মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৭ পি.এম
সরকারি বাধা, সংসদ সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং দমন-পীড়নের তীব্র অভিযোগ সত্ত্বেও আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে নির্ধারিত প্রতিবাদ পদযাত্রা (মার্চ) কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তানের বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির শীর্ষ নেতারা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, তাদের আন্দোলন দমন করতে কোনো ভয়ভীতি দেখানো সম্ভব হবে না।
সোমবার পেশোয়ারে খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) মুখ্যমন্ত্রী হাউস থেকে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দলের অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান ব্যরিস্টার গোহর আলী খান ও কেপির মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি।
সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেন, "পিটিআই তার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সাংবিধানিক অধিকার পূর্ণ শক্তিতে প্রয়োগ করবে। সরকারের ভয়ভীতি দেখানোর কৌশল আমাদের মনোবল ভাঙতে পারবে না।" তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোনদের গ্রেপ্তার, প্রাদেশিক কেবিনেট মন্ত্রী শকিল খানের গাড়িতে গুলি বর্ষণ এবং শ্রমমন্ত্রী ফজল শাকুর খানকে সাদা পোশাকধারীদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র। তিনি হুশিয়ারি দেন যে, এসব দমন-পীড়ন পিটিআই-এর আন্দোলনকে আরও জোরদার করবে।
পিটিআই-এর অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান ব্যরিস্টার গোহর আলী খান সরকারের এই বৈরী আচরণের তীব্র সমালোচনা করে জানান, সম্প্রতি দলের অন্তত ১,৫০০ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবন এবং পার্লামেন্ট লজেস এলাকা থেকে ৫ জন সংসদ সদস্য (এমএনএ), একজন সাবেক সিনেটর এবং প্রাদেশিক আইনপ্রণেতাদের (এমপিএ) অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "বিগত চার বছরে আমরা বিচার পাওয়ার আশায় ২৫ বার হাইকোর্ট এবং ১৯ বার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি, কিন্তু আদালতের কোনো আদেশই সরকার তোয়াক্কা করেনি। ইমরান খানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পর্যন্ত অমান্য করা হয়েছে।"
একই দিনে পাকিস্তানের অন্যান্য বিরোধী দল ও জোট 'তেহরিক-ই-তাহাফুজ আইনে পাকিস্তান' (টিটিএপি) পার্লামেন্ট ভবন এলাকা থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা অবিলম্বে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া এবং সাধারণ জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে রাজধানীর সড়ক থেকে কনটেইনারের ব্যারিকেড সরানোর দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিক, সম্ভাব্য এই মার্চকে ঘিরে ইসলামাবাদ জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্তমান সরকার। অ্যান্টি-টেররিজম কোর্ট (এটিসি) ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারকৃত একাধিক পিটিআই কর্মীকে রিমান্ড ও পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তবে পিটিআই নেতৃত্ব জানিয়েছে, আন্দোলন সংক্রান্ত বাকি চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা ২৫ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হবে। সূত্র: ডন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তৌসিফ মাহবুব ও শার্লিন ফারজানা অভিনয়ের মাধ্যমে ছোট পর্দায় নিজেদের জন্য একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেছেন। তাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একসঙ্গে পর্দায় দেখা যায়নি কখনো। তবে এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। জনপ্রিয় এই দুই অভিনয়শিল্পী প্রথমবারের মতো ওয়েব ফিল্মে জুটি বাঁধছেন। নতুন এই ওয়েব ফিল্মটির নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং এটি নির্মাণ করবেন ভিকি জাহেদ।
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, ভিকি জাহেদের পরিচিত নির্মাণ শৈলীতে সাসপেন্স-থ্রিলার গল্পে তৈরি হবে এই ওয়েব ফিল্মটি। ফলে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যে প্রথমবারের মতো তৌসিফ ও শার্লিনের জুটি কেমন রসায়ন নিয়ে হাজির হবে।
বর্তমানে ভিকি জাহেদ নিজের সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। কাজটি শেষ করার পর তিনি নতুন ওয়েব ফিল্মটির শুটিং শুরু করবেন। এরপর একই অভিনেতাকে নিয়ে ‘চক্র ৩’-এর কাজ শুরু করবেন। সিনেমাটি আগামী ডিসেম্বরে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে নতুন বছরের শুরুতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে মুক্তি পেতে পারে তৌসিফ ও শার্লিন অভিনীত নাম চূড়ান্ত না হওয়া ওয়েব ফিল্মটি।
এদিকে, তৌসিফ মাহবুব বর্তমানে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫-এর শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে নতুন একটি নাটকের কাজ শেষ করেছেন। নাটকটি রাখির পরিচালনায় এবং এতে তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন কেয়া পায়েল। এছাড়া, সম্প্রতি তারা নতুন একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংও সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, অভিনয়ে বিরতি কাটিয়ে ফিরেই ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন শার্লিন ফারজানা। তিনি জিয়াউল ফারুক অপূর্বর সঙ্গে ‘নীলপরী’ নাটকে ফিরছেন। এর পাশাপাশি, গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘সেপারেশন’ সিনেমাতেও যুক্ত হয়েছেন এই অভিনেত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ বিমান বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করবে কিনা, তা নিয়ে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-চারলেট বলেছেন, ফ্রান্স মোটেও চিন্তিত নয়। তিনি বাংলাদেশে উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে সকলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন।
মঙ্গলবার, জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) কর্তৃক আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আরো পড়ুন
সোনারগাঁয়ে কোরআন অবমাননার অভিযোগে যুবক আটক।
বাংলাদেশের এয়ারবাস কেনার বিষয়ে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জানান, কয়েক বছর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের বহর বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করে। এরপর এয়ারবাসের সঙ্গে কারিগরি জরিপ ও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এয়ারবাস কেনা বিমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বড় বড় এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে এয়ারবাস ও বোয়িং—দুই ধরনের উড়োজাহাজ রয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বহরে বৈচিত্র্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরো পড়ুন
