ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লী নানা সংকটে, শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত


ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লী নানা সংকটে, শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বরদী বেনারসি শিল্প বর্তমানে বিভিন্ন সংকটের মুখোমুখি হয়ে টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে। দক্ষ কারিগরের অভাব, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, উৎপাদন খরচের বৃদ্ধি এবং বাজার সংকটের কারণে এই খাতের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক করে বলছেন, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস হিসেবে পরিচিত এই শিল্পটি শীঘ্রই হারিয়ে যেতে পারে।

এক সময় পুরো এলাকা ছিল তাঁতের খটখট শব্দে মুখর। কারিগরদের দক্ষ হাতে তৈরি বেনারসি ও কাতান শাড়ির কদর ছিল দেশজুড়ে। ভারতেও এই শাড়ির ব্যাপক চাহিদা ছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় সেই রূপ এখন ম্লান হয়ে গেছে। সরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়নের দুই দশক পার হলেও পাবনার ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লী এখনও পূর্ণতা পায়নি। বরাদ্দ পাওয়া অধিকাংশ প্লটে কারখানা গড়ে ওঠেনি, ফলে পড়ে থাকা জমি ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। তাঁত ও কারিগরের সংখ্যা কমে গেছে।

ঈশ্বরদী পৌর শহরের ফতেমোহাম্মদপুর এলাকায় গড়ে ওঠা এই বেনারসি পল্লী শত বছরের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ব্রিটিশ আমলে ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে আসা বেনারসি কারিগরদের মাধ্যমে এই অঞ্চলে অভিজাত শাড়ি তৈরির প্রসার ঘটে। যদিও শিল্পটি কালক্রমে বিস্তার লাভ করেছিল, তবে বর্তমানে নানা প্রতিকূলতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: চৌদ্দগ্রামে এক মোটরসাইকেল রাইডারকে পিটিয়ে হত্যা

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ২০০৪ সালে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে পাঁচ একর জমির ওপর বেনারসি পল্লী স্থাপন করে। এর লক্ষ্য ছিল ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাঁতিদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। কিস্তিতে প্লট দেওয়ার মাধ্যমে সেখানে কারখানা বানানোর সুযোগ পান ৯০ জন তাঁতি।

কিন্তু দুই দশকেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। বরাদ্দ পাওয়া ৯০টি প্লটের মধ্যে কারখানা গড়ে উঠেছে মাত্র সাতটিতে, যার মধ্যে বর্তমানে চালু আছে তিনটি। অনেক প্লটের নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোথাও দেয়াল উঠলেও ছাদ হয়নি, আবার কোথাও কারখানার কোনো চিহ্নই নেই। দীর্ঘদিনের অযত্নে পল্লীর বড় একটি অংশ এখন ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে।

তাঁতিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবকাঠামোগত জটিলতার পাশাপাশি বাজার সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক দফায় বেড়েছে সুতা, চুমকিসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম। একই সময়ে কম দামি ভারতীয় শাড়ির দাপটে দেশীয় বেনারসি ও কাতানের বাজার সংকুচিত হয়েছে।

উৎপাদন খরচ বাড়লেও শাড়ির দাম সেই অনুপাতে বাড়াতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, এক সময় ফতে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় শত শত বেনারসি কারখানা ছিল, যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন হাজারো মানুষ। বর্তমানে অনেক কারিগর পেশা বদল করেছেন। আর যারা এখনও এই পেশায় আছেন, তারা অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: মাদারীপুরে তাইজুল হত্যা: অর্ধশতাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

পল্লীর চালু থাকা কারখানাগুলোতে মান ও নকশা ভেদে হাতে তৈরি শাড়ি ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে শাড়ি তৈরিতে শ্রমিকের মজুরিই পড়ে যায় কয়েক হাজার টাকা। ফলে বাজারে কম দামি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁতিরা।

কাঁচামালের দাম বাড়লেও বাজারে শাড়ির দর না বাড়ায় লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় নতুন করে কারখানা করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন প্লটমালিকেরা। পাশাপাশি পল্লীটিতে সুতা প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে থেকে কাজটি করাতে হচ্ছে, যা খরচ ও সময় দুটোই বাড়াচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কেবল প্লট বরাদ্দ দিয়ে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক প্রযুক্তি, কাঁচামাল সহায়তা ও দক্ষ কারিগর ধরে রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের রুচি অনুযায়ী নকশায় বৈচিত্র্য এনে দেশীয় বেনারসি-কাতানের বাজার সম্প্রসারণ জরুরি।

ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান জিলানী বলেন, "এক সময়ের সমৃদ্ধ এই শিল্প নানা কারণে এখন সংকটে। সরকারি সহায়তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে পল্লীটি আবারও সচল করা সম্ভব।" জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, "কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কর্মী না থাকায় তাকে একাই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আটঘরিয়া উপজেলার তাঁতিদের ঋণসংক্রান্ত কাজ সামলাতে হচ্ছে।"

আরও পড়ুন: পূর্ণিমা রাতে ব্রহ্মপুত্রের তীরে লালনের সুরে মুখরিত ময়মনসিংহ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাতিয়ায় ওছখালী-তমরদ্দি সড়কের বেহাল দশা, চরম ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৪ পি.এম


হাতিয়ায় ওছখালী-তমরদ্দি সড়কের বেহাল দশা, চরম ভোগান্তি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা সদর থেকে ওছখালী হয়ে তমরদ্দি বাজার পর্যন্ত এবং কাটাখালী পর্যন্ত বিস্তৃত ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সংস্কারের অভাবে দীর্ঘ সময় ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুরো সড়ক জুড়ে অসংখ্য বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এই করুণ অবস্থায় হাতিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে সব ধরনের যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তমরদ্দি বাজার হাতিয়া উপজেলার সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। পাশাপাশি তমুরদ্দি লঞ্চঘাট অবস্থিত, যা দিয়ে প্রতিদিন শত শত যাত্রী সরাসরি রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করেন। এ ঘাটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক মালামাল ওঠানো ও নামানো (লোড-আনলোড) হয়। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পণ্য পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

অন্যদিকে, কাটাখালী এলাকা হাতিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফুয়েল স্টেশনের যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত কাটাখালী থেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি পরিবহন করে হরেন্দ্র কোর্টের পাওয়ার স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়, যা দিয়ে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয়। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সময়মতো ফুয়েল সরবরাহ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ১৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা না হলে হাতিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে যাবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।

এই অবস্থায় হাতিয়ার সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ী সমাজ অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবন স্বাভাবিক করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) হাতিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইমদাদুল হক বলেন, "ওছখালী থেকে তমরদ্দি সড়ক সংস্কার কাজের স্টিমেট আমরা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পাঠাবো। তবে আগামী এক মাসের মধ্যেই তমরদ্দি থেকে কাটাখালী সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করতে পারব বলে আশা রাখছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাটমোহরে ১৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারী নিজাম উদ্দিন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ পি.এম


চাটমোহরে ১৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারী নিজাম উদ্দিন আটক

চাটমোহর থানা পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক মাদক কারবারীকে আটক করেছে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

আটক হওয়া মাদক কারবারীর নাম নিজাম উদ্দিন, বয়স ৩৫ বছর, তিনি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার কুষ্টিয়াপাড়া গ্রামের জামির উদ্দিনের পুত্র। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চাটমোহর রেলবাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।

চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ অলিউর রহমান জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ চাটমোহর রেলবাজার এলাকা থেকে ইয়াবাসহ নিজাম উদ্দিনকে আটক করে। এ ঘটনায় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাঘায় পদ্মার পাড় ধসে দীর্ঘ হচ্ছে ভাঙনের চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ পি.এম


বাঘায় পদ্মার পাড় ধসে দীর্ঘ হচ্ছে ভাঙনের চিত্র

পদ্মার পাড় ধসে যাওয়ার ফলে ভাঙনের চিত্র দীর্ঘ হচ্ছে, যখন পানি কমছে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণে কালিদাসখালী এলাকায় ২০-২৫টি বাড়ি হুমকির সম্মুখীন রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর চরের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। হুমকির মধ্যে রয়েছে আলাল কাজী, মেহেদী জামালসহ ২০-২৫টি বাড়ি। চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ও হুমকির আওতায় রয়েছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর শহিদুল ইসলাম জানান, এক সপ্তাহ আগে পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে এবং ভাঙনও শুরু হয়েছে। এবারের ভাঙনে যেসব জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার অধিকাংশেই আম, মেহগনি গাছ ও বাড়িঘর ছিল। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১,২৬২ জন এবং পরিবার সংখ্যা চার শতাধিক। নদী ভাঙনের কারণে ইতিমধ্যে দেড় শতাধিক পরিবার বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে।

৩ নম্বর কালিদাসখালী চরের চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে অনেকের বাড়ি ও আম বাগান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। অনেকেই এখন হুমকির মধ্যে রয়েছেন। এবারের ভাঙনের ফলে মনে হচ্ছে কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর নামে কোনো চিহ্ন থাকবে না।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর ফজলুল হক মন্তব্য করেন, চকরাজাপুরের কোনো চিহ্ন নেই। ইতিমধ্যে অনেক কিছু বিলিন হয়ে গেছে। এ ওয়ার্ডের তিন ভাগের দুই ভাগ পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। যদি ভাঙন এভাবে চলতে থাকে, তাহলে খুব শীঘ্রই এ ওয়ার্ডও বিলিন হয়ে যাবে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আনোয়ার শিকদার জানান, তার প্রায় ৩০ বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে এবং এ ওয়ার্ডের কোনো চিহ্ন নেই। দুই বছরের মধ্যে ৩ শতাধিক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। কালিদাসখালী চরের আলী হোসেন ও আলী ফকির বলেন, বাড়ি করার জমিও ভাঙনে চলে গেছে এবং তারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে বসবাস করছেন। চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, প্রতি বছর ভাঙনের কবলে পড়ে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বর্তমান ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি ছাড়া সেচ যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন ভুলিয়া পাড়ার মোহাম্মদ ফোরকান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৬ পি.এম


জ্বালানি ছাড়া সেচ যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন ভুলিয়া পাড়ার মোহাম্মদ ফোরকান

মোহাম্মদ ফোরকান। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ১২ নং চিকনদন্ডী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের খন্দকিয়া ভুলিয়া পাড়ায় অবস্থিত। মরহুম আহামদুল হক ও সায়েরা খাতুনের চার ছেলের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় এবং একমাত্র মেয়ে রয়েছে। ১৯৯০ সালে এইচ সি পাশ করার পর কর্মতাগিদে তিনি মধ্যপ্রচ্যে চলে যান। দীর্ঘ ১৫ বছর সেখানে অবস্থান করার পর ২০০৬ সালের প্রথম দিকে জন্মভূমির টানে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি কৃষি কাজ শুরু করেন।

তাঁর বাড়ির পূর্ব পাশে পশ্চিম বাথুয়া লালা চন্দ্র বিলে কৃষি কাজের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার জন্য জমির পার্শ্ববর্তী খালের পাড়ে বৃক্ষ রোপণ করেন। এক সময় দুর্বৃত্তরা তাঁর খালের পাড়ে লাগানো গাছগুলো রাতের আঁধারে কেটে ফেলে। গাছ কেটার সংবাদটি তৎসময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছিল। তবে তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। পরে তিনি পুনরায় বৃক্ষ রোপণ করেন। রোপিত বৃক্ষের সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০১৫ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। ২০১৬ সালে বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় তিনি জাতীয় পুরস্কারে ৩য় স্থান অধিকার করেন।

চাষাবাদ করতে গিয়ে সেচ পাম্প ব্যবহার করার সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে, তাঁর সেচ যন্ত্রের জ্বালানি বাবদ বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে। তখন থেকেই তিনি চিন্তা করতে থাকেন, কিভাবে সেচের জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়। কারণ, সেচের জ্বালানি সাশ্রয় করা গেলে চাষাবাদে লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। সেই থেকে তিনি জ্বালানি ছাড়া সেচ যন্ত্র উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা শুরু করেন। গবেষণার এক পর্যায়ে পাম্প মেশিনকে আধুনিকায়ন করে একটি মাত্র ব্যাটারি দিয়ে পাম্প মেশিন চালু করে জ্বালানি ছাড়া জমিতে সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

এই আধুনিক সেচ যন্ত্র উদ্ভাবনের সফলতা আসে প্রায় ১২ বছর পর। তিনি জ্বালানি ছাড়া পরিবেশবান্ধব এই সেচ পাম্প চালিয়ে পশ্চিম বাথুয়া এলাকায় প্রায় চারশ কানি জমিতে চাষাবাদ করেন। জ্বালানি বিহীন সেচ পাম্প দিয়ে চাষাবাদ করে তিনি সীমাহীন লাভবান হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান। তাঁর উদ্ভাবিত জ্বালানি বিহীন পরিবেশবান্ধব এই সেচ পাম্প হাটহাজারী উপজেলার বিগত সময়ের কয়েকজন নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তাগণ পর্যবেক্ষণ করেছেন।

পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাগণ দেশের স্বার্থে তাঁর উদ্ভাবনী কাজ চালিয়ে যেতে তাঁকে অনুপ্রেরণা দেন। দেশে জ্বালানি সংকটে তাঁর উদ্ভাবিত এই সেচ পাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন পর্যবেক্ষক মহল। তিনি জানান, তাঁর এই উদ্ভাবন সফল করতে তিনি অনেক সহায়-সম্পদ হারিয়েছেন। জ্বালানি বিহীন এই সেচ পাম্প দিয়ে চাষাবাদ করে তিনি অনেক লাভবান হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি তাঁর উদ্ভাবিত সেচ পাম্পকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো আধুনিকায়ন করা যায়, তাহলে সেখান থেকে ৪০/৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে এবং বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। তবে এজন্য প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাঁর উদ্ভাবিত এই সেচ পাম্পের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট নিরসনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%