১১:০৬ পি.এম
মোহাম্মদ ফোরকান। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ১২ নং চিকনদন্ডী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের খন্দকিয়া ভুলিয়া পাড়ায় অবস্থিত। মরহুম আহামদুল হক ও সায়েরা খাতুনের চার ছেলের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় এবং একমাত্র মেয়ে রয়েছে। ১৯৯০ সালে এইচ সি পাশ করার পর কর্মতাগিদে তিনি মধ্যপ্রচ্যে চলে যান। দীর্ঘ ১৫ বছর সেখানে অবস্থান করার পর ২০০৬ সালের প্রথম দিকে জন্মভূমির টানে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি কৃষি কাজ শুরু করেন।
তাঁর বাড়ির পূর্ব পাশে পশ্চিম বাথুয়া লালা চন্দ্র বিলে কৃষি কাজের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার জন্য জমির পার্শ্ববর্তী খালের পাড়ে বৃক্ষ রোপণ করেন। এক সময় দুর্বৃত্তরা তাঁর খালের পাড়ে লাগানো গাছগুলো রাতের আঁধারে কেটে ফেলে। গাছ কেটার সংবাদটি তৎসময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছিল। তবে তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। পরে তিনি পুনরায় বৃক্ষ রোপণ করেন। রোপিত বৃক্ষের সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০১৫ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। ২০১৬ সালে বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় তিনি জাতীয় পুরস্কারে ৩য় স্থান অধিকার করেন।
চাষাবাদ করতে গিয়ে সেচ পাম্প ব্যবহার করার সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে, তাঁর সেচ যন্ত্রের জ্বালানি বাবদ বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে। তখন থেকেই তিনি চিন্তা করতে থাকেন, কিভাবে সেচের জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়। কারণ, সেচের জ্বালানি সাশ্রয় করা গেলে চাষাবাদে লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। সেই থেকে তিনি জ্বালানি ছাড়া সেচ যন্ত্র উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা শুরু করেন। গবেষণার এক পর্যায়ে পাম্প মেশিনকে আধুনিকায়ন করে একটি মাত্র ব্যাটারি দিয়ে পাম্প মেশিন চালু করে জ্বালানি ছাড়া জমিতে সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
আরও পড়ুন: ভৈরবের মেঘনা নদীতে ড্রেজারে বালু উত্তোলন নিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ
এই আধুনিক সেচ যন্ত্র উদ্ভাবনের সফলতা আসে প্রায় ১২ বছর পর। তিনি জ্বালানি ছাড়া পরিবেশবান্ধব এই সেচ পাম্প চালিয়ে পশ্চিম বাথুয়া এলাকায় প্রায় চারশ কানি জমিতে চাষাবাদ করেন। জ্বালানি বিহীন সেচ পাম্প দিয়ে চাষাবাদ করে তিনি সীমাহীন লাভবান হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান। তাঁর উদ্ভাবিত জ্বালানি বিহীন পরিবেশবান্ধব এই সেচ পাম্প হাটহাজারী উপজেলার বিগত সময়ের কয়েকজন নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তাগণ পর্যবেক্ষণ করেছেন।
পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাগণ দেশের স্বার্থে তাঁর উদ্ভাবনী কাজ চালিয়ে যেতে তাঁকে অনুপ্রেরণা দেন। দেশে জ্বালানি সংকটে তাঁর উদ্ভাবিত এই সেচ পাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন পর্যবেক্ষক মহল। তিনি জানান, তাঁর এই উদ্ভাবন সফল করতে তিনি অনেক সহায়-সম্পদ হারিয়েছেন। জ্বালানি বিহীন এই সেচ পাম্প দিয়ে চাষাবাদ করে তিনি অনেক লাভবান হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি তাঁর উদ্ভাবিত সেচ পাম্পকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো আধুনিকায়ন করা যায়, তাহলে সেখান থেকে ৪০/৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে এবং বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। তবে এজন্য প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাঁর উদ্ভাবিত এই সেচ পাম্পের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট নিরসনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন