ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাজার বিধ্বংসী যুদ্ধে জনজীবন ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত


গাজার বিধ্বংসী যুদ্ধে জনজীবন ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত

ইসরায়েলের তিন বছরের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের ফলে গাজা উপত্যকার জনজীবন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। লাখো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পানি, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক সেবাগুলো এখন অনেক মানুষের কাছে দুর্লভ হয়ে পড়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি হামলায় ৭৪ হাজার ২৪৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) যুদ্ধের তিন বছর পূর্ণ হলো। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ১ হাজার ৪৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফলে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু ধ্বংসস্তূপে নয়, মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাপনেও গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে গাজার ৯৪ শতাংশ মানুষ জরুরি আশ্রয় ও মৌলিক গৃহস্থালি সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করছিলেন। প্রায় ৬৫ শতাংশ পরিবার তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছিল। পর্যাপ্ত বিছানা, আলো, রান্নার সরঞ্জাম এবং স্যানিটেশন সুবিধার ঘাটতি রয়েছে বহু পরিবারের।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র

পানির সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আগস্টের শুরুতে মূল্যায়ন করা পরিবারগুলোর ৯১ শতাংশ মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার পানির নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিল। গাজায় কার্যকর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতাল এবং অন্যান্য জরুরি সেবা চালাতে জেনারেটর, জ্বালানি ও খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মানুষের চলাচল এবং ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও কঠিন করে তুলেছে।

যুদ্ধের ফলে গাজার অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজার ৯২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বেকারত্ব বেড়ে ৭৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে গাজার মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন ছিল মাত্র ২১২ ডলার, যা ২০২২ সালের প্রায় ১৭ শতাংশ। কৃষি ও শিল্প উৎপাদনও যুদ্ধের আগের তুলনায় ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

কর্মসংস্থান ও আয় কমে যাওয়ার ফলে বহু পরিবার এখন মানবিক সহায়তা, ঋণ এবং ছোটখাটো অনানুষ্ঠানিক কাজের ওপর নির্ভরশীল। পণ্যের সরবরাহে বিধিনিষেধ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও যুদ্ধের আগের তুলনায় ব্যাপক বেড়ে গেছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে সংকট দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় সাত লাখ শিশু প্রায় টানা তিন বছর সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেক শিশু এখন তাঁবু বা অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্রে পড়ছে, আবার প্রায় দুই লাখ শিশু কোনো শিক্ষার সুযোগই পাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকেই আসতে পারে জ্বালানি তেলের পরবর্তী বড় ধাক্কা

গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসের মুখে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকার ৩৬টি হাসপাতালই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি কোনোভাবে কার্যক্রম চালালেও একটিও পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরীক্ষার উপকরণ এবং জ্বালানির ঘাটতির কারণে ক্যানসার, কিডনি রোগসহ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার সুযোগও সীমিত। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রায় ১২ হাজার ৪০০ রোগীকে চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আরও বহু মানুষ এমন বিশেষায়িত চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন, যা গাজার ভেতরে পাওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অস্বাস্থ্যকর আশ্রয়, পানি এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার সংকটে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।

যুদ্ধ গাজার ভৌগোলিক চিত্রও বদলে দিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে উপত্যকার বড় অংশে মানুষের প্রবেশ সীমিত হয়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের এক হিসাবে, গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবেশ-নিষেধের আওতায় ছিল বলে ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে। ফলে ২০ লাখের বেশি মানুষ উপত্যকার তুলনামূলক ছোট একটি এলাকায় ঘন হয়ে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

রাফাহ এ পরিবর্তনের অন্যতম বড় উদাহরণ। যুদ্ধের সময় দক্ষিণ গাজার এই শহরে বিভিন্ন এলাকা থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ৮ লাখের বেশি মানুষ রাফাহ থেকে আবারও বাস্তুচ্যুত হন। বর্তমানে শহরটির বড় অংশ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে থাকায় বহু ফিলিস্তিনি নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।

আরও পড়ুন: রাজপরিবারের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে চান প্রিন্স হ্যারি

যুদ্ধ গাজার বেসামরিক প্রশাসন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও দুর্বল করেছে। ২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসন করা হামাসের প্রশাসনিক কাঠামো যুদ্ধের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ এবং নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতাও কমেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পুলিশকে লক্ষ্য করে অন্তত ১২টি হামলায় ৫৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৫ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন।

তিন বছরের যুদ্ধ গাজার মানুষের জীবনকে শুধু ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেনি, বরং বেঁচে থাকার পুরো কাঠামোকে বদলে দিয়েছে। ঘর, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, নিরাপদ পানি এবং চলাচলের সুযোগ হারিয়ে লাখো মানুষ এখন প্রতিদিনের জীবন চালাচ্ছেন অনিশ্চয়তা এবং সংকটের মধ্যে। যুদ্ধের অবসান হলেও গাজার স্বাভাবিক জীবন এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় এবং বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হবে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারের নেতা মিন অং হ্লাইং দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


