। এর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা ইরানের সামরিক বাহিনী সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে মোসাদের কাছে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা মোসাদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই পটভূমিতে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কেরমান প্রদেশ থেকে তাদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়।
একটি বিবৃতিতে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই 'ভাড়াটে এজেন্ট'রা ইরানের সেনাবাহিনী সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে মোসাদের কাছে পাঠাতেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে, দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে, এই মন্তব্য় করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদ ও সাজাপ্রাপ্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সম্প্রতি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করার ঘটনার পরপরই গত বুধবার রাতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করলেন শামা ওবায়েদ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ জনগণ এবং দুই দেশের সরকারই চান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটুক। কিন্তু, ভারতে বসে আওয়ামী লীগের এমন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং সম্পর্কে কতটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার জায়গা থেকেই যায়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে ‘জঙ্গি তত্ত্ব’ ব্যবহারের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। অথচ বাংলাদেশে এখন জনগণের নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল রয়েছে এবং কোনো ধরনের জঙ্গিবাদ নেই।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে হওয়া পরিবর্তনের পর, ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত হানে–এমন যে কোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ভারতকে আরও অনেক বেশি সংবেদনশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন কি না–সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর নিজের সময়সূচি, ব্যস্ততা ও সিদ্ধান্তের বিষয়।
আওয়ামী লীগ ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার অন্যান্য বহুমুখী সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না, জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমুখী স্বার্থ ও সম্পর্কের ক্ষেত্র বিদ্যমান। তবে বিদ্যমান সমস্যা ও অমীমাংসিত বিষয়গুলো কূটনীতি ও আলোচনার পথেই সমাধান করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশে ইয়েমেনি সামরিক শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির হুতি (আনসারুল্লাহ) বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ৪৫ জন সেনা নিহত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পরিচালিত এসব হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনের ইমার্জেন্সি ফোর্সেস পরিচালিত সামরিক শিবির। হুতিদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইয়েমেনের চলমান যুদ্ধে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি।
গোষ্ঠীটির এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে জানান, তারা শিগগিরই একটি ‘বৃহৎ ও বিশেষ ধরনের সামরিক অভিযান’ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করবে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করেননি।
এর আগে বৃহস্পতিবার, আল-মাসদার সংবাদমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়, মারিব প্রদেশে ইয়েমেনের ইমার্জেন্সি ফোর্সেসের আল-থানিয়াহ সামরিক শিবিরে হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই হামলায় সেনাদের ব্যারাকের পাশাপাশি শিবিরের ভেতরে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদামকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এদিকে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, হুতিদের এই হামলা তাদের বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে চালানো হয়েছে। হামলায় হতাহতের বিষয়ে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহন গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। থলঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশ থেকে শুরু হয়ে কুড়ালিয়া ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি প্রায় ৩০০ পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের পথ, তবে বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাদায় পরিণত হয়। এর ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং রোগী বহনকারী যানবাহনের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী হাসপাতালে নেওয়াও অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এ সড়ক দিয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদরাসার শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করে। কাদা এবং ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন। এছাড়া, এলাকার বহু নিম্নআয়ের মানুষ জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন রিকশা নিয়ে মধুপুর শহরে যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে তাদের আয়-রোজগারও ব্যাহত হচ্ছে। কৃষিপণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনেও দেখা দিয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে অতি দ্রুত সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে, যাতে এলাকার হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