অবশেষে গ্রেপ্তার ‘সন্দ্বীপের দানব’ মাহফুজুর রহমান।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ঢাকা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে—এমন উড়োজাহাজের মধ্যে এয়ারবাস এ৩৫০ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কারিগরি ও যৌক্তিক দিক থেকে বিমান এয়ারবাসকে বেছে নিয়েছে। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই।
তিনি বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের আলোচনা এখনও চলছে এবং তা ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে আলোচনার কারিগরি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চান না তিনি।
আরো পড়ুন
বিয়ের গুঞ্জনে মুখ খুললেন ‘টুয়েলভথ ফেল’ অভিনেত্রী।
বয়িংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান যথাযথ সময়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই করবে কিনা, তা নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই। আমি এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ওপর জোর দিচ্ছি এবং বর্তমান কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা এই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি ভালো পরীক্ষা এবং ফ্রান্স আত্মবিশ্বাসী যে সরকার বিষয়টি বুঝবে। এ নিয়ে তাদের কোনো উদ্বেগ নেই।’
এয়ারবাসের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য চুক্তিকে শুধু উড়োজাহাজ কেনার বিষয় হিসেবে দেখছে না ফ্রান্স—এমন মন্তব্য করে জিন-মার্ক সেরে-চারলেট বলেন, এর মাধ্যমে ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারি আরও শক্তিশালী হতে পারে।
আরো পড়ুন
বামার লাইসেন্স বাতিলের প্রজ্ঞাপন স্থগিত।
বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারি রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির একটি বড় অংশ ইউরোপের বাজারে যায়। তাই এয়ারবাসের সঙ্গে অংশীদারিকে ফ্রান্স দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও উচ্চ-প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা করছে। এয়ারবাসের ক্ষেত্রেও তারা শুধু উড়োজাহাজ বিক্রি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারি গড়ে তুলতে চায়।
অনুষ্ঠানে ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস বক্তব্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হককে কেন্দ্র করে চলমান সাইবার অপরাধ তদন্তে নতুন একটি দিক উন্মোচিত হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) রিজওয়ানকে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি দিচ্ছে না।
ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে পিসিবি রিজওয়ান ও ইমামসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফিরিয়ে পাঠায়। এরপর পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য দুর্নীতি ও ‘অনলাইন জুয়া’ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত শুরু করে। এই ঘটনায় রিজওয়ান ও ইমামকে প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই সঙ্গে পিসিবির নিরাপত্তা দল তাদের মোবাইল ফোনও জব্দ করে।
জিও নিউজের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রিজওয়ান পিসিবির কাছে দুইবার প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন, তবে তার আবেদন দুবারই নাকচ করা হয়েছে।
রিজওয়ান পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চেয়েছিলেন। ৩৪ বছর বয়সি এই ব্যাটার অভিযোগগুলোর বিষয়ে জনসম্মুখে ব্যাখ্যা দিতে আগ্রহী ছিলেন। এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের কাছে একটি চিঠি দিয়ে তদন্তের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। ওই চিঠির কারণও তিনি প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী রিজওয়ান পিসিবির কাছে দুই দফা অনুমতি চেয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় চুক্তির ৪.১ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, চুক্তির আওতাধীন কোনো বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার আগে একজন ক্রিকেটারকে বোর্ডের অনুমতি নিতে হবে।
তবে পিসিবি রিজওয়ানের দুই আবেদনই প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রিজওয়ানের উদ্দেশ্য ছিল বোর্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা নয়, বরং নিজের বক্তব্য ও অবস্থান জনসম্মুখে তুলে ধরা।
এদিকে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রিজওয়ানের মোবাইল ফোন এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের অভিযোগের মধ্যে রিজওয়ান ও ইমামের ফোনে থাকা বিভিন্ন লেনদেনের তথ্য পিসিবির নিরাপত্তা দল খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
এনসিসিআইএকে দেওয়া জবাবেও রিজওয়ান তদন্ত ও অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। প্রতিবেদনে তার বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন একটি ঘটনায় এনসিসিআইএর তদন্তের কারণ তার কাছে স্পষ্ট নয়। তদন্তে অংশ নেওয়ার জন্য নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের ডেপুটি স্পিকার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে, ডেপুটি স্পিকার রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘকালীন বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি সম্প্রতি চীনের ইউনান প্রদেশে তার সফরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে সেখানে পাওয়া উষ্ণ আতিথেয়তা, আন্তরিকতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সহযোগিতার প্রশংসা করেন। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের বিদ্যমান সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, "বাংলাদেশ এবং চীন উভয় দেশের জনগণের উন্নয়নের জন্য আমরা একসাথে কাজ করতে চাই।" তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালীকরণ, দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, "শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের চীন সফরের সময়েই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ভবিষ্যতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি লাভ করে।" তিনি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, "তারেক রহমানের চীন সফর বাংলাদেশ-চীনের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরো প্রসারিত করবে।"
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ-চীন পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
উভয়পক্ষ সংসদীয় পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সফর, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় বৃদ্ধিসহ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও বৈঠকে মংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনকালে পাওয়া সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য ডেপুটি স্পিকার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎ শেষে, ডেপুটি স্পিকার রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের উপরাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