মিয়ানমারের নেতা মিন অং হ্লাইং দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন

ঢাকা, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ : কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের অভ্যুত্থান নেতা থেকে প্রেসিডেন্টে পরিণত হওয়া মিন অং হ্লাইং বুধবার মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন।

এটি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর তার প্রথম সফর হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, স্থানীয় সময় অনুযায়ী গ্রিনিচ মান সময় বুধবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে মিন অং হ্লাইংকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নেমে একটি অপেক্ষমাণ গাড়িতে উঠছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তৃণমূলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছাতে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান আনসার মহাপরিচালকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


তৃণমূলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছাতে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান আনসার মহাপরিচালকের

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তৃণমূল পর্যায়ে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

তিনি এসব কথা আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সদ্য যোগদানকৃত সিনিয়র অফিসারদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের বিশেষ ক্লাসে বলেন। এই ক্লাসটি বুধবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের অপস্ কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। ৯০ মিনিটের এই সেশনে ব্যাংকের ২৫ জন নবনিযুক্ত সিনিয়র অফিসার অংশগ্রহণ করেন।

বিশেষ ক্লাসে মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা, ব্যাংকিং সেবার মান উন্নয়ন এবং তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা যায়।

এ সময় গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে সময়মতো ঋণ বিতরণ, দক্ষতার সঙ্গে ঋণ আদায় এবং তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাংকিং সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে ব্যাংকিং সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন।

বিশেষ ক্লাসের শেষ পর্যায়ে প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকের সেবার মানোন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য।

দক্ষ, সৎ ও জনবান্ধব ব্যাংকার তৈরির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে আধুনিক ব্যাংকিং সেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন আয়োজন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেলেন অঁরি কাগান ও কেনসো সোয়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেলেন অঁরি কাগান ও কেনসো সোয়াই

২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার রসায়নশাস্ত্রে যৌথভাবে অর্জন করেছেন ফরাসি রসায়নবিদ অঁরি বি. কাগান (Henri B. Kagan) এবং জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই (Kenso Soai)। তাঁদের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি 'নন-লিনিয়ার ইফেক্টস' (Non-linear effects) এবং 'অটো ক্যাটালিসিস' (Autocatalysis) আবিষ্কার ও এর প্রয়োগ সংক্রান্ত গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য প্রদান করা হয়েছে।

সুইডেনের স্টকহোমে বুধবার (৭ অক্টোবর) রয়্যাল সুয়েডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞানের এই সম্মানজনক পুরষ্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

এই বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অনুঘটকের প্রভাব এবং জটিল জৈব অণু তৈরির ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে, ওষুধ শিল্পে নির্দিষ্ট গঠনযুক্ত রাসায়নিক যৌগ তৈরির পাশাপাশি জীবনের উৎপত্তিতে অণুর ভূমিকা বোঝার ক্ষেত্রে এই গবেষণা একটি পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে।

বিজ্ঞানী অঁরি কাগান অসমেত অনুঘটনে (asymmetric catalysis) নন-লিনিয়ার ইফেক্ট বা অ-রৈখিক প্রভাবের ধারণা প্রবর্তন করেন, যা রাসায়নিক প্রসেসিংকে আরও কার্যকর করে তোলে। অপরদিকে, কেনসো সোয়াই বিখ্যাত 'সোয়াই অটো ক্যাটালিসিস' বিক্রিয়া তৈরি করেন, যা দেখায় কিভাবে একটি সামান্য পরিমাণ অনুঘটক বিক্রিয়ার মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম।

এই উৎসবমুখর বিজয়ে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান মহলে আনন্দের হাওয়া বইছে। রয়্যাল সুয়েডিশ একাডেমি জানিয়েছে, তাঁদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞান ও শিল্প ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চলছে তালিকা যাচাই-বাছাই, অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ যাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


চলছে তালিকা যাচাই-বাছাই, অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম বাদ যাবে

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়ার জন্য চুলচেরা যাচাই-বাছাই চলছে।

আজ বুধবার, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত তালিকা প্রণয়নের কৌশল ও করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত মতবিনিময়সভার পর মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তিনি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাইয়ে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নির্মোহভাবে কাজ করা হবে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার এবং অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন মহলে ৮৫ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে তিনি তাদের ‘অমুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করতে চান।

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত যোদ্ধাদের সঙ্গে তালিকায় অনেক অমুক্তিযোদ্ধা যুক্ত হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তিনি বলেন, "আমরা চাই স্বাধীনতার ইতিহাস সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হোক। আগামী দিনে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মানুষ যেন স্বাধীনতার ইতিহাস সঠিকভাবে জানতে পারে।" এই নির্মোহ জায়গা থেকেই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবেদন নেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, নতুন করে আবেদন নেওয়া হচ্ছে না। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর কেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবেদন নেওয়া হবে, সেটি প্রশ্ন।

মন্ত্রী জানান, ৭ অক্টোবরের পর নতুন করে আবেদন নেওয়া হবে না বলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%