০৪:৩১ পি.এম
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গ্রিসকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং অস্থিতিশীল বিশ্বে ‘স্থিতিশীলতার উৎস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিস যৌথভাবে কাজ করবে।
এথেন্সে বুধবার গ্রিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ গেরাপেট্রিটিসের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ওই দিন প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়গুলো সামনে রেখে দুই দেশের ষষ্ঠ কৌশলগত সংলাপ শুরু হয়।
রুবিও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাত এবং বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিসের জোটের গুরুত্ব আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ ইতিহাস ও অভিন্ন ঐতিহ্য রয়েছে, পাশাপাশি নিজেদের জন্য বিদ্যমান হুমকি এবং সেগুলো মোকাবেলার উপায় নিয়েও একটি অভিন্ন বোঝাপড়া বিদ্যমান।
আরও পড়ুন: মার্কিন দূত ইরানে যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যর্থতা' স্বীকার করেছেন
গ্রিসের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বৃদ্ধির প্রশংসা করে তিনি জানান, চলতি বছর দেশটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে রয়েছে। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি মূল প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে।
রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিসের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী তথ্য বিনিময়ের নতুন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই কার্যক্রমকে জোরদার করতে যৌথ নিরাপত্তা কর্মসূচি চালুর জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের ঘোষণা দেন তিনি।
সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা এবং আন্তর্দেশীয় অপরাধী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গ্রিসকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ভূমধ্যসাগরে অভিবাসন ও মানবপাচারের বিভিন্ন রুটের সংযোগস্থলে গ্রিসের অবস্থানকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেন রুবিও।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্বালানি সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। কোনো একটি অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে যেন পুরো বিশ্ব হুমকির মুখে না পড়ে, সে জন্য সরবরাহের বিকল্প পথ থাকা জরুরি।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প ও পাকিস্তান: সম্পর্কের উন্নতি নাকি কূটনৈতিক সৌজন্য?
যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি এবং নতুন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন জ্বালানি করিডর সম্প্রসারণে ওয়াশিংটন কাজ করছে বলেও জানান রুবিও। এ প্রচেষ্টায় গ্রিসকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাচীন নিদর্শন পাচার ঠেকাতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় দুই দেশের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন রুবিও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন