১০:০৯ পি.এম
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তার মা-বাবা। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক সেবনের দায়ে ওই যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করেছেন।
বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদের ছেলে আনারুল ইসলামকে (২৬) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন তাঁর পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত আনারুলকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তারা অনেক চেষ্টা করেছেন। মাদক সেবন থেকে বিরত রাখতে গেলে তিনি পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট করেন। তাঁরা জানান, বাধা দিলে আনারুল হুমকি ও নির্যাতন চালাতেন।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে নানা আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
তাদের অভিযোগ, ঈদের দিন থেকে আনারুলের আচরণ আরও মারাত্মক হয়ে ওঠে। বুধবার বিকেলে আবারও বাইরে মাদক সেবন করে বাড়িতে ফিরে তিনি তার মা ও ভাইকে মারধর করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করতে শুরু করলে, নিরুপায় হয়ে তার বাবা-মা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন।
খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পরিবারের সদস্যরা আনারুলকে পুলিশে দেবেন। পরিবার জানিয়েছে, এর আগে দুই দফা আনারুলকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে চিকিৎসা শেষে ফিরে এসে তিনি পুনরায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।
পরে উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসাইন-এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত তার কক্ষ তল্লাশি করে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আনারুল নিয়মিত মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেন।
এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য রেলি জেলা জাসাস,
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, সন্তানকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া বাবা-মায়ের জন্য কোনো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। তারা বহু চেষ্টা করেও ছেলেকে মাদকের ছোবল থেকে ফিরিয়ে আনতে না পেরে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। তারা বলছেন, একসময় আনারুল একটি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি এসএসসি পাস করেছিলেন, কিন্তু মাদকাসক্তির কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজলভ্য হওয়ায় তরুণ সমাজ ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আনারুল ইসলামের কক্ষ তল্লাশি করে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি নিয়মিত মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন